‘পবিত্র পরিবার’ বইখানিতে মার্কস ও এঙ্গেলস শ্রমিকশ্রেণীর ইতিহাসনির্দিষ্ট বিপ্লবব্রত বিবৃত করেছেন। দেখিয়েছেন যে আদিম সাম্যবাদী সমাজের ইতিহাস বাদ দিলে মানুষের সমগ্র ইতিহাসের কেন্দ্রে রয়েছে শোষকদের বিরুদ্ধে শ্রমজীবী মানুষের সংগ্রাম। ঘোষণা করেছেন যে, সর্বহারারাই ধনতন্ত্রের কবর খোঁড়ে। সর্বহারাদের বৈপ্লবিক ভূমিকার প্রায় পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ তুলে ধরেছেন।
ব্যক্তিগত সম্পত্তি নিজের অস্তিত্ব বজায় রাখতে গিয়ে তার সম্পূর্ণ বিরোধী শক্তি শ্রমিকশ্রেণীর অস্তিত্বও রক্ষা করে চলতে বাধ্য হয়। ইতিহাসের অলঙ্ঘ্য নির্দেশে শ্রমিকশ্রেণীও নিজের অসহনীয় অস্তিত্ব ধ্বংসের সঙ্গে সঙ্গে তার বিরোধী শক্তি ব্যক্তিগত সম্পত্তিকে ধ্বংস করতে বাধ্য। কারণ সেই শক্তিই সর্বহারাকে সর্বহারা করে রেখেছে। এই যে পারস্পরিক বিরোধের সম্পর্ক, এর ভেতর সম্পত্তির মালিক হচ্ছে সংরক্ষণশীল এবং সর্বহারা শ্রেণী হচ্ছে ধ্বংসপন্থী। মালিকশ্রেণী বিরোধের সম্পর্ক অটুট রাখতে খুবই সক্রিয়, কারণ বিরোধ রক্ষা মানেই সম্পদ রক্ষা। অন্য পক্ষ অর্থাৎ শ্রমিকশ্রেণী বিরোধের সম্পর্কটাকে ধ্বংস করতে চায়, কারণ বিরোধকে চুরমার করতে পারলে তাদের যুগযুগান্তের শিকলও গুঁড়িয়ে যাবে। ধনিকশ্রেণী সৃষ্টি করে সর্বহারাকে, সৃষ্টি করে সর্বহারার নিজের দেহ-মনের যন্ত্রণা সম্বন্ধে চেতনাকে, অমানুষদের অমনুষ্যত্ব সম্বন্ধে বোধকে এবং সেই অমানুষিক অবস্থাকে শেষ করে দেয়ার সংকল্পকে।
ইতিহাসের বৈপ্লবিক রূপান্তরের কাজে সর্বহারার ভূমিকাকে সবার উপরে স্থান দিয়ে মার্কস তাদের দেবতা করে তুলছেন— এই অভিযোগ সম্পর্কে তার উত্তর এই: পরিপূর্ণভাবে বিকশিত সর্বহারা শ্রমিকশ্রেণীর জীবন ও জীবিকা ব্যবস্থা সমসাময়িক সমাজের অমানুষিক অবস্থার কেন্দ্রবিন্দু, সর্বহারার মধ্যেই মানুষের সর্বরিক্ত রূপ প্রস্ফুট, আবার এই সর্বহারারাই তত্ত্বের দিক থেকে নিজেদের রিক্ততা সম্বন্ধে সচেতন হয়ে উঠেছে এবং অবস্থার অনিবার্য চাপে বাধ্য হচ্ছে অমানুষতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতে, সুতরাং এই সর্বহারাদের মুক্তি তাদের নিজেদেরই আনতে হবে। যে অবস্থা তাদের সৃষ্টি করেছে সেই অবস্থাকে নিঃশেষে ধ্বংস না করে সর্বহারারা নিজেদের মুক্ত করতে পারে না, আর তাদের পারিপার্শ্বিক অবস্থাকে ধ্বংস করা মানে বৃহত্তর সামাজিক জীবনের সমস্ত অমানুষিক বিধিব্যবস্থাকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করা— যে অমানুষিক বিধিব্যবস্থা বা অব্যবস্থা সর্বহারাদের নিজেদের অবস্থার মধ্যেই জমাট হয়ে দেখা দেয়।
