সংকলন, অনুবাদ ও সম্পাদনা: আন্দালিব রাশদী
আমি কখনো কোনো বই সম্পাদনা করিনি, কোনো সংকলনের সংকলক হিসেবে কাজ করিনি। এখন মনে হচ্ছে স্বল্প আয়েশে রসিকতার সংকলন ও সম্পাদক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা যায়, খুশবন্ত সিং পথ দেখিয়েছেন। আমার সস্তার মোবাইল ফোনটির দম আজ যায়, কাল যায়— এমন অবস্থা; এদিকে স্পেস সংকটও দেখা দিয়েছে। নতুন কোনো বার্তা এলে পুরনো কিছু ডিলিট না করলে ঠাঁই দেয়া যায় না।
সম্ভবত আমার বন্ধু-স্বজনরা ধরে নিয়েছেন আমার অঢেল সময়, তাদের রসময় বার্তা পড়েও যদি কিছুটা সময় কাটাতে পারি, মন্দ কী। কিছু বার্তা ইংরেজিতে, কিছু বাংলায়। ইংরেজিগুলোর নির্বাচিত ক’টি বাংলা অনুবাদ করছি, বাংলাগুলোর নির্বাচিত ক’টি যেমন আছে প্রায় তেমনভাবেই তুলে ধরছি।
এগুলো সবই পাবলিক ডোমেইনের আওতায়, সুতরাং কপিরাইটের দাবিদার নেই, সংকলক হিসেবে যদি কিছুটা অধিকার প্রাপ্য হয়ে থাকে, তাও প্রত্যাহার করে নিচ্ছি। আমাকে যারা পাঠিয়েছে, তাদের কাছে কৃতজ্ঞতা, তারা যাদের কাছ থেকে পেয়েছে কৃতজ্ঞতা তাদের কাছে; কোনো সন্দেহ নেই বহু হাত ঘুরেই আমার কাছে এসেছে, আমি নিশ্চিত আমি যা পেশ করতে যাচ্ছি, তার অনেকগুলো আপনার ফোনেও আছে! পড়ে যারা রসবোধ করবেন, কৃতজ্ঞতা তাদের কাছে; যারা ক্ষিপ্ত হবেন, কৃতজ্ঞতা তাদের কাছেও, কারণ না পড়ে তো আর ক্ষেপেননি। বলা আবশ্যক খ্যাতিমান লেখকদের রচনা থেকেও দু-একটি এপিসোড উঠে এসেছে। কপিরাইটের ঝামেলা যখন নেই, সমস্যা কী?
পশ্চিমবঙ্গের (নাকি বাংলা!) কিছু রসিকতাও ঢুকে পড়েছে। এগুলো সবই হোয়াটসঅ্যাপ ও ভাইবার মাধ্যমে পাওয়া। কপিরাইটের প্রশ্ন তার পরও যদি কেউ তোলেন, আমার জ্ঞাত ও অজ্ঞাত প্রেরকদের ফোন নম্বর অন্তত দিতে পারব, উৎস তারাই জানাবেন।
বন্ধু দিবসে পাওয়া
পাড়ার দিনেশ বাবু আর সুরেশ বাবুর মধ্যে গাঢ় বন্ধুত্ব। সুরেশ বাবু একদিন নিজের স্ত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি করেন; খবর পাওয়ামাত্র দিনেশ বাবু তত্ক্ষণাৎ হাসপাতালে হাজির হন।
দিনেশ বাবু উত্কণ্ঠিত হয়ে,
— কী হয়েছে বৌঠানের ...?
— কী আর বলব। বাথরুমে স্নান করছিল, মাথা ঘুরে পড়ে যায়। আর পড়ার সময় মাথা ঠুকে যায় কলের ট্যাপে। মাথা ফেটে একেবারে রক্তারক্তি কাণ্ড!
— ওহ... সাংঘাতিক! এখন কেমন আছে?
— এখন আউট অব ডেঞ্জার। ডাক্তার বলেছে, যদি আর একটু দেরি হতো, কোমায় চলে যেত।
— ওই অবস্থায় বৌঠান তোকে ডাকল কীভাবে?
