অনুবাদ: শওকত হোসেন

দস্তয়ভস্কিকে সাহিত্যিক ব্যক্তিত্বে পরিণত করার স্বীকৃতি যে সাইবেরিয়ায় তার বন্দিত্ব-পরবর্তী সময়ের রচনার সুবাদে মিলেছিল, সেটা কাকতালীয় নয়। শত হোক, আজীবন বৈরিতা, দাসত্ব এবং অসম্মান থেকেই কারাগারের সাহিত্যের সৃষ্টি হয়ে থাকে। হতাশা ও অসহায়ত্বের এমনই আঁতুরঘরে আত্মার ভেতর এক ধরনের পরিবর্তন ঘটে যায়। দস্তয়ভস্কির বেলায়ও তার ব্যতিক্রম ছিল না। মুক্তি পাওয়ার পর ‘নোটস ফ্রম ডেড হাউজ’ প্রকাশ করতে ছয় বছর লাগলেও তার তুলে ধরা জীবন্ত ছবি সন্দেহের কোনো অবকাশ রাখে না যে এমন মহৎ রচনা প্রকৃতই অমন ভীষণ সীমাবদ্ধ পরিস্থিতিতেই দেখা দিতে পারে।

‘এমনকি যাবজ্জীবন দণ্ডিত লোকজনও প্রায় অসম্ভব কিছুর স্বপ্ন দেখেছে। চিরন্তন এ অস্থিরতা নীরবে কিন্তু দৃশ্যমানভাবেই নিজেকে তুলে ধরছে; কোনো মুহূর্তের এ বিচিত্র আকুতি এবং অধৈর্য অজান্তেই  যে আশা প্রকাশ করে, কখনো এতটাই ভিত্তিহীন যে অনেকটা প্রলাপের মতো মনে হয় এবং সবচেয়ে বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, প্রায়ই তা আপাত বাস্তববাদী মনেই জায়গা করে নেয়— এসবই জায়গাটাকে এক ভিন্ন চেহারা এবং চরিত্র দিয়েছে, এতটা যে এসবের সিংহভাগই হয়তো এর মূল বৈশিষ্ট্য জুগিয়ে থাকবে’— বলছেন গল্পের কথক, স্ত্রী হত্যার দায়ে সাইবেরিয়ায় ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত আলেক্সান্দার গোরিয়ানচিকভ। এ আধা আত্মজৈবনিক উপন্যাসের পর, ‘ক্রাইম অ্যান্ড পানিশমেন্ট’ প্রকাশ করার পর আরো বিরাট আলোড়ন তৈরি করেছিলেন তিনি।

তার জীবনকে আগে ও পরে ভাগ করা এমনি তীক্ষ পরিবর্তন বেশ ভালো সময়েই দেখা দেয়! তার সূচনা রচনা ‘পুওর ফোক’-এর (১৮৪৫) মাঝারি সাফল্য এরই মধ্যে অতীত হয়ে গেছে। দ্বিতীয় উপন্যাস ‘দ্য ডাবল’ দিয়ে মুগ্ধ করতে ফের ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। পুওর ফোককে রাশিয়ার প্রথম সামাজিক উপন্যাস আখ্যায়িতকারী ঐতিহাসিক সমালোচক ভিসারিয়ন বেলিনস্কির সঙ্গে এক ধরনের মিল খুঁজে পান তিনি। দস্তয়ভস্কির ওপর তার প্রভাব সংক্ষিপ্ত হলেও গভীর ছিল, তাকে সমাজতন্ত্রের তত্ত্বের দিকে নিয়ে গেছে।