আরো বিশদ করে মার্কস বললেন: কঠোর পরিশ্রম এদের পক্ষে এমন একটি বিদ্যালয় যে, তা এদের কঠোর করে তোলে— সেখানকার শিক্ষা নিষ্ফল হয় না। সাময়িকভাবে কোনো একজন শ্রমিক বা অন্য আরেকজন শ্রমিক, এমনকি গোটা শ্রমিকশ্রেণী লক্ষ্য সম্পর্কে কী কল্পনা করল, সেটা আসল কথা নয়। আসল কথা হচ্ছে, শ্রমিকশ্রেণী আসলে কী এবং সে আসলে যা তার দরুন ইতিহাস তাকে কোন কর্তব্যের পথে প্রবলভাবে ঠেলে দিচ্ছে। শ্রমিকশ্রেণীর ঐতিহাসিক কর্তব্য আগে থেকে নির্ধারিত আছে— সে কর্তব্য সুস্পষ্ট ও অলঙ্ঘ্য হয়ে আছে শ্রমিকদের নিজেদের অবস্থার মধ্যেই, বুর্জোয়া সমাজের গোটা সংগঠনের মধ্যেই। বারবার করে মার্কস ও এঙ্গেলস বললেন যে, ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের সর্বহারাদের এক বিরাট অংশ এরই মধ্যে শ্রমিকশ্রেণীর ইতিহাস-নির্দিষ্ট ভূমিকা সম্বন্ধে সচেতন হয়ে উঠেছে এবং সেই সচেতনতাকে পরিপূর্ণ স্বচ্ছতার স্তরে উন্নীত করার জন্য অবিরাম চেষ্টা করে চলেছে।
এই ‘পবিত্র পরিবার’ বইটির কাছাকাছি সময়ে লেখা ‘ইংল্যান্ডের শ্রমিকশ্রেণীর অবস্থা’ এঙ্গেলসের নিজস্ব গবেষণার ফল। বুর্জোয়াশ্রেণীর শাসনে ইংল্যান্ডের শ্রমিকশ্রেণীর দুর্গতির বীভৎসতার বাস্তব চিত্র এ বইটিতে আঁকা হলো। তবে সর্বহারার লাঞ্ছনার ছবি আছে বলেই যে মার্কসীয় সাহিত্যে এ বইটি মূল্যবান তা নয়। কারণ এঙ্গেলসের আগেও দুর্গতদের বর্ণনা অনেকেই পরিবেশন করেছেন— যেমন বুরে, গ্যাসকেল প্রমুখ এবং তাদের লেখা থেকে এঙ্গেলস উদ্ধৃতি দিয়েছেন প্রচুর। বইখানির গুরুত্ব এ জন্যই যে, ইংল্যান্ডের ধনতান্ত্রিক উৎপাদন ব্যবস্থার বিশ্লেষণ করে এঙ্গেলস সে ব্যবস্থার ক্ষয়িষ্ণু রূপ আর শ্রমিকশ্রেণীর মুক্তি-সংগ্রামের ওপর জোর দিলেন। দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদের সূত্র প্রয়োগ করে তিনি দেখালেন যে, শ্রমিকশ্রেণী তার জন্মদাতা ধনতান্ত্রিক উৎপাদন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করবেই করবে; ঘোষণা করলেন: শ্রমিকশ্রেণীর আন্দোলনের সঙ্গে সমাজতন্ত্রবাদের সংযুক্তির মধ্য দিয়ে ইংল্যান্ডের সর্বহারার শাসন-কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হবে।
এ বইখানি লেখা শেষ করে এঙ্গেলস মার্কসের সঙ্গে ব্রাসেলসে দেখা করলেন। ১৮৪৫-এর বসন্তকাল। এঙ্গেলস এই সময়ের কথা লিখতে গিয়ে লিখেছেন যে, তখন মার্কস তার ইতিহাসের বস্তুবাদী ব্যাখ্যার মূল কাঠামোটা তৈরি করে ফেলেছেন এবং তখন থেকে তারা দুজনে এই নতুন দৃষ্টিভঙ্গির বহুবিস্তারিত প্রয়োগের যুক্ত প্রয়াসে ব্রতী হলেন।
তাদের যুক্ত উদ্যোগে ‘জার্মান ভাবাদর্শ’ বইখানির সৃষ্টি হলো। বইখানির উদ্দেশ্য অবৈজ্ঞানিক জার্মান দর্শনের আলোচনা, অর্থাৎ মার্কস-এঙ্গেলসের ‘অতীত দার্শনিক বিবেক’ সম্পর্কে সমালোচনা। কারণ তারা গোড়ার দিকে হেগেলপন্থী ছিলেন। এ প্রবন্ধে আমরা আপাতত ‘জার্মান ভাবাদর্শ’ বইখানির দ্বিতীয় খণ্ডের সঙ্গে জড়িত। কারণ সেখানেই তথাকথিত ‘যথার্থ সমাজতন্ত্রবাদ’ সম্বন্ধে সমালোচনা আছে। কিছু মানবতা, সম্পত্তিবানদের বিরুদ্ধে কিছু প্রলেতারীয় আক্রমণ, শ্রমিক সংগঠন, অবনত শ্রেণীগুলোর উন্নয়নের জন্য কিছু করুণ চেহারার গোবেচারি সমিতি গঠন এবং অর্থনীতি ও সমাজের প্রকৃত চরিত্র সম্বন্ধে সর্বব্যাপী অজ্ঞতা— এ নিয়ে ‘যথার্থ সমাজতন্ত্রবাদ’। বিখ্যাত ‘কমিউনিস্ট ইশতেহার’ও এই খাঁটি সমাজতন্ত্রবাদের কঠোর সমালোচনা পরবর্তীকালে করেছিল।
