ঢাকা নগরী

সেই সপ্তদশ শতাব্দীর জাহাঙ্গীরনগর কবে যে ঢাকায় পরিণত হইল তাহা এখন অনেকেই জানেন না। তবে ইংরাজ রাজত্বের পূর্বেও ঢাকার যে জৌলুস ছিল, আমাদের ছেলেবেলায় যখন আমরা সেখানে বাস করিতাম, তখনও সেই রকমই জৌলুস দেখা গিয়াছে বলিয়া প্রবীণেরা আলোচনা করিয়া গিয়াছেন।

অবশ্য আমাদের ছেলেবেলা হইতে এই পর্যন্ত, এই ষাট বত্সরে অনেক পরিবর্তন হইয়া গিয়াছে ঢাকার উপর দিয়া। দেশ বিভাগের পর অর্থাত্ স্বাধীনতালাভের পর ১৯৪৭ সনে ঢাকাকে বলা হইত পূর্বপাকিস্তানের অন্তর্গত। আজকাল আবার বলা হয় বাংলাদেশের অন্তর্গত। আজকাল নাকি ঢাকার শহর রমনা বা পুরাতন পল্টনের দিকে ছড়াইয়া পড়িয়াছে; পথঘাট হইয়াছে প্রশস্ততর; দালানকোঠা হইয়াছে প্রাসাদোপম। তাহা হউক। আমি রোমন্থন করিতে বসিয়াছি, আমি তখনকার দিনের অর্থাত্ ১৯৪৭ সনের অগাস্টের ঢাকা, যাহাকে প্রাণ দিয়া ভালবাসিয়াছিলাম— তাহার বিষয় যেটুকু চোখে ভাসিতেছে সেইটুকুই লিখিয়া যাইব।

ঢাকা মুসলমানপ্রধান শহর ঠিকই, কিন্তু সেইখানে সাহা ও বসাকশ্রেণীর ধনী হিন্দু ব্যবসায়ীরও কম প্রাধান্য ছিল না। তাঁহারা ছিলেন বৈষ্ণব-সম্প্রদায়ভুক্ত ও অত্যন্ত রক্ষণশীল।

আমাদের বাসা ছিল সদর ঘাটের কাছে, পাটুয়াটুলীর রাস্তার উপরে, উভয় পার্শ্বেই দোকান ছিল। আর আমাদের বাড়ির ছাদ হইতে বুড়িগঙ্গা নদী দেখা যাইত।

পূর্ববাংলা দেশটাই নদনদীতে ভরা। সেখানে আছে পদ্মা, মেঘনা, ধলেশ্বরী, বুড়িগঙ্গা, আরও কত নদী। সে-সব নদী এত প্রশস্ত যে, তাহার এপার হইতে ওপার দেখা যায় না বলিলেই হয়। নদীর পারের শহরগুলিই বাণিজ্যে প্রাধান্যলাভ করিয়াছে ও বর্ধিষ্ণু হইয়া উঠিয়াছে। আমদানি-রফতানির পক্ষে নদীপথই তো প্রশস্ত ছিল। অবশ্য ইংরাজ আমলে রেলগাড়ি অনেক সাহায্য করিয়াছিল। আমাদের দেশে ধান-পাটের চাষ প্রচুর। ঢাকাই তাঁতিরা মোগল আমল হইতেই বিখ্যাত ছিল। ঢাকাই মসলিন, জামদানি, বুটিদার শাড়ি, বেনারসি শাড়ির কথা সবাই শুনিয়াছে। তারপর ঢাকাই শাঁখা ছিল হিন্দু গৃহলক্ষ্মীদের আদরের সামগ্রী। সেখানকার তামা, কাঁসা, হাতির দাঁতের ও সোনারুপার কাজ কোনটাই নিন্দনীয় ছিল না। সোনার গহনা ও রুপার আতরদানি-জাতীয় নানারকম শৌখিন দ্রব্যসম্ভার ভারতের সর্বত্র, এমনকি ইউরোপেও আদরনীয় ছিল। লাট-পত্নীরা ভারে ভারে সোনারুপা ও হাতির দাঁতের জিনিস— এমনকি, শাঁখার বালা ও শঙ্খের মালা পর্যন্ত— দেশে লইয়া যাইতেন।

