নদীমাতৃক বাংলাদেশ বহুকাল থেকেই কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কৃষি কেবল সফল উৎপাদন ও খাদ্যই নিশ্চিত করে না, বঙ্গীয় বদ্বীপে কৃষি মূলত ব্যবসায়েরও মাধ্যম। বর্তমান সময়ে শিল্পের নানা ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এগিয়েছে কিন্তু দেড়-দুইশ বছর আগে দেশের অর্থনীতি পুরোপুরিই কৃষিনির্ভর ছিল। ফলে কৃষিকে কেন্দ্র করে যেমন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, তেমনি হয়েছে সংকট। পূর্ববঙ্গ বা বর্তমান বাংলাদেশে দূর অতীত থেকেই কৃষকদের ওপর নানাভাবে জুলুম-নির্যাতন হয়েছে। ফলে কৃষকদের বিদ্রোহ এখানে একটি সাধারণ বিষয়। কোম্পানির শাসন, ঔপনিবেশিক কাল, পরবর্তী সময়ে পাকিস্তান আমলেও পূর্ববঙ্গে একাধিক কৃষক বিদ্রোহ সংঘটিত হয়। এক্ষেত্রে বর্তমান বাংলাদেশের ‘উত্তরবঙ্গ’ বিদ্রোহের অন্যতম কেন্দ্র হয়ে ওঠে। ঈশ্বরদী ও বৃহত্তর পাবনা এসব কৃষক বিদ্রোহের ইতিহাস বহন করে।

বাংলার কৃষক বিদ্রোহের ইতিহাস খুঁজতে গেলে অষ্টাদশ শতাব্দীর অবিভক্ত বাংলায় চোখ রাখতে হয়। কোম্পানি শাসনের সূচনাকালে সংঘটিত ফকির সন্ন্যাসী বিদ্রোহের কথা সবারই জানা। ওয়ারেন হেস্টিংস এ আন্দোলনকে ‘কৃষক বিদ্রোহ’ বলে অভিহিত করেন। অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যভাগের এ আন্দোলন সারা বাংলায় প্রভাব ফেলেছিল। ঈশ্বরদীও এর বাইরে ছিল না। ক্যাপ্টেন রেনেলের ১৭৭১ সালের বিবরণ থেকে পাবনা জেলায় ফকির সন্ন্যাসী বিদ্রোহের কথা জানা যায়। তিনি উল্লেখ করেছেন, সে সময়ে সিরাজগঞ্জের দিকে ফকিররা অত্যন্ত তত্পর ছিল। ফকিরদের দমন করার জন্য লেফটেন্যান্ট টেলারের নেতৃত্বে দুটি দল পাঠানো হয়। যদিও এ অঞ্চলে ভবানী পাঠক ও দেবী চৌধুরানীর কোনো তত্পরতা দেখা যায় না, তবে রেনেলের রিপোর্ট অনুসারে নিজের মৃত্যুকাল ১৭৮৭ খ্রিস্টাব্দের মার্চ বা মে পর্যন্ত পাবনা ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোয় মজনু শাহ বিদ্রোহের নেতৃত্ব দিয়ে গেছেন।

ফরায়েজী আন্দোলনকে কৃষক বিদ্রোহ বলা নিয়ে অনেকের আপত্তি থাকতে পারে। তবে হাজী শরীয়তুল্লাহর শুরু করা এ আন্দোলনের নিয়ামক ছিলেন মূলত কৃষক শ্রেণীর মানুষ। কৃষি ও কৃষক বিষয়ে কথা বলতে গেলে এদের সঙ্গে অন্যান্য শ্রমজীবী মানুষের কথাও আসে। ফরায়েজী আন্দোলনে কৃষকদের সঙ্গে কলু, জোলা ও তাঁতিরা অংশ নেন। এ তিন পেশার মানুষও কোনো না কোনোভাবে কৃষির সঙ্গে যুক্ত ছিল। ঊনবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় দশকে সংঘটিত এ কৃষক বিদ্রোহের ঢেউ পাবনায়ও এসে পড়েছিল।