বৈজ্ঞানিক সাম্যবাদের তত্ত্ব এ বইখানিতে আরো কিছুটা বিশদ হলো, দেখানো হলো যে, বস্তুনির্ভর কতগুলো নিয়মের ওপরই সর্বহারাদের বৈপ্লবিক কার্যক্রমের ভিত্তি। মার্কস ও এঙ্গেলস প্রমাণ করলেন যে, মানুষের ইচ্ছা-অনিচ্ছার সীমানার বাইরে স্বনির্ভর অর্থনৈতিক নিয়মের ক্রিয়ার ভিত্তিতে শ্রমিকশ্রেণীর বৈপ্লবিক আন্দোলনের ফলে বিশ্বে সাম্যবাদের প্রতিষ্ঠা হবেই— কোনো শক্তিই তাকে প্রতিহত করতে পারবে না। অনাগত সাম্যবাদী সমাজের মোটামুটি চেহারাটা ‘জার্মান ভাবাদর্শ’ ফুটিয়ে তুলল।
প্রায় একই সময়ে লেখা প্রবন্ধ হচ্ছে ‘ফয়ারবাখ প্রসঙ্গে’। এ প্রবন্ধে যে কথাটা জোরের সঙ্গে বলা হয় সেটা হচ্ছে এই যে, শুধু মননচিন্তন যথেষ্ট নয়, তত্ত্বের সঙ্গে প্রয়োগের প্রয়াসকে যুক্ত করতে হবে, কারণ ব্যবহারিক প্রয়োগের সঙ্গে বৈপ্লবিক তত্ত্বের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক। তত্ত্বকে আকাশস্থ নিরালম্ব হয়ে থাকলে চলবে না, তত্ত্ব হবে জীবনের রণক্ষেত্রে ভাঙা-গড়ার দুর্জয় অস্ত্র। ইতিপূর্বে এ প্রবন্ধের গোড়ার দিকে আমরা মার্কসের যে উক্তিটি উদ্ধৃত করেছি, তা ফয়ারবাখের প্রয়োগ-বিমুখতার প্রসঙ্গেই ব্যবহূত হয়েছিল— বিপ্লবী দর্শনের প্রকৃত ভূমিকার কথা বলতে গিয়ে মার্কস বলেছিলেন: দার্শনিকরা শুধু জগেক নানাভাবে ব্যাখ্যা করেছেন; কিন্তু আসল কথা হলো জগেক পরিবর্তন করা। সমাজকে শুধু জানলে হবে না, পুরনো সমাজকে ভাঙো, নতুন সমাজ গড়ার কাজে হাত লাগাও— এই হলো মার্কসের আহ্বান।
এবারে দেখতে হয় মার্কস ও এঙ্গেলস বিপ্লবী গ্রন্থ প্রণয়নের সঙ্গে সঙ্গে বিপ্লবীদের ঐক্যের সূত্রগ্রন্থনের কাজে কীভাবে অগ্রসর হয়েছিলেন।
আন্তর্জাতিক কমিউনিস্ট আন্দোলনের সাংগঠনিক উৎস খুঁজতে গেলে দেখব ইউরোপের তিনটি প্রধান রাজধানীতে— প্যারিস, ব্রাসেলস ও লন্ডনে— প্রবাসী জার্মান শ্রমিক সংগঠনগুলোই এর মূলে ছিল। অবশ্য তারা অন্য দেশের প্রতিনিধিদেরও কোনো কোনো ক্ষেত্রে সঙ্গে পেত। এই জার্মান সংগঠনগুলো কিন্তু প্রায়ই জার্মানির কল্পনাসর্বস্ব ‘কমিউনিস্ট’ ভাইটলিংয়ের তাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গির অনুসরণ করত।