&dquote;&dquote;তারপরে, খাওয়া দাওয়ার সুখও কম ছিল না। কোন কালে শায়েস্তাখাঁর সময়ে টাকায় আট মণ করিয়া চাউল পাওয়া যাইত জানি না, কিন্তু আমাদের সময়েও দু আনা করিয়া ইলিশ মাছ, এক আনা ভাল দুধের সের, ময়রার দোকানে সুস্বাদু মালাই, ক্ষীর-মোহন, আমসন্দেশ, জিভেগজা, অমৃতি, খাজা, ঢাকাই পরোটা বড় বড় লেডিকেনি বা লালমোহন ইত্যাদি এক আনা করিয়া পাওয়া যাইত। আমাদের সব বাড়িতে সুগন্ধচাউলের ভাত এবং সুগন্ধি গাওয়া ঘি সর্বদাই ব্যবহার হইত, তাহাতেই মনে হয় চাউল, ডাল খুব সস্তাই ছিল। আমি কলিকাতায় আসিয়া প্রথম দেখিলাম, রান্নায় ‘ভয়সা ঘি’ ব্যবহার হয়— তখন ১৯২০। আমাদের গাওয়া ঘি ছাড়া অন্য কিছু দ্বারা লুচি পরোটা ভাজা হইত না।

ইহা  তো গেল খাইবার কথা। মানুষের খাওয়া পরার সুখ থাকিলেই অনেকটা শান্তি থাকে দেশে। কিন্তু আমাদের জন্মের সময় হইতেই প্রায় স্বাধীনতা-সংগ্রামের শুরু। ১৯০৬ সনে ‘মুসলিম লীগের’ জন্ম। ঢাকার নবাব সলিমুল্লাকে লীগের প্রধান মানিয়া লইল মুসলমানগণ। ভিতরে ভিতরে অশান্তির আগুন জ্বলিতে থাকিলেও তখন পর্যন্ত অর্থাত্ আমাদের ছেলেবেলায়ও হিন্দু-মুসলমানগণের মধ্যে বেশ সম্প্রীতি দেখিয়াছি। লোকে বলিত ‘ব্রিটিশ রাজত্বে বাঘে গরুতে এক ঘাটে জল খায়।’ ঢাকায় গোটা কয়েক মেয়ে স্কুল স্থাপিত হওয়াতে হিন্দু-মুসলমান উভয় সম্প্রদায় হইতেই মেয়েরা স্কুলে লেখাপড়া শিখিত। ঢাকায় মেয়েদের শুধু লেখাপড়াই শেখান হইত না, তাঁহাদের গানবাজনার জন্য বাড়িতে বাড়িতে ওস্তাদ রাখা হইত। আমাদের বন্ধুবান্ধবদের মধ্যে অনেকেই গান শিখিত, আর যাঁহাদের গান ভাল লাগে না তাঁহারা এস্রাজ বা সেতার শিখিত। তখন প্রায় ১৯১৪ সন। আমাদের স্কুলে ক্লাসের শেষে মেয়েরা যে যাহা বাজনা শিখিতে চায়— সেতার বা এস্রাজ— তাহাই শিখিতে পারিত, মাত্র মাসে মাসে ৪ টাকা মাহিনাই যথেষ্ট ছিল। খ্যাতনামা ভগবান্ সেতারীর কাছে অনেকেই বাজনা শিখিত। আমাকে শিখাইতেন একজন অন্ধ ওস্তাদ— আমাকে তিনি সেতার শিখাইতেন। শ্রীযুক্ত নরেন্দ্রনাথ সেন (উত্তর জীবনে সাবজজ) মহাশয়ের কাছেও আমি সংগীত শিক্ষা করিয়াছি। তিনি আমাকে রবীন্দ্রসংগীত শিখাইতেন। সাহা ও বসাক সম্প্রদায় হইতে খুব অল্প মেয়েই স্কুলে আসিতে পাইত। তাঁহাদের মেয়েরা লেখাপড়া, গানবাজনা শিখুক, ইহা তাঁহারা পছন্দ করিতেন না। কিন্তু তাঁহাদের সব বাড়িতেই খুব গানবাজনার মজলিস বসিত। তাঁহারা খুব ধনী ছিলেন। তাঁহাদের প্রাসাদের মত বাড়িতে খুব ঘটা করিয়া ঝুলন, দোলযাত্রা ইত্যাদি হইত। বহুলোক নিমন্ত্রিত হইত এবং বাইজির নাচ হইত, ও নানা দেশের ওস্তাদদের আহ্বান করিয়া মস্ত মস্ত গানবাজনার আসর বসানো হইত। তখনকার দিনে বাড়িতে বাইজির নাচগান হইলে, কেহ নিন্দা করিত না, বরং প্রশংসাই করিত। এই সব ব্যবসায়ীদের আরও আনন্দ করিবার রকম ছিল। যেমন— পায়রা উড়ান, ঘুড়িখেলা ইত্যাদি। এক এক সময় ইঁহারা ঘুড়ির লেজে পাঁচ টাকার নোট বা দশ টাকার নোট জুড়িয়া দিতেন। বাড়িতে বিবাহের উত্সব হইলে মস্ত মিছিল করিয়া চৌদোলার উপর বরকে বসাইয়া শহর প্রদক্ষিণ করান হইত। ইঁহাদেরই এক এক জনের বাড়িতে ঠাকুরের আসন (সোনায় রুপায় মোড়া) প্রায় ৩/৪ হাত উঁচু করিয়া তৈয়ারি করা হইত। ঝুলনের সময় ইঁহাদের বাড়িতে নানারকম পুতুল তৈয়ারি করিয়া, এক একটা হলঘরে গাছ-লতা-পাতা দিয়া, গোচারণ মাঠ সাজান হইত। সেইখানে গোপী-বালকদের সঙ্গে ধেনু লইয়া বাঁশি হাতে বালক কৃষ্ণ-বলরামের মূর্তি দেখা যাইত। জনসাধারণের সেইখানে প্রবেশাধিকার ছিল। আমরা ঝুলনের সময় বহুবার ইঁহাদের বাড়িতে ঠাকুর দেখিতে গিয়াছি। ইঁহাদেরই আর একটি বড় উত্সব ছিল জন্মাষ্টমী। ঢাকার জন্মাষ্টমীর মিছিল ভারত-বিখ্যাত ছিল। জন্মাষ্টমীর সময় দেশ-দেশান্তর হইতে লোকেরা ঢাকায় মিছিল দেখিতে আসিত। এই সব সাহা ও বসাকদের মধ্যে দুইটি দল ছিল— নবাবপুরের দল ও ইসলামপুরের দল। জন্মাষ্টমীর পূজাপাট সাঙ্গ হইলে দিন দুই পরে একদিন নবাবপুরের ও আর একদিন ইসলামপুরের মিছিল বাহির করা হইত। এই বিষয়ে দুই দলে বেশ আড়াআড়ি ছিল।