তখনো আর্থিক ঝামেলায় থাকতেই বেশকিছু ছোটগল্প লিখে কোনো মতে টিকে ছিলেন তিনি। এরপর কিছুটা সমর্থনের খোঁজে পেত্রাশভস্কি চক্রে যোগ দেন। প্রগতিশীল চিন্তাচেতনার সাধারণ বুদ্ধিজীবীদের সাহিত্যিক আলোচক গোষ্ঠী পেত্রাশভস্কি চক্র জার নিকোলাসের নিষিদ্ধ ঘোষিত পাশ্চাত্য দর্শন ও সাহিত্যের সমর্থক ছিল। দস্তয়ভস্কির কাছে রাশিয়ার সামাজিক জীবনে বৃহত্তর স্বাধীনতার লক্ষ্যে দলটির মামুলি আলোচনা এরই মধ্যে পাওয়া স্বাধীনতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে বলে মনে হয়নি।&dquote;&dquote;

এদের সম্পর্কে মহান অ্যানার্কিস্ট মিখাইল বাকুনিনের বক্তব্য বিবেচনায় নিলে তেমনই হওয়ার কথা, ‘নেহাতই নিরীহ, নির্দোষ একটা দল।’ হায়, অথচ এ সম্পর্কই তার জীবন বদলে দিয়ে বিপদের মুখে ফেলবে তাকে।

অবশ্য আগে কিংবা পরে নয়, এ অন্ধকার সময়েই মানব মনের অন্ধকার কুলুঙ্গিতে নজর চালিয়েছেন তিনি।

এই পর্যায়ে এ অসামান্য লেখকের মনোভাব বড় ভাইকে লেখা তার চিঠিপত্রে ফুটে উঠেছে। এসব চিঠি সহজ-সরল উচ্চারণে মানুষের আবেগের নানা বর্ণও তুলে ধরেছে। দস্তয়ভস্কির মোকাবেলা করা সব কিছুর— আশা, দুর্দশা, বেদনা, শান্তি, উদ্দীপনা, হতাশা, দুরাশা, ভীতি— বাতায়নে পরিণত হয়েছে এগুলো।

তার অপরাধ? তার বিরুদ্ধে ‘সেন্সরশিপের ভয়াবহতা’ নিয়ে আলোচনায় অংশগ্রহণ, বেলিনস্কির বিপ্লবী চিঠি পাঠ, অনুলিপি তৈরি ও গোগলের কাছে পাঠানোর অভিযোগ তোলা হয়েছে! তার বিরুদ্ধে একটি ‘গোপন ছাপাখানা’ প্রতিষ্ঠার কথা জানার অভিযোগও আনা হয়। শাস্তি? হেনস্তা ও মৃত্যু। এসব চিঠির প্রথমটি পেত্রাশভস্কি চক্রের অন্যান্য সদস্যের সঙ্গে ২৩ এপ্রিল বন্দি হওয়ার পর পেত্রাপলোভস্কি দুর্গে আটকের প্রায় তিন মাস পর ১৮ই জুলাই, ১৮৪৯ তারিখের। চিঠিখানা সত্যিই তার ভাষায় ‘আমার সারাক্ষণ ঝঙ্কৃত স্নায়ুর ছিন্নভিন্ন অবস্থা’ তুলে ধরেছে।

‘একেবারে বেতালে সময় গড়াচ্ছে, এই বড্ড দ্রুত, আবার ঢিমেতালে... টাটকা ছাপ নিয়ে আমার গোড়ার দিকের দিনগুলো আমার আত্মায় ঝড় তোলে আর আমি বারবার অতীত রোমন্থন করি। ভোরের সময়টুকুই সবচেয়ে ভয়াল, আর অন্ধকারে শুয়ে থাকার ৫টি ঘণ্টা সহ্য করা কঠিন।’

চিঠিটি আশা ও ভীতি, বিষাদ ও হর্ষে দোল খেয়ে চলে।&dquote;&dquote;

‘সময়কে অনর্থক বয়ে যেতে দিচ্ছি না; এখনকার মতো এত ভালোবেসে কখনো কাজ করিনি। স্বাধীনভাবে কাজ করতাম যখন, সবসময় সানন্দে নিজের শ্র্রমকে নানাভাবে ভাগ করেছি; কিন্তু এখানে কাজ শেষের উত্তেজনা অনায়াসেই উবে যেতে বাধ্য।’

শেষের দিকে আন্তরিক ও গভীরতার সঙ্গে মানবজীবনের অন্যতম বিশাল সত্যির কথা স্মরণ করছেন তিনি।