বিপ্লবী দর্শন ও কর্মধারার আলোচনায় ভাইটলিং এবং তার সঙ্গে ফরাসি দেশের প্রুধঁ এসে পড়বেনই। আমাদের মনে রাখতে হবে যে, মার্কস ও এঙ্গেলসের বিপ্লবী দর্শনকে শ্রমিক জনসাধারণের কাছে পৌঁছাতে দুটি শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হচ্ছিল। এক. বুর্জোয়াশ্রেণীর ভাবাদর্শের বিরুদ্ধে। দুই. পেতি-বুর্জোয়াশ্রেণীর নানা রকমের সমাজতন্ত্রবাদের বিরুদ্ধে। তথাকথিত সমাজতন্ত্রবাদের প্রচার শ্রমিকশ্রেণীকে শ্রেণী-দ্বন্দ্বের পথ থেকে সরিয়ে নিয়ে কাল্পনিক সমাজতন্ত্রের মধুকুঞ্জে স্বপ্ন-শয়নে এলিয়ে দিত। শ্রমিকশ্রেণীর শত্রু বুর্জোয়া শোষকদেরই এতে লাভ হতো। ভিলহেল্ম ভাইটলিং ছিলেন কাল্পনিক সাম্যের অন্যতম স্বপ্নদ্রষ্টা ঋষি। তার এবং তার সহগামীদের মুখরোচক প্রচারে বলা হতো ভালোবাসা আর ভ্রাতৃভাবের কথা— উদ্দেশ্য হলো সর্বহারা ও সর্বস্বাপহারকদের মধ্যকার বৈরিতাকে প্রলেপের সাহায্যে সর্বহারার পক্ষে খানিকটা সহনীয় করে তোলা এবং শ্রেণী-দ্বন্দ্বের পরিবর্তে শ্রেণী-সহযোগিতার পরিবেশ রচনা করা। প্রুধঁর দর্শনের সঙ্গেও সংঘর্ষের প্রয়োজন ছিল। তাই প্রুধঁর ‘দর্শনের দারিদ্র্য’ প্রবন্ধের উত্তরের ১৮৪৭-এ মার্কসের লিখতে হলো ‘দারিদ্র্যের দর্শন’। এই প্রবন্ধটিতে মার্কস ধনতান্ত্রিক উৎপাদন ব্যবস্থার বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ উপস্থিত করলেন এবং মার্কসীয় অর্থনীতির ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হলো। শ্রমিকশ্রেণীর বন্ধন-মুক্তি সম্বন্ধে বলল, শ্রমিকশ্রেণীর মুক্তির শর্ত হচ্ছে প্রত্যেক শ্রেণীর অবলুপ্তি। সর্বহারা ও বুর্জোয়াদের মধ্যে যে বিরোধ তা অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর, কারণ এ বিরোধকে তার চরম পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারলেই পূর্ণাঙ্গ বিপ্লব ঘটবে। শ্রেণীহীন সমাজ যেদিন আসবে শুধু সেদিনই শ্রেণীতে-শ্রেণীতে সংঘর্ষের অবসান হবে। যতদিন তা না হচ্ছে, ততদিন প্রতিটি সামাজিক রূপান্তরের পূর্ব-মুহূর্তে সমাজবিজ্ঞানের চূড়ান্ত কথা হচ্ছে: ‘জয়লাভ অথবা মৃত্যু! রক্তাক্ত সংগ্রাম অথবা অবলুপ্তি! প্রশ্নটা এই রকম নির্মমভাবেই সামনে এসে দাঁড়ায়।’ উদ্ধৃতিটি মার্কস নিলেন জর্জ সাঁদ থেকে। প্রুধঁর প্রবন্ধের উত্তরের উপসংহারে এই রকম সংহারের কথাই মার্কসকে বলতে হলো— কারণ বুর্জোয়া দার্শনিকদের মুখের মতো জবাব এটাই।
‘দর্শনের দারিদ্র্য’ প্রসঙ্গে একটি বক্তব্য উত্থাপন করা বাকি আছে। আমরা ইতিপূর্বে বলেছি যে, মার্কসীয় অর্থনীতির ভিত্তি রচিত হলো এই প্রবন্ধে। সঙ্গে সঙ্গে বলা ভালো যে, ধনতান্ত্রিক অর্থনীতির বিশ্লেষণ করে মার্কস এখানে প্রমাণ করে দেখালেন যে শোষণ, দারিদ্র্য, সংকট, মন্দা ধনতন্ত্রবাদের নিত্যসঙ্গী। ধনতান্ত্রিক উৎপাদনের উৎসাদনের মধ্যে দিয়েই মানবসমাজ এই অভিশাপগুলো থেকে মুক্ত হবে। সর্বহারার বিশ্বজোড়া ঐতিহাসিক ভূমিকার ব্যাপারে তিনি অর্থনৈতিক সংগ্রামের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করলেন এবং রাজনৈতিক সংগ্রামের সঙ্গে তার অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কের তাত্পর্যও তুলে ধরলেন ও সর্বহারার শ্রেণী-সংগ্রামের কৌশলের প্রথম আভাস দিলেন। [সংক্ষেপিত]