নবাবপুরের মিছিল নবাবপুরের এলাকার কাছাকাছি যে যে রাস্তা দিয়া যাইবে এবং ইসলামপুরের মিছিল ইসলামপুর এলাকার যে যে পথ দিয়া যাইবে তাহা পূর্ব হইতেই স্থির করা থাকিত। বেলা ১২টার পর মিছিল বাহির হইবার নিয়ম ছিল। সেই জন্য ১১টার মধ্যেই ঐ সব পথে  গাড়িঘোড়া চলা নিষিদ্ধ হইয়া যাইত। বেলা ১০টার মধ্যেই ঐ সব রাস্তায় দুইধারের বাড়ির একতলা, দোতলা এমনকি ছাদ পর্যন্ত লোকে পরিপূর্ণ হইয়া যাইত। রাস্তার দুইধারে দড়ির বেড়া থাকিত। যেন, দর্শকেরা সীমা অতিক্রম করিতে না পারে। আর, এই বিষয়ে লক্ষ রাখিত পুলিশবাহিনী। পথে পথে চীনাবাদাম, গেণ্ডারি (আখ বা ইক্ষু) ও সরবত বিক্রেতা ফেরিওয়ালা বহু দেখা যাইত। আমাদের বাড়িটা ছিল ইসলামপুর এলাকায় পাটুয়াটুলীর রাস্তার উপরে। বাড়ির সামনে দিয়াই মিছিল যায়, সুতরাং সকাল বেলা হইতেই আমাদের বাড়িতে আত্মীয় স্বজনের ভিড় জমিতে থাকিত— পুরুষরা একতলায়, আর মেয়েরা দোতলায়। দোতলায় প্রায় ১০-১২টা জানালা ছিল। তাহার পাশে বেঞ্চি পাতিয়া দেওয়া হইত। মিছিলের দিন বাবা, মা, ঠাকুরমা কাহারও বিশ্রাম থাকিত না। বাড়িতে প্রায় দেড়শ খানেক লোকের সমাগম হইত। তাঁহাদের সব জলখাবার দেওয়া হইত, কারণ এই সব অতিথিগণের ফিরিতে প্রায় সন্ধ্যা হইয়া যাইত। মাথাপিছু ১০ পয়সা-১২ পয়সার মিষ্টিই যথেষ্ট ছিল, অমৃতি ১ খানা চারি পয়সা, গজা ২ পয়সা, দুইখানা কচুরী চারি পয়সা আর সেই সঙ্গে চীনাবাদাম পুরিয়ায় করিয়া ও একখানা করিয়া ইক্ষু বা আখের খণ্ড দেওয়া হইত।&dquote;&dquote;

