বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির ইতিহাসে ন্যাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড একটি বিশিষ্ট নাম। ২০০ বছর আগে ১৭৭৮ সালে তাঁর বাংলা ব্যাকরণগ্রন্থ ‘এ গ্রামার অব দ্য বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ’ প্রকাশিত হয়। কিন্তু এই আদি ব্যাকরণ রচনা ছাড়াও তাঁর আরো অনেক কৃতিত্ব রয়েছে, যে কারণে তাঁকে আমরা পথিকৃতের সম্মান দিতে পারি:
ক. হ্যালহেডের বাংলা ব্যাকরণ ইংরেজি ভাষায় রচিত হলেও এ গ্রন্থের উদাহরণগুলো বাংলা হরফে মুদ্রিত; তাই এ গ্রন্থ বাংলা হরফে ছাপা প্রথম পুস্তক।
খ. এ ব্যাকরণের অন্তর্ভুক্ত ছন্দ-বিষয়ক অধ্যায়টি বাংলা কবিতার ছন্দ নিয়ে লেখা প্রথম আলোচনা।
গ. স্যার উইলিয়াম জোন্স ১৭৮৬ সালে সংস্কৃত, গ্রিক ও লাতিন ভাষার সাদৃশ্য সম্পর্কে যে ঐতিহাসিক বক্তৃতা দেন, তার অনেক আগেই (১৭৭৮ খ্রি.) হ্যালহেড এ তিনটি ভাষার সাদৃশ্যের কথা বলেন।
ঘ. তিনিই প্রথম একটি সুপরিকল্পিত পদ্ধতিতে বাংলা সাহিত্যের প্রতিনিধিত্বমূলক কয়েকটি প্রচীন পুঁথি সংগ্রহ করেন।
ঙ. ইংরেজ রাজত্বে হ্যালহেডই প্রথম বাংলা ভাষা চর্চার গুরুত্ব প্রসঙ্গে যুক্তি উত্থাপন করেন। তাঁর ব্যাকরণ গ্রন্থের ভূমিকায় এ বিষয়ে সুদীর্ঘ আলোচনা রয়েছে।
হ্যালহেডের জীবনের সবচেয়ে বড় কীর্তি তাঁর বাংলা ব্যাকরণ। এর আগে ১৭৪৩ খ্রিস্টাব্দে ম্যানুয়েল দ্য আসসুম্পসাঁও সংকলিত বাংলা-পর্তুগিজ শব্দকোষ১ লিসবন শহর থেকে প্রকাশিত হয়। পর্তুগিজ ভাষায় রচিত এ গ্রন্থের ভূমিকায় সংক্ষেপে বাংলা ব্যাকরণের পরিচয় দেয়া হয়েছে। ব্যাকরণটি সংক্ষিপ্ত ও অসম্পূর্ণ। সে কারণে বাংলা ভাষার প্রথম পূর্ণাঙ্গ ব্যাকরণ রচনার কৃতিত্ব হ্যালহেডেরই প্রাপ্য। বাংলা ব্যাকরণ রচনায় যে তিনি পথিকৃত্, সে কথা হ্যালহেড নিজেই তাঁর গ্রন্থের ভূমিকায় বলেছেন— ‘The path which I have attempted to clear was never before trodden; it was necessary that I should make my own choice of the course to be pursued, and of the Landmarks to be set up for the guiddance of future travellers.’ Preface p. XIX. অর্থাত্ যে পথ আমি সাফ করে যাচ্ছি, তা পূর্বে আর কেউ মাড়ায়নি। আমাকে আপন নির্বাচিত পথ ধরেই চলতে হবে যেন ভাবী কালের পথযাত্রীদের জন্য আমি স্থায়ী পদচিহ্ন রেখে যেতে পারি।
পরবর্তীকালে কেরি, কিথ, হটন প্রমুখ ইংরেজ ব্যাকরণবিদ বাংলা ব্যাকরণ রচনায় কমবেশি হ্যালহেডকে অনুসরণ করেন। অন্যদিকে রামমোহন রায় ও তাঁর উত্তরসূরি বাঙালি ব্যাকরণবিদদের ব্যাকরণেও কেরি ও কিথের ব্যাকরণের প্রভাব পরিলক্ষিত হয়।
হ্যালহেডের ব্যাকরণে দোষ-ত্রুটি যেমন রয়েছে, তেমনি তাতে উল্লেখযোগ্য বিশিষ্টতাও পরিলক্ষিত হয়। আমরা সে বিষয়ে আলোচনা না করে আপাতত তাঁর অন্যান্য কৃতিত্বের কথা বলছি।
হ্যালহেডের বাংলা ব্যাকরণে প্রথম বাংলা হরফ ব্যবহার করা হয়। ইংরেজ সিভিলিয়ানদের বাংলা শেখানোর জন্য যে ব্যাকরণটি রচিত, তা ব্যাকরণের নামপত্রে মুদ্রিত ‘বোধপ্রকাশং’ ইত্যাদি শ্লোক থেকে সুস্পষ্টরূপে বোঝা যায়। শিক্ষার্থীরা যাতে বাংলা পড়তে সক্ষম হন, সেজন্য ব্যাংকরণের প্রায় সব উদাহরণই বাংলা হরফে মুদ্রিত হয়।