— আরে পাগল ও কী করে ডাকবে...? ও তো অজ্ঞান হয়ে পড়েছিল। ভাগ্য ভালো সামনের বাড়ির কেষ্ট বাবু বাথরুমের খোলা জানালা দিয়ে ওর স্নান করা দেখছিলেন। উনি না থাকলে যে কী হতো, ভাবলেই শিউরে উঠি।
(কেষ্ট বাবুর দীর্ঘায়ু কামনা করি। সত্যি আজকালকার দিনে এমন দরদি প্রতিবেশী পাওয়া ভাগ্যের কথা!)
শুভ বন্ধু দিবস।
ভোটকেন্দ্রে চাচীর দেখা
‘চাচা এবারের নির্বাচনেও চাচীর দেখা পেলেন না’
আমাদের পাড়ায় এক চাচা ছিলেন। ভোট দেয়ার পর বাইরে এসে পোলিং এজেন্টকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘বেটা তোমার চাচী কি ভোট দিয়ে চলে গেছে?’
পোলিং এজেন্ট লিস্ট চেক করে বলল, ‘হ্যাঁ চাচা, চাচী ভোট দিয়ে চলে গেছেন।’
তখন চাচা গভীর দুঃখের সঙ্গে বললেন, ‘ইশ যদি একটু তাড়াতাড়ি আসতাম, তবে দেখা হতো।’
পোলিং এজেন্ট অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল, ‘কেন চাচা? চাচী কি আপনার সঙ্গে থাকেন না?’
চাচা বললেন, ‘বেটা আজ ১৫ বছর হয়ে গেছে তোমার চাচী মারা গেছে। কিন্তু প্রতি বছর ভোটের সময় এসে ভোট দিয়ে চলে যায়। কোনো দিন দেখা হয় না।’
টাকা-পয়সার গল্প
যার টাকা নেই বিয়ে করতে চায়, যার টাকা আছে স্ত্রীর কাছ থেকে তালাক চায়।
যার টাকা নেই, স্ত্রী তার সেক্রেটারি হয়ে যায়, যার টাকা আছে সেক্রেটারি, তার স্ত্রী হয়ে যায়।
যার টাকা নেই কোনো রকম শাকপাতা খায়, যারা টাকা আছে বড় রেস্তোরাঁয় একই শাকপাতা খায়।
যার টাকা নেই সাইকেলে চড়ে যায়, যার টাকা আছে সে-ও দুবেলা স্থির সাইকেলে চড়ে এক্সারসাইজ করে।
যার টাকা নেই খাবার কামাই করতে হাঁটে, যার টাকা আছে খাবারটা পোড়াতে হাঁটে।
যার টাকা নেই সে টাকা খায়, যার টাকা আছে টাকা তাকে খায়।
(ভাষান্তরিত)
মুম্বাই এক্সপ্রেস
একজন ব্যাংক ম্যানেজার ট্রেনে মুম্বাই থেকে বেঙ্গালুরু যাচ্ছেন। যখন ট্রেন চলতে শুরু করল, ট্রেনের এয়ারকন্ডিশনড কুপে তিনিই কেবল যাত্রী।
কিছু সময় পর একজন সুন্দরী নারী ঢুকলেন এবং তার উল্টো দিকে বসলেন। ম্যানেজার বেশ পুলকিত। সুন্দরী যখন তার দিকে তাকিয়ে মিষ্টি করে হাসলেন ম্যানেজার আরো খুশি।
সুন্দরী যখন তার গা ঘেঁষে পাশে গিয়ে বসেন। তিনি তো খুশিতে ফেটে পড়ছেন।
তারপর সুন্দরী তার দিকে ঝুঁকে পড়ে ফিসফিস করে বললেন, ‘তোমার নগদ টাকা, কার্ড, ফোন সব আমার কাছে তুলে দাও। নইলে আমি চিত্কার করে বলব তুমি আমাকে ধর্ষণ করতে চেষ্টা করছিলে।’
ম্যানেজার নির্বোধের মতো কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে নিজের ব্যাগ থেকে এক টুকরো কাগজ ও কলম বের করে লিখলেন, ‘আমি দুঃখিত, আমি বধির ও বোবা। আপনি কি বলছেন অনুগ্রহ করে কাগজে লিখে দিন।’
সুন্দরী নারী মুখে যা বলেছেন, সবটা লিখে কাগজটা তার হাতে দিলেন।
ম্যানেজার কাগজটা নিয়ে সুন্দর করে ভাঁজ করে পকেটে রাখলেন। তারপর দাঁড়িয়ে স্পষ্ট স্বরে বললেন, ‘এবার চিত্কার করুন এবং চেঁচান।’
এ গল্পের নীতিশিক্ষা: দলিলীকরণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
(ভাষান্তরিত)
প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান
ইমরান খান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিচ্ছেন। ইমরান খান বললেন, ‘কবুল, কবুল, কবুল।’
প্রধান বিচারপতি বললেন, ‘জনাব আস্তাগফিরুল্লা বলুন। এটা বিয়ে নয়, শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠান!’