বেলা ১২টার পর হইতেই সবাই উদগ্রীব। সকলেই সুবিধামত জায়গা দখল করিতে ব্যস্ত। দূরে বাজনা শুনিতে পাওয়া যাইতেছে। ২/৩টি ঘোড়ায় ঘোড়সওয়াররা প্রথমে দেখিতে দেখিতে অগ্রদূত রূপে আসিতেছে, যেন দর্শকেরা ঠিক লাইনমত দাঁড়ায়। এইবার আসিতেছে হাতি, তাহার উপর সোনার শিবিকার মধ্যে আছে রাজপুত্রবেশে একটি ছেলে জরির সাজে। হীরায় মুক্তায় ঝলমল করিতেছে। মাহুতের সাজটিও বেশ মনোহারী। হাতির হাওদার দুইধার দিয়া সোনার জরির ঝালর ঝুলিতেছে, সেই ঝালর ধরিয়া ধরিয়া চলিতেছে রুপার আশাসোটাবাহী ৮-১০ জন সাদা চোগাচাপকান পরিহিত পরিচারক। তাহার পর আরও তিন-চারিটি হাতি ধীরে ধীরে আসিতে লাগিল, সকলেরই হাওদা ও ঝালর চমত্কার, তবে প্রথমটির মত অত উজ্জ্বল নয়। হাতির পরে আসিতে লাগিল ঘোড়া। ঘোড়ার উপরের জিন বা বসিবার আসনগুলি লাল-সবুজ ভেলভেটের উপর জরির তারকাখচিত। প্রায় ৮-১০টি ঘোড় চলিল। প্রত্যেকের উপরে একটি করিয়া আহীর (গোপী) বালক, তাহারাও বেশ সুসজ্জিত। মাথায় পাগড়ি, অঙ্গে সাদা ফতুয়া, পরনে হলুদ রঙের ধুতি। কিছুদূর পরে পরেই এক একদল বাদক বাজনা বাজাইতে বাজাইতে চলিয়াছে। এইবারে আসিতে লাগিল এক একটি দল গান গাহিতে গাহিতে। মাঝখানে গলায় হারমোনিয়াম বাঁধা। হাতে বাঁশি কয়েকজন লোক, আর দুইধারে গোপী বালিকারা হাতে হাত ধরিয়া গান গাহিতে গাহিতে চলিয়াছে; আবার কোন দলের বালকেরা হাতে পিচকারী লইয়া দোললীলা দেখাইতেছে। এই ভাবে শ্রীকৃষ্ণের নানারকম লীলা প্রদর্শন করিয়া ছয় সাতটি দল গেলে আসিল গরুর গাড়ির উপর নানারকমের সং। তখনকার রাজনৈতিক বা সামাজিক দোষত্রুটিকে ব্যঙ্গ করিয়া নানা সাজে সজ্জিত এক একটি দল, এক একটি গো-শকটের উপরে দেখা যাইতে লাগিল। তাহারা অভিনয় করিতে করিতে চলিত। তাহার পর এক একটি গো-শকটের উপর এক একটি সোনারুপার সিংহাসন এবং তাহার মধ্যে কৃষ্ণরাধার বা কৃষ্ণবলরামের মূর্তি দেখা যাইতে লাগিল। এইভাবে নানা সংয়ের ছয় সাতটি ও সোনারুপার সিংহাসনের ১০-১২টি গো-শকট গেলে আসিল চৌকি। চারিটি বলদ টানা, প্রশস্ত একটি গাড়ির উপর, বাঁশের মজবুত ও প্রশস্ত একতলা সমান উঁচু মাচা বা structure, ইহাকে চৌকি বলা হইত। নানারকম সোলার সাজ, রাংতার সাজ, রঙিন কাগজ ও কাপড়ের সাথে আচ্ছাদিত হইয়া বাঁশগুলি অদৃশ্য হইয়া যাইত। এই সব মাচার উপর এক একটি পৌরাণিক কাহিনীর দৃশ্য রচনা করা হইত। যেমন, মোহিনী মূর্তিতে বিষ্ণু অমৃত ভাগ করিতেছেন— দেবতা ও দৈত্যদের মধ্যে। ১৪/১৫ বছরের সব ছেলেদের বিষ্ণু, দেবতা ও দৈত্যের রূপ দেওয়া হইয়াছে। আবার একখানাতে হয়তো ইন্দ্রের দেবসভা রচিত হইয়াছে, সেইখানে অপ্সরাগণও বাদ পড়ে নাই। এই রকম ২/৩ খানা চৌকি গেলে পর নানা বাদ্য-বাজনার দল, ঘোড়সওয়ার ও পুলিশবাহিনীর আগমনে মিছিল শেষ হইত।

প্রায় দেড় ঘণ্টা লাগিত এই মিছিল শেষ হইতে। মিছিল চলিয়া গেলে প্রায় ঘণ্টাখানেক পরে, গাড়ি ঘোড়া চলিতে আরম্ভ করিলে পরে, আমাদের বাড়ির দর্শকবৃন্দ যার যার বাড়ির দিকে রওনা হইতেন। এই জন্মাষ্টমীর মিছিল উপলক্ষে স্থায়ী চৌকিও এক একটা চৌরাস্তার মোড়ে মোড়ে দেড়তলা সমান উঁচু করিয়া তৈয়ারি করা হইত। এগুলিতেও নানা পৌরাণিক কাহিনীর চিত্র। যেমন বামন অবতার দেখাইতে গিয়া প্রথমে বলিরাজার সঙ্গে বামনের সাক্ষাত্। তারপর, বামনের হাতজোড় করিয়া ত্রিপাদভূমি যাঞ্চা, তারপর বামনের নিজমূর্তি পরিগ্রহণ ও একটি পা বলিরাজার মাথার উপর ন্যস্ত। এই দৃশ্য পরম্পরাগুলি (পুতুলনাচের মত) পুতুলের সাহায্যে ও দড়ির সাহায্যে সৃষ্টি করা হইত। বিকাল হইতে আরম্ভ করিয়া রাত ৯টা অবধি দেখান হইত, প্রায় চারি পাঁচ ঘণ্টা ধরিয়া। ৩/৪ খানা চৌকি ৩/৪টি রাস্তার মোড়ে থাকিত। অগণিত লোক জমায়েত হইত এই দৃশ্য দেখিবার জন্য। গাড়ি করিয়া স্ত্রীলোক ও শিশুরাও দেখিতে যাইত।