‘একঘেয়েমি একটা ক্ষণায়ু ব্যাপার, আর হর্ষ আমার শেষ আশ্রয়ের ওপর নির্ভর করে। মানুষের অবিশ্বাস্য রকমের সহ্যক্ষমতা আর বেঁচে থাকার ইচ্ছা আছে। নিজের ভেতর সেটা এত বেশি দেখব, কখনো ভাবিনি। এখন অভিজ্ঞতা থেকে সেটা জানি।’

মিখাইলের উদ্দেশে পরের দুটো চিঠি আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে লেখা এবং তার ছোট ভাইটি অবস্থার সঙ্গে কিছুটা মানিয়ে নিয়েছেন বলে মনে হয়েছে। তিনি বলছেন, বাগানে হাঁটার অনুমতি আমার কাছে বিরাট আনন্দের ব্যাপার এবং পড়ার জন্য একটা মোমবাতি দেয়াকে বলেছেন তার ‘দ্বিতীয় সৌভাগ্য’।

ভাইয়ের কাছে লেখা দস্তয়ভস্কির পরের চিঠিটা ২২ ডিসেম্বর, ১৯৪৯ লেখা, এই দিন ভাগ্যের ঝটিতি কিন্তু অবিশ্বাস্য বাঁক বদলের অভিজ্ঞতা লাভ করেন তিনি। মহান লেখকের অন্যতম বিখ্যাত চিঠিটিতে অনেক কিছু বলার ছিল তার। মহাবিশ্বের যেন এ পণ্ডিতের দুনিয়া ছিনিয়ে নেয়ার ইচ্ছা ছিল না, কিন্তু ঝড়ো সাগরে ভাসমান নৌকার অনিশ্চিত ভাগ্যের মতো সমাপ্তির প্রায় কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল তার জীবন। মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়ানোর মাত্র কয়েক মিনিট আগে রেহাই দিয়ে সাইবেরিয়ায় চার বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয় তাকে। জীবন-মৃত্যুর মাঝামাঝি কয়েক মিনিটের হতাশা সম্পর্কে তার বক্তব্য দুই ভাইয়ের সুগভীর বন্ধনের কথাই জানাচ্ছে আমাদের।

‘আমার জীবনের মিনিটখানেকের বেশি বাকি ছিল না। ভাই, তোমার কথাই মনে হয়েছে আমার, শুধু তোমার কথা। শেষ ওই মিনিটে কেবল তোমার কথাই আমার মনে ছিল, তখনই বুঝতে পেরেছি, প্রাণপ্রিয় ভাই আমার, তোমাকে কত ভালোবাসি।’

ঠিক মাঝরাতে শিকল পরিয়ে খোলা স্লেজে চাপিয়ে ক্রিসমাস ইভে সেন্ট পিটার্সবার্গ থেকে সাইবেরিয়ার উদ্দেশে দস্তয়ভস্কি এবং তার বন্ধুদের যাত্রা শুরু হয়। ‘ভারাক্রান্ত মন ছিল আমার। বিচিত্র ছন্দে তড়পাচ্ছিল আমার হূিপণ্ড, আর সেটাই যন্ত্রণা ভোঁতা করে দিয়েছে’— ওই রাত সম্পর্কে পরে বলেছেন তিনি।

ঝড়ের তাণ্ডবের ভেতর বিছিয়ে থাকা এশিয়া ও ইউরোপের সীমানায় দৃঢ়তা বজায় রেখেছিলেন তারা, যেখানে কামড়ে ধরা সাইবেরিয়া এবং ওখানে তাদের রহস্যময় ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছিল। প্রায় দুই সপ্তাহ সফর শেষে নববর্ষে তোবোলস্কে পৌঁছান তারা। চূড়ান্ত গন্তব্য ওমস্কের পথে নামার আগে এখানে ছয়দিন কাটিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত দস্তয়ভস্কি ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করতে পারলেও বাইরের জগতের সঙ্গে আর সংযোগ না থাকার বিষয়টি পুরো অবস্থাকে আরো বেশি তাত্পর্যময় করে তোলে। রাশিয়ার জাতীয় জাদুঘরে রাখা একটা চিঠির মাদাম দস্তয়ভস্কির তৈরি অনুলিপি সামনে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অপেক্ষায় থাকার সময় ফিয়দর দস্তয়ভস্কির আশা ও ভীতি তুলে ধরেছে।