পাবনায় কৃষক বিদ্রোহ হওয়ার নানা কারণ রয়েছে। বিদ্রোহ মূলত মুনাফাখোর গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে হয়। ক্ষমতাবান এসব মুনাফালোভী হতে পারে ব্যবসায়ী কিংবা শাসক। এক্ষেত্রে এ শ্রেণীর লোকরা কৃষকদের ব্যবহার করে নিজেদের আখের গুছিয়ে নেয়। কৃষকরা যখন শোষিত হতে হতে ঘুরে দাঁড়ায় তখনই সংঘটিত হয় বিদ্রোহ। আর শোষণ সাধারণত বেশি হয় উর্বর অঞ্চলে। কেননা সেখানে ফসলের উৎপাদন হার বেশি। একদিক দিয়ে অতিরিক্ত পরিমাণে ফসল উৎপাদনে কৃষকদের বাধ্য করা হয়। অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা নিজেদের অধিক মুনাফার লোভে পছন্দসই ফসল উৎপাদন করতে কৃষকদের বাধ্য করে। এক্ষেত্রে কৃষকদের মুনাফা তো দূর, প্রয়োজনের কথাও মাথায় রাখে না। বাংলায় নীল চাষের ক্ষেত্রে ঠিক এ ঘটনাই ঘটেছিল। ইংরেজ ব্যবসায়ীরা স্বীয় স্বার্থে এ অঞ্চলের কৃষকদের ব্যবহার করেছিল।

কৃষক বিদ্রোহকে বুঝতে হলে সে অঞ্চলের কৃষির অবস্থা বোঝা প্রয়োজন। ঈশ্বরদীর ভৌগোলিক অবস্থা লক্ষ করলে দেখা যাবে অঞ্চলটি পদ্মা নদীর আশীর্বাদপ্রাপ্ত। পদ্মার পলি দিয়ে এ অঞ্চল উর্বর হওয়ায় এখানে নানা ফসল ফলত। লাউ, বেগুন, কচুমুখী সবজি থেকে শুরু করে তরমুজ, লিচুর মতো ফল এবং নানা প্রকারের বাঁশসহ এ অঞ্চলে বিচিত্র ফসল এখনো উত্পন্ন হয়। স্বাভাবিভাবেই ব্রিটিশ কোম্পানির শাসনের সময়ে ঈশ্বরদীর ভূমির উর্বরতা তাদের নজরে আসে এবং তারা এ ভূমি কাজে লাগিয়ে নিজেদের মুনাফা করতে চেয়েছিল। নীল সে সময়ে ইংল্যান্ডে অন্যতম প্রধান চাহিদাসম্পন্ন পণ্য হিসেবে গণ্য। কোম্পানির ব্যবসায়ী ও জমিদাররা তাই পূর্ববঙ্গে নীল চাষ শুরু করে।

কোম্পানির শাসন শুরু হওয়ার কয়েক দশক পরে ১৭৯৩ খ্রিস্টাব্দে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত চালু হলে এখাানে নব্য জমিদার গোষ্ঠীর উদ্ভব হয়। রায়ত বা কৃষকদের প্রতি এদের বিন্দুমাত্র দরদ ছিল না। সে সময় পদ্মা তীরবর্তী অঞ্চলে ব্যাপকভাবে নীল চাষ শুরু হয়। বাংলায় নীল চাষের ক্ষেত্রে কোম্পানির প্রতিনিধির মাধ্যমে তা পরিচালিত হতো। এ প্রতিনিঠির কার্যালয় নীলকুঠি নামে পরিচিতি পায়। ‘ঈশ্বরদীর ইতিহাস’ বইয়ে লেখক কামাল আহমেদ উল্লেখ করেছেন সে সময়ে পাবনায় পাঁচটি প্রধান কুঠির অধীনে পুরো অঞ্চলে ৮০-৮২টি নীলকুঠির মাধ্যমে নীল চাষ করা হতো। ব্যাপকভাবে নীল চাষ করায় ঈশ্বরদীর নিয়মিত ফসলের চাষে বিঘ্ন ঘটে। অন্যদিকে কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকেন।