এই তো গেল জন্মাষ্টমীর মিছিলের কথা। আমাদের বাড়ি সামনে দিয়া মুসলমানদের মহরমের মিছিলও যাইত। তিন চারিদিন ধরিয়া সাদা জরির ঝালর দেওয়া সবুজ পোশাকে সজ্জিত ছেলেরা পতাকা উড়াইয়া ডুম ডুম শব্দে দুন্দুভি বাজাইয়া, এক একটি দলে বিভক্ত হইয়া আমাদের বাড়ির সম্মুখ দিয়া যাইত। শুনিতাম তাহারা হুসনিদালানের কাছে গিয়া জমায়েত হয়। মুসলমানদের হুসনিদালান শহরের একপ্রান্তে ছিল। সেটি দেখিতে দুর্গের মত ছিল মহরমের শেষদিন মস্ত উঁচু তাজিয়া ২/৩ খানা যাইত। সবগুলিকে গম্বুজের মত চূড়া তৈয়ারি করা আছে! দেখিতাম মুসলমানেরা মানত করা কবুতর বা পায়রা ছুড়িয়া মারিত তাজিয়ার দিকে। ফেরিওয়ালারা ‘সেরা সিনি’ বলিয়া এক একটি সবুজ কাগজ ও কলাপাতার মোড়ক বিক্রয় করিত। দেখিতাম তাহারা সেগুলিও এক একখানা কিনিয়া তাজিয়ার দিকে ছুড়িয়া দিতেছে।

এইসব মিছিল নিরুপদ্রবেই যার যার ধর্মীয় প্রথা মত, বত্সরের পর বত্সর চলিতে ছিল, কিন্তু ১৯১৬/১৭-এর বত্সরগুলি হইতে কিছু কিছু ব্যতিক্রম দেখা যাইতে লাগিল। প্রথম একবার শুনিলাম, তুচ্ছ একটা কারণে মুসলমানদের সঙ্গে হিন্দুদের জন্মাষ্টমী মিছিলের দিন, হাতাহাতি হইয়া গিয়াছে। তাহার পর একবত্সর শুনিলাম, লাঠালাঠি হইয়া গিয়াছে। ক্রমে ছোরাছুরি চলিতে লাগিল। প্রথমে হিন্দুরাই মার খাইত বেশি; তারপর তাহারাও সংঘবদ্ধ হইতে লাগিল। শুনা গেল ইংরাজদের উসকানির দরুন মুসলমানরা উত্তেজিত হইয়া উঠিতেছে। ক্রমে ক্রমে স্বাধীনতা সংগ্রাম যতই জোরদার হইতে লাগিল, মুসলমানেরা ‘লড়কেলেঙ্গে পাকিস্তান’ বলিয়া জিগির তুলিতে লাগিল। তাহারা ভাবিয়াছিল, ইংরাজ চলিয়া যাইলে আবার একবার ‘মুস্লিমরাজ’ প্রতিষ্ঠা করা যাইবে। ১৯৪৬-এর কাছাকাছি বত্সর গুলিতে যখন তখন ‘রায়ট’ বা দাঙ্গা লাগিয়া উঠিত। বাবার বন্দুক থাকাতে বহুলোক বাবার কাছে আশ্রয় ভিক্ষা করিত। অনেক সময় ঐসব গুণ্ডার দল বন্দুকের আওয়াজ শুনিয়া আর এইদিকে অগ্রসর হইত না— অন্য পথে যাইত। এইসব ‘রায়ট’ বা দাঙ্গা উপলক্ষে কত যে নিরীহ শান্তিপ্রিয় লোক প্রাণ দিয়াছে, তাহা বলিবার নয়। অথচ একসময়ে হিন্দু-মুসলমানে কি সম্প্রীতিই না ছিল। আমাদের পূজাপার্বণে মুসলমানেরাও আনন্দে মাতিয়াছে। আমরাও কত সময়ে উঁহাদের বাড়িতে ঈদ উপলক্ষে দেখা করিতে গিয়াছি। আমার বাবা ছিলেন নবাববাড়ির ডাক্তার। মাঝে মাঝে বাবার সঙ্গে সেই পুরাণ পল্টনে বেড়াইতে গিয়াছি। শহর হইতে বেশ দূরে দিলখুশায় তাঁহাদের অনেক দালানকোঠা ছিল। এক এক মিঞা সাহেবের এক এক বাড়ি। প্রায়ই এক এক মিঞার ২/৩টি বিবি থাকিত। সকলেই অপূর্ব সুন্দরী। সকল বিবিরই একটি করিয়া পানের বাটা ও এক ঝাঁপি বেলোয়ারি চুড়ি থাকিত। বাইরের মেয়েরা কেউ গেলে হাতে পান দেওয়া ও হাতে চুড়ি পরাইয়া দেওয়া, আতর মাখাইয়া দেওয়া তাহাদের একটি সুন্দর রীতি ছিল। এক একবার ওখানে গেলে হাত ভর্তি চুড়ি লইয়া ফিরিতাম। তাঁহাদের সারা বাড়ি জাফরানের গন্ধে, ঘন গুগ্গুলের গন্ধে, আতরের গন্ধে আমোদিত থাকিত। কখন কখন বিবিরা অন্দরের বাগানে ‘Badminton’ খেলিত। মুগ্ধ হইয়া চাহিয়া দেখিতে থাকিতাম, যেমন রঙের জৌলুস, তেমনি সুন্দর নাকমুখ, তেমনি দেহলতা, সর্বোপরি মোটা মোটা লম্বা বিনুনী জরির ফিতায় মোড়া, সাপের মত পিঠের উপর আছড়াইয়া পড়িতেছে। অপূর্ব চিত্র একখানি। তারপর ১৯৩৫ সনে একসময় ওরাই বাবাকে বলিল যে, “ডাক্তারবাবু, তোমার এখন আর আমাদের এখানে আসা নিরাপদ নয়”। তাহার পর হইতে ছাড়াছাড়ি— আমাদের উভয় পরিবারের মধ্যে, অর্থাত্ বাবা নবাববাড়ির ডাক্তারি ছাড়িয়া দিলেন।