‘আমি হতাশ কিংবা নিরাশ হইনি। সব জায়গাতেই জীবন আছে, আমাদের অন্তরে জীবন আছে, আমাদের বাইরের কিছুতে নয়... নিরাশ হওয়ার কিছু নেই, আমার কপালে যত দুর্ভোগই নেমে আসুক না কেন, ভেঙে পড়া চলবে না— এটাই জীবন, এটাই জীবনের দায়িত্ব। আমার রক্ত-মাংসে এই চিন্তা ঢুকে গেছে। হ্যাঁ, এটাই ঠিক! শিল্পের সর্বোচ্চ জীবনের সঙ্গে অবস্থান করা সৃষ্টিশীল সেই মস্তিষ্ক, যে মস্তিষ্ক উপলব্ধি করে আত্মার সর্বোচ্চ চাহিদার সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছিল, সেই মস্তিষ্ক এরই মধ্যেই আমার ঘাড় থেকে ছেঁটে ফেলা হয়েছে। কিন্তু আমার ভেতর হূদয় রয়ে গেছে আর সেই একই রক্তমাংস, এগুলোও ভালোবাসতে, কষ্ট করতে, আকাঙ্ক্ষা করতে আর মনে করতে পারে এবং হাজার হোক এটাই জীবন। ওন ভোয়েত লে সোসিল! আমার জন্য দুঃখ করো না।’

কিন্তু অচিরেই শুরু হয়েছিল তার যন্ত্রণা।&dquote;&dquote;

‘সত্যিই আমি আর কখনো হাতে কলম তুলে নিতে পারব না? চার বছর পরে একটা সম্ভাবনা থাকতে পারে। আমার ভেতর বেঁচে থাকা কত কল্পনা, আমার আনকোরা সৃষ্টি, ধ্বংস হয়ে যাবে, আমার মগজের ভেতর নিশ্চিহ্ন হবে কিংবা আমার রক্তে বিষ ঢেলে দেবে! আমাকে লিখতে না দেয়া হলে, আমি শেষ হয়ে যাব। কিন্তু হাতে কলম নিয়ে ১৫ বছরের কারাবাসও শ্রেয়!’

অতীতের জন্যও দুঃখ করছেন তিনি।

‘অতীতের দিকে যখন ফিরে তাকাই, যখন ভাবি কত সময় অযথা নষ্ট করেছি, কত সময় বিভ্রমে, ভ্রান্তিতে, আলস্যে, বেঁচে থাকার ধরন সম্পর্কে অজ্ঞতায় হারিয়ে গেছে, সময়কে মূল্য দিইনি, কতবার নিজের আত্মার বিরুদ্ধে পাপ করেছি, আমার হূদয়ে তখন রক্ত ঝরে।’

ঠিক আছে, ভাই আমার! মনের ভেতর বেদনা ছাড়াই আমার কথা মনে করো। তোমার জীবন সাজাও, ভবিষ্যৎ ঠিক করো’— ওমস্কের কঠোর খাটুনির অন্ধকার স্যাঁতসেঁতে চারটে বছর তাকে শেষ করে দেবে না, ভাইকে আশ্বস্ত করে বলছেন তিনি।

‘জীবন একটা উপহার, জীবনই সুখ, একেকটা মিনিট সুখের একেকটা যুগ হয়ে উঠতে পারে। সি জিউনেসে সেভাইত! ভাই! কসম খেয়ে বলছি, আমি আশা হারাব না, বিশুদ্ধতায় আমার উদ্দীপনা আর মন রক্ষা করব। আরো ভালো কিছু হিসেবে পুনর্জন্ম হবে আমার। এটাই আমার একমাত্র আশা, আমার পুরো স্বস্তি।’