মূলত দাদন পদ্ধতিতে নীল চাষ হতো। অর্থাৎ চাষের মৌসুম শুরুর আগে নীলকুঠি থেকে কৃষকদের নির্দিষ্ট একটি অর্থ দেয়া হতো। চাষের পর ওই অর্থের বিনিময়েই কুঠিয়ালরা নীল গ্রহণ করত। এক্ষেত্রে খরা, বন্যা, চাষের খরচ বৃদ্ধি কোনো কিছুই কুঠির কর্মকর্তারা ধর্তব্যে আনত না। অন্যদিকে কৃষকরা নীল চাষ করতে না চাইলেও কোম্পানির এসব কর্মকর্তা কৃষকদের বাধ্য করত। নীল চাষ ও নীলকরদের অত্যাচার সম্বন্ধে বহু লেখা হয়েছে। তাদের অত্যাচারের মাত্রা ও ধরন কারো অজানা নয়। তবে উল্লেখ করা প্রয়োজন একটা সময়ে এসে জমিদাররাও এদের ওপর ক্রুদ্ধ হয়ে ওঠে। নীলকরদের ঔদ্ধত্য, অত্যাচার ও অহংকারী মনোভাবের কারণে ১৮৫৯-৬০ নাগাদ কৃষকরা বিদ্রোহ করেন। এ সময়ে কৃষকরা নীল চাষ বর্জন করেন। নীল বিদ্রোহের পর ইংরেজরা ঈশ্বরদীতে তাদের প্রশাসনিক কাঠামোয় পরিবর্তন আনে। কালেক্টরদের স্থানে ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়োগ করা হয়। নীল বিদ্রোহের পর মি. ব্রাউন পাবনার কালেক্টর-ম্যাজিস্ট্রেট পদে নিয়োগ লাভ করেন।

নীল বিদ্রোহের প্রায় এক যুগ পর আরেকটি বিদ্রোহ সংঘটিত হয়। ১৮৭২-৭৩ সালে ঘটা প্রজা-বিদ্রোহ নামে পরিচিত এ বিদ্রোহ ঈশ্বরদীর পাশাপাশি বাংলার ইতিহাসেও গুরুত্বপূর্ণ। বলা হয়, এ আন্দোলনের কারণেই ব্রিটিশ সরকার পরবর্তী সময়ে প্রজাস্বত্ব আইন করতে বাধ্য হয়। মূলত এ সময়ে প্রজাদের ওপর জমিদারদের অন্যায়-অত্যাচার বাড়তে থাকে। খাজনাসহ নানা বিষয়ে প্রজাদের ওপর জুলুম করা হলে প্রজারা আন্দোলন শুরু করে। প্রথমে ইউসুফ শাহিতে শুরু হয়ে এ আন্দোলন অন্যান্য পরগনায় ছড়ায়। আন্দোলনের সূচনাকালে নিকটবর্তী একাধিক পরগনার মধ্যবর্তী আন্তঃসম্পর্ক প্রভাব ফেলেছিল। তবে কৃষক-প্রজাদের ক্ষেত্রে তারা খাজনা না দেয়ার মাধ্যমে প্রতিবাদ ও আন্দোলন শুরু করেন।

খাজনা না দেয়া বা কৃষকদের ক্ষোভের পেছনে কারণ ছিল জমিদার কর্তৃক উচ্চহারে খাজনা নির্ধারণ, বাজে জমা আদায়, কবুলিয়ত গ্রহণের চেষ্টা, আদালত কর্তৃক ওই কবুলিয়ত অসিদ্ধ প্রমাণের চেষ্টা ইত্যাদি। এর মধ্যে ১৮৭২ খ্রিস্টাব্দে জমিদাররা আরো অধিক খাজনা দাবি করেন। পাবনার জেলা গেজেটিয়ার (১৯৯০ সালে প্রকাশিত) থেকে জানা যায় বাংলার তত্কালীন আইন অনুসারে পূর্ববর্তী বছরে যথাযথভাবে নোটিস প্রদানের পর নিয়মিত পদ্ধতির মাধ্যমেই কেবল খাজনা বাড়ানো যেতে পারে। পাবনায় এরূপ কোনো নোটিস দেয়া হয়নি। এদিকে জমিদাররা কেবল খাজনা বাড়িয়েই ক্ষান্ত হননি, তারা বলেন, প্রয়োজনে সরকার কর্তৃক আরোপিত অন্যান্য করও দিতে হবে। অধ্যাপক সুনীল সেন তার ‘ভারতের কৃষক আন্দোলন’ বইয়ে লিখেছেন করের পরিমাণ এ সময়ে সাত গুণ বাড়ে। তত্কালীন লেফটেন্যান্ট গভর্নর ১৮৭২-৭৩-এর রিপোর্টে বলেন, রায়তরা যথাযথভাবেই এসব শর্তের বিরোধিতা করে।