কিন্তু দিলখুশায় যাওয়ার পথে কত যে ময়ূর-ময়ুরী স্বাধীনভাবে মাঠে ময়দানে ঘুরিয়া বেড়াইতে দেখিয়াছি, দেখিয়া যেন আশা মিটিত না। আজকাল নিশ্চয়ই আর তাহারা সেখানে নাই পুরাণ পল্টন হইতে শহরের দিকে আসিতেই রমনার মাঠ দেখা যায়। আর দেখা যায় রমনার কালীবাড়ীর আকাশছোঁয়া মন্দির, তার সঙ্গে আছে ‘বুড়া শিবের’ মন্দির, আরও কিছুটা অগ্রসর হইলে সিদ্ধেশ্বরী মন্দির দেখা যায়। এই সব মন্দিরের কথা বলিতে মনে পড়ে শ্রদ্ধেয়া সন্ন্যাসিনী আনন্দময়ী মায়ের কথা। তিনি ঐসব মন্দিরের কাছাকাছি, শৈশব কাটাইয়াছেন, ঐখানেই সিদ্ধিলাভ করিয়াছেন। শুনিয়াছি, আজ সেই সব মন্দির মুসলমানরা ধ্বংস করিয়াছে সত্য, কিন্তু আনন্দময়ী মায়ের স্থাপিত মন্দির সারা ভারতময়। তাঁহার শিষ্যবৃন্দও ছড়াইয়া আছে— হিমালয় হইতে কুমারিকা পর্যন্ত।

‘পুরাণ পল্টন’ হইতে শহরের দিকে অগ্রসর হইতে হইতে দেখা যায়, ক্রমশ ছায়াঘন বনতল বিরল-বৃক্ষ হইয়া আসিতেছে। রমনার মাঠ শহরের কাছাকাছি যে দিকটায়, সেইখানে, ঢাকা কলেজের বেশ অনেকগুলি দালান পাশাপাশি দাঁড়াইয়া আছে— দেখা যায়। আরও অগ্রসর হইলে, শহরের মধ্যে আসিয়া পড়িলে— আছে জগন্নাথ কলেজ, তাহার পর আছে ছেলেদের কয়েকটা স্কুল, মেয়েদের কামরুন্নেসা স্কুল, ইডেন স্কুল। তারপর আছে ব্রাহ্মসমাজ। আমাদের ছেলেবেলায়— তখন ১৯০৮ হইবে— ব্রাহ্মসমাজের প্রাধান্য কম ছিল না। সেইখানে ভবসিন্ধু দত্ত, বঙ্কুবিহারী কর, অমৃতলাল গুপ্ত প্রভৃতি বড় বড় আচার্যগণ উপাসনা করিতেন, বক্তৃতা করিতেন। সেই সব বক্তৃতা এত মনোরম হইত যে, বহু ব্রাহ্মেতর ধর্মাবলম্বীরা সেইখানে মিলিত হইতেন, প্রতি শনি-রবিবার। ‘মাঘোত্সবের’ সময় মন্দির সুন্দর করিয়া সাজান হইত, ছেলেদের ও মেয়েদের কণ্ঠে নানা ব্রহ্মসংগীত শুনিতে ও কীর্তন শুনিতে হিন্দুসমাজের অনেকে ব্যগ্র হইয়া উঠিতেন। আমার ঠাকুরমা, মা ও আমাকে লইয়া প্রায় প্রতিদিনই উত্সবের সময় ব্রাহ্মসমাজে যাইতেন। তখন বাহির হইতে বহু ভক্তজন ও বিদ্বজ্জন ঐ ব্রাহ্মসমাজে উপাসনা করিতে ও (sermon) দিতে আসিতেন।