প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও তার স্ত্রী ভাবছেন কোথায় থাকবেন— প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত বাসভবনে না নিজেদের, মানে ইমরানের বাড়িতে। দু’টোয় দুই রকম সমস্যা।
প্রধানমন্ত্রীর বাড়ি: এ পর্যন্ত কোনো প্রধানমন্ত্রী তার মেয়াদ পুরো করতে পারেননি।
ইমরান খানের বাড়ি: এ পর্যন্ত ইমরানের কোনো স্ত্রী তার মেয়াদ পুরো করতে পারেননি।
জরুরি চিকিৎসা সেবা
বিজ্ঞানের শিক্ষক বললেন, ‘যদি দেখো কোনো মেয়ে অজ্ঞান হয়ে গেছে, তাহলে তত্ক্ষণাৎ তার চোখেমুখে জলের ছিটে দেবে। আর জল যদি সেই মুহূর্তে না পাওয়া যায়, তাহলে মাউথ টু মাউথ মানে মুখে মুখ লাগিয়ে জোরে জোরে ফুঁ দেবে যাতে হাওয়া ফুসফুস পর্যন্ত পৌঁছায়। তারপর দুই হাতের তালু দিয়ে মেয়েটির বুকে চাপ দেবে যতক্ষণ পর্যন্ত না জ্ঞান আসছে।
বুঝেছ তোমরা?’
এবার তিনি বললেন, ‘কারো কোনো প্রশ্ন আছে?’
ছাত্র বলল, ‘মেয়েটিকে কীভাবে অজ্ঞান করা যাবে।’
দাম্পত্য ও সংসার
এক বয়স্ক ভদ্রলোক উকিলের কাছে এসেছেন ডিভোর্স মামলা করতে।
উকিল বললেন, ‘কতদিন ধরে সংসার করছেন?’
— তিরিশ বছর!
— কেন ডিভোর্স করতে চান?
— কারণ আমার স্ত্রী রেগে গেলে আমার দিকে জিনিসপত্র ছুড়ে মারে।
— সংসারে এসব হয়। জীবন আর ক’দিনের? তার চেয়ে এত দিন যখন সহ্য করেছেন, বাকি জীবনটাও করুন।
— আর সহ্য করতে পারছি না।
— কেন?
— আগে জিনিস ছুড়লে আমার গায়ে লাগত না। তিরিশ বছর ধরে প্র্যাকটিস করার কারণে এখন নিশানা আর মিস হয় না।
একজন বয়স্ক স্বামীর প্রার্থনা
হে ঈশ্বর তুমি আমাকে শৈশব দিয়েছিলে, নিয়ে গেছ। যৌবন দিয়েছিলে, নিয়ে গেছ।
একটা বউ দিয়েছ অনেক দিন হয়ে গেল। ঈশ্বর তোমাকে জাস্ট মনে করিয়ে দিলাম।
***
আপনার জীবনে যদি অনেক নারী থাকে, তাহলে আপনি ট্রাম্প সাহেবের মতো সফল।
আপনার জীবনে যদি কোনো নারী না থাকে, তাহলে আপনি মোদি বাবুর মতো সফল।
সত্যিকারের সমস্যা তাদেরই, যাদের জীবনে কেবল একজন মাত্র নারী।
***
পিস্তল নিয়ে ডাকাত ব্যাংকে ঢুকল এবং সব টাকা চাইল। টাকা পাওয়ার পর ডাকাত পিস্তল ঘুরিয়ে ব্যাংকে আসা গ্রাহকদের একজনকে জিজ্ঞেস করল, ‘তুই কি আমাকে ব্যাংক ডাকাতি করতে দেখেছিস?’