কথিত আছে, আন্দোলনের সময়ে প্রজারা পলো ও লাঠি নিয়ে মাছ ধরার ছলে কোনো স্থানে একত্রিত হতো এবং কখনো কখনো মহিষের শিঙ্গা বাজিয়ে লোকজনকে একত্র হওয়ার আহ্বান করা হতো। প্রজা বিদ্রোহকে এ কারণে ‘পলো বিদ্রোহ’ বলেও উল্লেখ করা হয়। পাবনা-ঈশ্বরদী অঞ্চলে প্রজা বিদ্রোহের ব্যাপকতা সম্পর্কে ‘সোমপ্রকাশ’ নামে একটি পত্রিকায় ১৮৭৩ সালের ১৪ জুলাই লেখা হয়—

গত ২৯ জ্যৈষ্ঠ পাবনা জেলার দাশুরিয়া গ্রামে প্রায় তিন হাজার লোক সমবেত হয়ে বেলা ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত দাশুরিয়া ও তৎপার্শ্ববর্তী মানিকেড় (সম্ভবত মানিকনগর), পাকুড়িয়া প্রভৃতি সাত-আটটি গ্রাম লুট করেছে। এ লুণ্ঠনকাজে একজন মৃতপ্রায় ও তিনজন গুরুতর আহত হয়েছে।

সেকালে প্রজা, কৃষক বা জনবিদ্রোহকে সরাসরি ডাকাতি, লুণ্ঠন প্রভৃতি বলে উল্লেখ করা হতো, সে কথা সবাই কমবেশি জ্ঞাত। এ রিপোর্টেও মূলত জনবিদ্রোহকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

এ বিদ্রোহের শুরুতে বহু গ্রাম যুক্ত হলেও এক পর্যায়ে এদের অনেকে পিছু হটেছিল। কিন্তু ১৮৭৩ খ্রিস্টাব্দের জুলাইয়ে ২৬৯টি গ্রাম সংঘবদ্ধভাবে সমিতিতে যোগদান করে। বিদ্রোহের সঙ্গে সঙ্গে নানা দাঙ্গা-হাঙ্গামা চলতে থাকলে এ সময় ফৌজদারি আদালতে মামলার সংখ্যা দাঁড়ায় ৫৪টি। তিন শতাধিক লোককে গ্রেফতার করা হয়। সমিতিতে চাঁদা তোলার মাধ্যমে মামলার খরচ চালানো হতো। দৌলতপুরের ঈশানচন্দ্র রায়, মেঘুল্লা গ্রামের শম্ভূনাথ পালের নেতৃত্বে পাবনা-ঈশ্বরদীর এ আন্দোলন আশপাশের অঞ্চলে অর্থাৎ রাজশাহী দিনাজপুরে ছড়িয়ে পড়লে ব্রিটিশ সরকারের টনক নড়ে। এতে আন্দোলনের প্রভাব কেবল এ অঞ্চলেই নয় বরং পুরো বাংলায় পড়েছিল। ফলে ১৮৮৫ তে বেঙ্গল টেন্যান্সি অ্যাক্ট প্রণীত হয়।