এই ব্রাহ্মসমাজের আওতায় গড়িয়া উঠিল একটি রবিবাসরীয় বিদ্যালয় অর্থাত্ Sunday School। আমিও সেখানে ভর্তি হইলাম। প্রতি রবিবার সকালে ২ ঘণ্টার জন্য সমাজের বিল্ডিংয়ে ক্লাস হইত। ১২ বছরের নিচে ছোট ছোট ছেলেমেয়ে সবাই একসঙ্গে পড়িত। তাহাদের আনা-নেওয়ার জন্য ঘোড়ার গাড়ির বন্দোবস্ত ছিল। ব্রাহ্ম মেয়েরা ছিলেন শিক্ষিকা। ভাল ভাল লোকের জীবনচরিত পড়িয়া শুনান হইত, গান শিখান হইত ও কবিতা মুখস্থ করান হইত। আমাদের প্রত্যেকের একখানি করিয়া খাতা থাকিত। তাহাতে রাত্রে শুইতে যাওয়ার আগে লিখিতে হইত— সারাদিনে কয়বার অবাধ্যতা করা হইয়াছে বা মিথ্যা কথা বলা হইয়াছে ইত্যাদি; তাহাতে আবার মা বা বাবাকে সই করিয়া দিতে হইত। শিশুকাল হইতে নিজের অপরাধ সম্বন্ধে সজাগ হইবার ও নিজেকে সমালোচনা করিবার অভ্যাস আমাদের খুব সহজেই আয়ত্ত হইয়া উঠিল। ছোটদের জীবনে Sunday School-এর উপকারিতা কিছু কম নয়, এখন তাহা বেশ বুঝিতে পারি।

যাহাই হউক, ঢাকার সম্বন্ধে অনেক কথা বলিয়া ফেলিলাম। ঢাকা আমার জন্মভূমি। সত্যই বলা হইয়াছে ‘জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরীয়সী।’ তাই তাহার কথা বলিতে আরম্ভ করিলে আর থামিতে পারি না।

ঢাকার সব কিছুই ভালো লাগিত, কিন্তু সবচাইতে ভালো লাগিত বুড়িগঙ্গার তীর। আমার ছেলেবেলায়, কখনো সকালবেলায়, কখনো বা বিকালে, রোজ একবার করিয়া আমাদের পরিচারকের সঙ্গে বেড়াইতে গিয়াছি— বুড়িগঙ্গার তীরে। আমাদের সামনেই ওয়াইজ (Wise Ghat) ঘাট। বাড়ির দোতলা হইতে দূরে নদী দেখা যাইত।