লোকটি বলল, ‘হ্যাঁ, দেখেছি।’
অমনি ডাকাত তার মাথা বরাবর গুলি করল।
ডাকাত পাশের দম্পতির দিকে পিস্তল তাক করে প্রথমে স্বামীকে জিজ্ঞেস করল, ‘তুই কি আমাকে ব্যাংক ডাকাতি করতে দেখেছিস?’
লোকটি বলল, ‘জ্বি না স্যার, আমি দেখিনি, কিন্তু আমার স্ত্রী দেখেছে।’
গল্পের নীতিশিক্ষা: যখন সুযোগ আসে ব্যবহার করুন।
(ভাষান্তরিত)
* * *
একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, ঘরে কাপ ভাঙার পরেও যদি নিস্তব্ধতা বজায় থাকে, তাহলে বুঝে নিতে হবে কাপটি বউ ভেঙেছে, আর দোষটাও কাপেরই ছিল।
ইংলিশ জানা খুনি
এক সুন্দর সকালে একজন ইংলিশ বিলিয়নেয়ার তার কুকুর নিয়ে পার্কে হাঁটতে বেরিয়েছেন। হঠাৎ এক পাকিস্তানি পিস্তল হাতে জঙ্গল থেকে বেরিয়ে আসে এবং কুকুরটিকে পরপর তিনটি গুলি করে। কুকুর ঘটনাস্থলেই মারা যায়।
বিলিয়নেয়ার চেঁচিয়ে হত্যাকারীকে বললেন, ‘তুমি কেন আমার কুকুরকে মারলে?’
হত্যাকারী বলল, ‘‘আপনার স্ত্রী আমাকে ৫০ হাজার পাউন্ড দিয়ে বলেছেন, ‘যাও ওই সান অব অ্যা বিচকে মেরে এসো।’ আমি একজন পেশাদার খুনি।’’
হতভম্ব বিলিয়নেয়ারের সম্বিত ফিরল।
তিনি হত্যাকারীকে আলিঙ্গন করলেন, তার চোখ বেয়ে আনন্দের অশ্রু নামল।
তিনি হত্যাকারীকে বললেন, ‘আমি তোমার ইংলিশ টিচারের কাছে আজীবন কৃতজ্ঞ থাকব।’
(ভাষান্তরিত। এই হত্যাকারী পাকিস্তানি না হয়ে বাংলাদেশী বা ভারতীয়ও হতে পারত। তিন দেশেই ইংরেজি শেখার ধরাটা প্রায় একই রকম।)
বিপদের দিনে আকবরের জাঙ্গিয়া
স্কুলটিচার দীননাথ বাবুর স্ত্রী মাঝরাতে উঠে দেখলেন, স্বামীর দুই চোখ লাল, মাথার চুল এলোমেলো। পরীক্ষার খাতা খুলে একদৃষ্টে খাতার দিকে তাকিয়ে।
স্ত্রী: এ কী? রাত ১০টা থেকে দেখছি এই খাতাটা নিয়েই বসে আছ? কেন?
শিক্ষক: ওকে কত নম্বর দেব বুঝতে পারছি না।
স্ত্রী: কেন? কী লিখেছে?
শিক্ষক: লিখেছে আকবর বিপদের দিনে জাঙ্গিয়া পরিতেন না।
স্ত্রীর চোখ কপালে উঠে গেল। এ আবার কী? তিনি স্বামীকে প্রশ্ন করলেন, জাঙ্গিয়া পরিতেন না? মানে তখন তো জাঙ্গিয়ার কোম্পানিই ছিল না।
শিক্ষক: সেটাই তো ভাবছি কেন লিখল?
স্ত্রী চলে গেলেন। ভোর রাত্রে একটা হল্লার আওয়াজে স্ত্রীর ঘুম ভেঙে গেল। উঠে দেখলেন, স্বামী অত্যন্ত আনন্দের ভঙ্গিতে উন্মাদের মতো সারা ঘরে নেচে বেড়াচ্ছেন, সারা ঘরে খাতা-কলম ছাড়ানো। স্ত্রীকে দেখে স্বামীর উল্লাস দ্বিগুণ বেড়ে গেল। স্ত্রীকে জড়িয়ে ধরে বললেন, গিন্নি নম্বর দিয়েছি।
স্ত্রী: দিয়েছ? কত?
শিক্ষক: শূন্য
স্ত্রী বললেন, সারা রাত জেগে শূন্য দিলে?