পরবর্তী সময়ে বঙ্গভঙ্গ থেকে শুরু করে সবকটি গণ-আন্দোলনে পাবনার সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করে। তবে এগুলো কেবল বা প্রধানত কৃষক বিদ্রোহ নয়। বিংশ শতাব্দীর বেশির ভাগ আন্দোলনই কোনো না কোনোভাবে জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে পরিণত হয়। এর মধ্যে তেভাগা আন্দোলন, নানকার বিদ্রোহ মূলত কৃষক বিদ্রোহ ছিল। বৃহত্তর সিলেটের নানকার বিদ্রোহ ঈশ্বরদীতে ততটা প্রভাব না ফেললেও তেভাগা আন্দোলন ঈশ্বরদীকে প্রভাবিত করেছিল। ভারতভাগের অব্যবহিত পূর্বে ফসলের ভাগ এবং ন্যায্য অধিকার আদায়ের এ আন্দোলন বাংলার অন্তত ১৯টি জেলায় ছড়িয়ে পড়েছিল। আনুমানিক ৬০ হাজার কৃষক এ আন্দোলনে অংশ নেন, যার মধ্যে ঈশ্বরদীর কৃষকরাও ছিলেন। সরাসরি এ অঞ্চলে তেভাগা সংঘটিত না হলেও ‘আধি নয়, তেভাগা চাই’, ‘নিজ খৈলানে ধান তোলো’, ‘জান দেব, তবু ধান দেব না’ স্লোগানে ঈশ্বরদী মুখরিত হয়ে ওঠে।

তেভাগার প্রভাব শেষ হতে না হতে তেভাগারই প্রভাবে সাঁওতাল বিদ্রোহ শুরু হয়। জমিদারি উচ্ছেদ ও তেভাগার দাবিতে ১৯৪৯ সালে সাঁওতাল বিদ্রোহ শুরু হলে তা নির্দয়ভাবে দমন করা হয়। ঔপনিবেশিক আমলের ঘটনাগুলোকে বিদ্রোহ বলা হলেও ভারতভাগের পরের ঘটনাগুলোকে আন্দোলন বলা ভালো। এক্ষেত্রে রাজনৈতিক দল ও মতাদর্শের নিরিখে নিয়মতান্ত্রিকভাবে দাবি আদায়ের চেষ্টা করা হয়। কৃষকদের দাবি আদায়ের জন্য কৃষক সমিতি তৈরি হয়। তত্কালীন পূর্ব পাকিস্তানের নেতাদের নেতৃত্বে কৃষকদের উন্নয়নকল্পে বেশকিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়। যেমন ১৯৬৩ সালের ১ নভেম্বর ‘কৃষক দাবি দিবস’ পালন করার সিদ্ধান্ত হয়। ওই বছর ঈশ্বরদীর বড়ইচড়ায় আজাহার আলীর নেতৃত্বে একটি সভায় পাটের ন্যায্যমূল্য এবং কৃষকদের উন্নতির লক্ষ্যে তিনি সরকারকে অনুরোধ করেন। ঈশ্বরদী অঞ্চলে এ সময় হাজী মোহম্মদ দানেশ, অমূল্য লাহিড়ী, আবদুল মতিন, জিতেন ঘোষ, আলাউদ্দিন আহমেদ প্রমুখ কৃষক নেতা তত্পর ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের আগ অবধি পাবনা-ঈশ্বরদী অঞ্চলে বিভিন্ন ছোট-বড় সভা-সম্মেলনের মাধ্যমে কৃষকদের অধিকার আদায়ের কার্যক্রম চালু রাখে।

কৃষক বিদ্রোহ বলতে যা বোঝায়, ঈশ্বরদীতে তা মূলত ঔপনিবেশিক সময়েই হয়েছিল। তবে মুক্তিযুদ্ধ এবং বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের অব্যবহিত পূর্ব পর্যন্ত বৃহত্তর উত্তরবঙ্গে ছোট-বড় বেশকিছু আন্দোলন চলমান ছিল। সেকালের ঈশ্বরদী থানা বরাবরই সব ধরনের কৃষক আন্দোলনে নিজেদের জড়িত করেছিল। ঈশ্বরদী কৃষক ও প্রজাদের সেসব আন্দোলন দীর্ঘ এবং গৌরবময় ইতিহাস বহন করে চলছে।

 

মাহমুদুর রহমান: লেখক