বুড়িগঙ্গাকে যখনই যেভাবে দেখিয়াছি, মুগ্ধ হইয়া গিয়াছি। নদীর পারটি বহুদূর পর্যন্ত বাঁধান ছিল, ইহার নাম ছিল  ‘Buck-Land Bund’। বিদেশে এমন নদীর পারকে নাকি Promenade বলে। এই বাঁধান পার এত প্রশস্ত ছিল যে প্রায় কুড়িজন লোক পাশাপাশি হাঁটিয়া বেড়াইতে পারিত। এই Bund-এর একপাশে নদী কুলু কুলু স্বরে বহিয়া যাইতেছে, অন্য পাশে বড় বড় প্রাসাদ। একস্থানে প্রকাণ্ড গম্বুজওয়ালা ‘আসান্মঞ্জীল’ নামে নবাববাড়ি মাথা উঁচু করিয়া দাঁড়াইয়া আছে। সেইখানে সলিমুল্লা নামে খ্যাতিমান, ব্যক্তিত্বশালী এক নবাবের ছেলে হাবিবুল্লা (তদানীন্তন নবাব) থাকেন। রূপবাবু ও রঘুবাবু নামক দুই ধনশালী সাহা পরিবারের প্রাসাদ দুইটি লোকের দৃষ্টি আকর্ষণ করিয়া থাকে। একটি বড় পার্ক আছে, সেইখানে স্বদেশী আন্দোলনের সময় বক্তৃতাদি হইত। আছে ছেলেদের খেলার মাঠ— Coronation Park— যেখানে Football ইত্যাদি খেলা হইয়া থাকে। আরও কত বড় বড় লোকের প্রাসাদ আছে তাহা এখন আর মনেও করিতে পারি না। আবার নদীর দিকে চোখ ফিরাইলে দেখা যায়, একটির পর একটি পানসী বা (Pinnace) পিনীস নৌকা পারের ধার ঘেঁষিয়া সাজান রহিয়াছে। নৌকাগুলি যেন এক একটি সেই ছেলেবেলার রূপকথার ‘ময়ূরপঙ্খী নাও’। মুখের দিকটা ময়ূরের আকৃতি। দুই পাশে অনেকগুলি জানালা। ভিতরে একখানি বড় থাকিবার ঘর, একখানি ছোট ঘর, তাহার পার্শ্বে একটি ছোট রান্নাঘর; তাহার পাশে একটি ছোট কুঠুরি— স্নান ইত্যাদি করিবার জন্য। নৌকার বাহিরটা সবুজে, নীলে, হলুদে, সাদায় এমন সুন্দর রঙ করা, মনে হয় যেন ইহার ভিতরে কেশবতী কোন রাজকন্যাকে দেখা অসম্ভব নয়। কত লোক এই সব নৌকা ভাড়া করিয়া মাসের পর মাস নদীর উপর বাস করেন, স্বাস্থ্য ফিরাইবার জন্য।

আবার নানা পূজা-পার্বণের দিনে যেমন বিজয়া, দোল, কার্তিক পূজার দিন রাত্রিতে এই সব নৌকা রঙিন পতাকা ও আলোক সজ্জায় সাজান হয়। তাহারা নদীবক্ষে ঘুরিয়া বেড়ায়। তাহাদের ভিতর হইতে কখনো ভাসিয়া আসে গানের সুর, কখনো বা নূপুরের ধ্বনি। এই সব উত্সবের দিনে বুড়িগঙ্গা আলোয় আলোয় ঝলমল করিতে থাকে।

প্রতিদিন সকালবেলা তাহার অন্য রূপ। তখন ধীর মধুর সমীরে বুড়িগঙ্গার ছোট ছোট ঢেউগুলি লালরঙে রঞ্জিত হইয়া যায় মনে হয়, রাতের অস্পষ্ট পৃথিবীটাকে স্পষ্ট করিয়া আঁকিবার জন্য তরুণ-রবি জলে তাঁহার রঙগুলি গুলাইয়া লইতেছেন। আবার যখন সন্ধ্যাকালে বুড়িগঙ্গার বুক লাল হইয়া যায়, তখন মনে হয় এইবারে শিল্পী রবি তুলিগুলি তুলিয়া রাখিবার আগে একবার রঙগুলি ধুইয়া লইতেছেন।

মাঝে মাঝে আকাশে মেঘ জমিয়া উঠে। দিনের আলো ম্লান হইয়া আসে। বুড়িগঙ্গার ঢেউগুলি উদ্বেলিত হইয়া উঠিতে থাকে। কত নৌকা যায় আসে। ছোট ডিঙ্গি, গহনার নৌকা, বড় বড় ঘাসী নৌকা যে যার কাজে চলিয়া যায়। মাথার উপর অসীম আকাশ, নিচে বুড়িগঙ্গার পারাপার দেখা যায় না, কেমন যেন উদাস করা পরিবেশ। এই পরিবেশে নৌকা বাহিতে বাহিতে ক্লান্ত হইয়া বুঝি মাঝির জীবন-নদীর কথা মনে পড়িয়া যায়, আর মনে পড়িয়া যায় অজানা তাহার পারের কর্তাকে। সে গলা ছাড়িয়া গাহিয়া উঠে ‘মাঝিরে-এ-এ-এ’ এই সেই বাঙ্গালদেশী ভাটিয়ালি সুরে। এই সুর যেন কান্নার মত, ব্যথার মত, হূদয়ে আসিয়া স্পর্শ করিয়ে থাকে। গানগুলি প্রায়ই এই ধরনের—

‘ও মাঝিরে-এ-এ-এ।

নদীর কূল নাই কিনারা নাই রে...

আমার, এ ভাঙ্গাতরী বাইরে ক্যামন কইরা

ক্যামেম কূলেতে যাইমু, কাহারে শুধাইরে...’

তখন ছোট ছিলাম, সুর শুনিয়া মন উদাস হইয়াছে, কিন্তু এই গানের অর্থ বুঝি নাই। এখনও কি বুঝিতে পারি, এই গায়কের প্রশ্নের উত্তর কি?

(আজো তারা পিছু ডাকে গ্রন্থের ঢাকার স্মৃতিচারণমূলক অধ্যায়টি সংকলিত)