শিক্ষক: হ্যাঁ।
স্ত্রী: কিন্তু কেন?
শিক্ষক: মাল টুকলি করেছে।
স্ত্রী: টুকলি? তার মানে আরো অনেকে লিখেছে?
শিক্ষক: না।
স্ত্রী: তবে?
শিক্ষক: দেখতে ভুল করেছে। যারটা দেখে টুকেছে, সে লিখেছিল ‘বিপদের দিনে আকবর ভাঙিয়া পড়িতেন না।’
কয়েকটি সংজ্ঞা
সুন্দরী মেয়েদের মোহময়ী ডাক উপেক্ষা করে অনায়াসে চলে যাওয়ার মতো অলৌকিক ক্ষমতা নিয়ে যে পুরুষ জন্মায়, তাকে রিকশাওয়ালা বলে...
আর মোহময়ী নারী দ্বারা সর্বদা পরিবেষ্টিত ও কাঙ্ক্ষিত হয়েও যে কর্তব্যে অবিচল থাকে তাকে ফুচকাওয়ালা বলে...
প্রাচীনকালে পরিবার, নিদ্রা, আহার, কর্ম— সবকিছু ত্যাগ করাকে সন্ন্যাস বলা হতো।
কলিযুগে এটাকেই অনলাইন বলা হয়।
ফেসবুক বন্ধু
ট্রাফিক সিগনালে গাড়ি থামতেই এক ভিক্ষুক এসে গাড়ির জানালায় টোকা দিয়ে ভিক্ষা চাইতে শুরু করল।
গাড়ির ভদ্রমহিলা গ্লাস নামিয়ে বললেন, তোমার চেহারাটা আমার চেনা চেনা মনে হচ্ছে।
ভিক্ষুক বলল, জ্বি ম্যাডাম আমরা মানে, আমি আর আপনি ফেসবুক ফ্রেন্ড।
লাইলি-মজনু
একদিন দুপুরে বড় দাও মারতে এক বাসায় ঢুকে পড়ল দুই চোর। পুরো ফ্লাটে শুধু স্বামী-স্ত্রী। চোর প্রথমে পুরুষটাকে এবং তারপর স্ত্রীকে বেঁধে ফেলল। এরপর হাত-পাত বাঁধা লোকটির চোখের সামনে বিশাল ছুরি নাচিয়ে হুঙ্কার ছাড়ল: সোনাদানা, টাকা-ডলার, মোবাইল কোথায় কী আছে, জলদি বল।
পুরুষ বলল: সব নিয়ে যাও, সব দিয়ে দেব। শুধু ওর বাঁধনটা খুলে দাও। ওকে চলে যেতে দাও প্লিজ।
এক চোর আরেক চোরকে বলে: পুরো লাইলি-মজনুর প্রেম কাহিনী দেখতেছি মনে হইতাছে।
‘প্লিজ কথা বাড়িও না। আমার এটিএম কার্ডটাও দেব পাসওয়ার্ডসহ। তবুও ওর বাঁধনটা খুলে দাও তাড়াতাড়ি...’
চোরদের একজন বলল, বউকে এত ভালোবাসে মানুষ।
‘আরে ও আমার বউ না পাশের ফ্লাটের ভাবি। আমারটা কিছুক্ষণের মধ্যেই এসে পড়বে। জলদি ভাই, পায়ে পড়ি, ভাবির বাঁধনটা খুলে দে।’
ফার্স্ট পিরিয়ড মিস
একটি ছেলে ফার্স্ট পিরিয়ডের ঘণ্টা পড়ার পর ক্লাসে ঢুকেছে।
শিক্ষক: তুই পাঁচ-দশ মিনিট নয়, একটা ফুল পিরিয়ড মিস করেছিস। পিরিয়ড মিস করার মানে বা গুরুত্ব বুঝিস?
ছাত্রটি মাথা নিচু করে: হ্যাঁ স্যার বুঝি।
শিক্ষক: কি বুঝিস হতভাগা?