তার মানে এই নয় যে, ব্যাপারটা কঠিন ছিল না। একবার বরফের ভেতর টানা কাজ করতে গিয়ে পায়ে ঘা হয়ে গিয়েছিল। অবিরাম অন্য বন্দিদের কোপ এবং সংস্কারেরও মোকাবেলা করতে হয়েছে। তাকে তথাকথিত ‘অভিজাত’ ভেবেছে তারা, মানুষের সঙ্গে অন্যায় আচরণের পর এখন বিপদে পড়ে বন্ধু সাজতে চান। পড়তে পারছিলেন না তিনি, আর পারলেও কৌশলী হতে হয়েছে। নিজস্ব সময় না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন।&dquote;&dquote;

রাশিয়ান ঔপন্যাসিক ফিয়দর দস্তয়ভস্কির জীবন ও কর্মের নেতৃস্থানীয় বিশেষজ্ঞ, মহান জীবনীকার জোসেফ ফ্র্যাংকের জোরালো এবং বিশ্বাসযোগ্য যুক্তির কথা ভাবলে বোঝা যায়, এসব অভিযোগ তার স্নায়ুর ওপর চাপ ফেলছিল। ফ্র্যাংকের পাঁচ খণ্ডে রচিত দস্তয়ভস্কির জীবনী বিশ শতকের অন্যতম প্রধান জীবনী হিসেবে প্রশংসিত।

জোসেফ ফ্র্যাংক বিশ্বাসযোগ্যভাবেই উপসংহারে পৌঁছেছেন যে, ওমস্কে থাকার সময় দস্তয়ভস্কি রাশিয়ার শ্রমিক শ্রেণী সম্পর্কে তার দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে দেয়া পরিবর্তনের ভেতর দিয়ে গেছেন। ‘আলোর অপেক্ষায় থাকা বর্বর’— তরুণ বিপ্লবী হিসেবে কৃষকসমাজ সম্পর্কে নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি— থেকে তিনি তাদের খোদ আধ্যাত্মিক আলোর প্রতিভূ হিসেবে ভাবতে শুরু করেছেন। খুনি, চোর এবং খুচরো অপরাধীদের সান্নিধ্যে থাকতে বাধ্য হয়ে ‘দস্তয়ভস্কি রাশিয়ান কৃষকসমাজের নৈতিক সৌন্দর্য, এর ভালোবাসা এবং দীর্ঘদিন ধরে এর বিরুদ্ধে অন্যায়কারীদের ক্ষমার অসীম ক্ষমতায় বিশ্বাসী হয়ে উঠেছেন’— এভাবেই লিখেছেন ফ্র্যাংকে। দস্তয়ভস্কি লিখেছেন,

‘বিশ্বাস করো, ওদের ভেতর ছিল গভীর, শক্তিশালী চমত্কার স্বভাব এবং প্রায়ই আমাকে তা রুক্ষ খোলসের ভেতর সোনা আবিষ্কারের বিপুল আনন্দ দিয়েছে।’

এই চিঠির শেষের দিকে দস্তয়ভস্কি তার মহত্ত্বের ভিত্তি হয়ে ওঠা অসাধারণ পরিবর্তনকে ধরার প্রয়াস পেয়েছেন।

‘ওই চারটি বছর আমার আত্মা, আমার বিশ্বাস, আমার মন এবং আমার হূদয় কেমন পরিবর্তনের ভেতর দিয়ে গেছে, তোমাকে সেটা বলার চেষ্টাও করব না। তবু অনন্ত একাগ্রতা, তিক্ত বাস্তবতা থেকে নিজের ভেতর পলায়ন সত্যিই ফল দিয়েছে। এখন আমার অনেক আশা আর প্রয়োজন, অন্য সময় যার কথা কখনো ভাবিনি।’

এসব চিঠি এক বন্দি কথাশিল্পীর মনোমুগ্ধকর মনোভাব তুলে ধরে।

 

সূত্র: আর্ট হিস্ট্রি