ছাত্র: পাশের বাড়ির দিদির একটা পিরিয়ড মিস হয়েছে বলে ওর মা অজ্ঞান হয়েছে, ওর বাবার হার্ট অ্যাটাক হয়েছে। আর আমার দাদা বাড়ি থেকে পালিয়েছে।
সিনথিয়ার ফোন নম্বর
কুদরত সাহেব ভুলে মোবাইল ফোন ফেলে অফিসে চলে গেছেন। অফিস থেকে ফোন করে স্ত্রীকে বললেন, লাঞ্চের সঙ্গে ফোন ড্রাইভারের হাতে দিয়ে দিয়ো।
স্ত্রী এই সুযোগে ফোনটা হাতে নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি শুরু করল। ফোনবুকে ঢুকে দেখে তিনটি সন্দেহজনক কন্টাক্ট: গর্জিয়াস উইমেন, প্রিটি লেডি এবং মাইলাভ।
স্ত্রীর মাথা গরম হওয়ার জোগাড়।
আজ হাতেনাতেই ধরবে।
প্রথম ফোন করল গর্জিয়াস উইমেনকে।
— হ্যালো বাবাজি কেমন আছ? আমার মেয়ে কেমন আছে? অসময়ে ফোন করলে যে? কোনো অসুবিধে?
— মা আমি তোমার মেয়ে। তোমাদের জামাই আজ ভুল করে ফোন ফেলে অফিসে চলে গেছে। এই ফাঁকে তোমার সঙ্গে কথা বলতে একটু রিং দিলাম।
স্ত্রী একটা ধাক্কা খেল। আজকাল মানুষ নিজের মাকেই পাত্তা দেয় না, আর তার স্বামী শাশুড়ির নাম সেভ করেছে গর্জিয়াস উইমেন হিসেবে। মানুষটা আসলেই নরম মানের। তবুও প্রিটি লেডিকে একবার ফোন করে দেখা যাক।
— হ্যালো, এত দিনে একমাত্র শালীকে মনে পড়ল।
— ঋতু, আমি তোর আপা বলছি রে। তোর দুলাভাই ফোনটা ফেলে অফিসে চলে গেছে।
স্ত্রী বিগলিত হয়ে যায়, তার বোনকে বলেছে প্রিটি লেডি। কী উদার মানুষ কুদরত। কিন্তু মাই লাভটাকে রিং দিতেই যখন নিজের ফোনটা বেজে ওঠে তার চোখ দিয়ে কান্না নেমে আসে— ফেরেশতার মতো এমন স্বামীকে সন্দেহ করা গুরুতর অন্যায়। আনন্দে বিহ্বল স্ত্রী তার সঞ্চিত ১০ হাজার টাকা তুলে দেয় স্বামীর কাছে, এ তার কৃতজ্ঞতার নিদর্শন।
স্বামী টাকা পেয়ে গার্লফ্রেন্ড সিনথিয়ার জন্য শাড়ি কিনে তাকে ফোন দেয়, আসছি।
কিন্তু স্ত্রী সিনথিয়ার নম্বরটা কেন পায়নি?
কেমন করে পাবে ওটা গফুর মিয়া মোটর মেকানিক নামে সেভ করা।
(ঈষৎ সংক্ষেপিত)
বণ্টননামা
এক বৃদ্ধ হাসপাতালে তার শেষ নিঃশ্বাস নিচ্ছিল। বেডের পাশে একজন নার্স, তার স্ত্রী দুই ছেলে ও এক মেয়ে ছিল।
বৃদ্ধ বড় ছেলেকে বলল, বাবা আমি তো আর বেশিক্ষণ বাঁচব না। তাই পার্ক স্ট্রিটের ১৫টি বাড়ি তুই নে।
মেয়েকে বলল: ধর্মতলার ১৭টি বাড়ি তুই নে।
ছোট ছেলেকে বলল, তোকে আমি খুব ভালোবাসি, তাই বেহালার ২০টি বাড়ি তোর।
স্ত্রীকে বলল, আমার যাওয়ার পর কারো কাছে তোমাকে হাত পাততে হবে না, তাই ডিএলএফের ১০টি ফ্ল্যাট তুমি রাখো।
তখন নার্স তার স্ত্রীকে বলল, আপনি কত ভাগ্যবান। আপনার স্বামী আপনাদের জন্য কত সম্পত্তি দিয়ে যাচ্ছেন।
স্ত্রী বলল: কিসের সম্পত্তি! ও দুধওয়ালা! বাড়ি বাড়ি দুধ দেয়, আমাদের সকালে দুধ দেয়ার ডিউটি ভাগ করল।
রাজা-রানীর গল্প
রাজা-রানীর গল্প শুনে সাত বছরের এক শিশু মাকে বলল, মা আমি রাজার মতো পাঁচটা বিয়ে করব। এক রানী রান্না করবে, এক রানী বাজার করবে, এক রানী এটা করবে, আরেক রানি ওটা করবে .... ইত্যাদি।
মা জিজ্ঞেস করল, রাতে কোন রানির পাশে শুতে যাবি?
— রাতে আমি তোমার কাছেই শোব মা।
আনন্দে মায়ের চোখে পানি এসে গেল।
মা জিজ্ঞেস করল, তাহলে রানীদের সঙ্গে কে শোবে?
— কেন বাবা শোবে।
আনন্দে বাবার চোখে পানি এসে গেল।
পিশাচের হাসি
ব্যাংকে টাকা জমা দেয়ার লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। পেছনে এক ভদ্রলোক একটা পৈশাচিক হাসি দিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছেন। আমি একটু ইতস্তত হয়ে পাশ ফিরতে যাচ্ছিলাম।
তিনি আমাকে ডেকে বললেন, জানেন ভাই কেন হাসছি?
স্বভাবতই বললাম, আমি কীভাবে জানব, ভাই?
তিনি আবার সেই পৈশাচিক হাসিটা দিয়ে হাত উঁচিয়ে বললেন, ওই যে দেখছেন না ক্যাশ কাউন্টারের মেয়েটা, উনি আমার এক্স-গার্লফ্রেন্ড।
আমি বললাম, তাহলে তো আপনার কষ্ট পাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু আপনি খুশি দেখছি।
তিনি বললেন, ‘আমার ভালোবাসার বিয়ে প্রত্যাখ্যান করে চলে গিয়েছিল বছরখানেক আগে; পরে শুনেছি এখানে চাকরি নিয়েছে। তারপর থেকে প্রতি মাসে ওর কাছে এসেই আমার বউয়ের নামের অ্যাকাউন্টে টাকা জমা দিয়ে যাই’— বলে আবারো সেই হাসি।
বিয়ে দিয়েই ছাড়ব কল সেন্টার
‘বিয়ে দিয়েই ছাড়ব’ কল সেন্টারে এক ভদ্রলোক ফোন করছেন।
শুরুতেই মহিলা কণ্ঠ, ‘নমস্কার। বিয়ে দিয়েই ছাড়বতে আপনাকে স্বাগত জানাই। নিজের বিয়ের জন্য ১ টিপুন, মেয়ের বিয়ের জন্য ২ টিপুন, ছেলের বিয়ের জন্য ৩ টিপুন ... বিশেষজ্ঞের পরামর্শের জন্য ৯ টিপুন।
ভদ্রলোক ৯ টিপলেন।
— নমস্কার। আমি পুণ্ডরীকাক্ষ পুরকায়স্থ বিবাহ বিশেষজ্ঞ। আপনাকে কীভাবে সাহায্য করতে পারি।
— আজ্ঞে আমি জানতে চাইছিলাম দ্বিতীয় বিয়ের জন্য কী টিপব।
— প্রথম বউয়ের গলা টিপুন।
বাবা আরামদেবের নীতিবাক্য
একটা খরগোশ তার জীবনকালে দৌড়াদৌড়ি করে, লাফালাফি করে, মাস্তি করে, তবুও সে মাত্র ১৫ বছর পর্যন্ত বাঁচে।
অন্যদিকে একটা কচ্ছপ তার জীবনকালে না দৌড়াদৌড়ি করে, না লাফালাফি করে, তবুও ৩০০ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে।
বাবা আরামদেবের নীতিকথা: এক্সারসাইজ, কাজকর্ম— সব ছাড়ুন। নিশ্চিত হয়ে ঘুমান। বাইরে ঠাণ্ডা পড়ছে...।
ডাকওয়ার্থ লুইস
বউয়ের সঙ্গে কথা কাটাকটি হলো। বউ ঝগড়া শুরু করল, আমিও ঝগড়া শুরু করলাম। বউ চিত্কার করল, আমিও ধমক দিলাম। তারপর বউ কেঁদে উঠল, দুই চোখ বেয়ে বৃষ্টির মতো জল পড়তে লাগল এবং বউ ডাকওয়ার্থ লুইস নিয়মে জিতে গেল।