হ্যালহেডের প্রথম গ্রন্থ A Code of Gentoo Laws (1776)২-এ বাংলা বর্ণমালার একটি ব্লক মুদ্রিত হয়। ব্লকটি খোদাই করেন তাঁর সিভিলিয়ান বন্ধু চার্লস উইলকিনস। হুগলির এক মুদ্রাযন্ত্রে হ্যালহেডের ব্যাকরণটি মুদ্রণের ব্যবস্থা করা হয়। হ্যালহেড ও উইলকিনস দুই বন্ধু মিলে বাংলা হরফ মুদ্রণের এক অসাধ্য সাধনে ব্রতী হন। উইলকিনস একাই সে ছাপাখানার খোদাইকার (engraver), ঢালাইকার (founder) ও মুদ্রাকর (printer)। ১৭৭৮ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশের প্রথম মুদ্রাযন্ত্রে মুদ্রিত হয় প্রথম বাংলা গ্রন্থ— হ্যালহেডের বাংলা ব্যাকরণ। বড়লাট ওয়ারেন হেস্টিংস তাঁদের এই কাজে বিশেষ উত্সাহ জোগান।৩ তাঁরই সুপারিশক্রমে কোম্পানি এ ব্যাকরণের মুদ্রিত সমুদয় কপি কিনে নেয়া। ২১৬ পৃষ্ঠার এ গ্রন্থের মূল্য ছিল ৩০ টাকা এবং মোট এক হাজার কপি মুদ্রিত হয়েছিল। হরফ তৈরির কাজে উইলকিনসের সহকারী ছিলেন পঞ্চানন কর্মকার। পঞ্চানন পরবর্তীকালে কেরি প্রতিষ্ঠিত শ্রীরামপুর প্রেসে হরফ তৈরির দায়িত্ব পালন করেন। হ্যালহেডের বাংলা ব্যাকরণের অষ্টম অধ্যায়ে বাংলা ছন্দ বিষয়ে একটি আলোচনা রয়েছে। আলোচনাটি সংক্ষিপ্ত (পৃ. ১৯৬-২০৭) হলেও বাংলা ছন্দ-চিন্তার ইতিহাসে এর গুরুত্ব কম নয়। একদিকে এটি বাংলা ছন্দের প্রথম আলোচনা, অন্যদিকে বাংলা ছন্দ বিচারে পাশ্চাত্য ছন্দ বিশ্লেষণ পদ্ধতির প্রয়োগও এই প্রথম।
বলা হয়ে থাকে, বিখ্যাত প্রাচ্যতত্ত্ববিদ স্যার উইলিয়াম জোন্স তুলনামূলক ভাষাতত্ত্বের উদগাতা। তিনি ১৭৮৬ খ্রিস্টাব্দের ২ ফেব্রুয়ারির এক ভাষণে সংস্কৃত, গ্রিক ও লাতিন ভাষার সাদৃশ্য বিচার প্রসঙ্গে এ তিনটি ভাষার মূল এক বলে উল্লেখ করেন।৪ আমরা অনুমান করি, জোন্স তুলনামূলক ভাষাতত্ত্বের এই প্রেরণা হ্যালহেডের কাছ থেকেই পেয়েছিলেন। হ্যালহেড তাঁর ব্যাকরণের ভূমিকায় বলেন, ‘আমি সংস্কৃত শব্দের সঙ্গে ফারসি, আরবি এবং এমনকি গ্রিক ও লাতিন ভাষার শব্দের সাদৃশ্য লক্ষ করে বিস্মিত হয়েছি। (‘I have been astonished to find the similitude of Shanscrit words with those of Persian and Arabic, and even of Latin and Greek...,’ Preface, P. iii) তিনি এ সাদৃশ্য লক্ষ করেছেন শুধু বিশেষার্থক শব্দের ক্ষেত্রেই নয়, ভাষার মূল কাঠামো ক্ষেত্রেও। এ প্রসঙ্গে হ্যালহেডের আরেকটি মন্তব্য হচ্ছে—
সিন্ধু অববাহিকা থেকে শুরু করে পেগু অববাহিকা পর্যন্ত এই বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বর্তমানে বহু বিচিত্র ভাষার সন্ধান পাওয়া গেলেও সেগুলো একটি মূল ভাষা থেকে জাত।
বিভিন্ন ভাষার সাদৃশ্য বা উত্সমূল সম্পর্কে তিনি যে ইঙ্গিত প্রদান করেন, তাঁর মতে তা ভবিষ্যত্ গবেষকদের কৌতূহল উজ্জীবিত করবে। কেরি, জোন্স প্রমুখ পণ্ডিত পরবর্তীকালে এই কৌতূহলের পথ ধরেই অগ্রসর হন।
বাংলাদেশে অবস্থানকালে হ্যালহেড বাংলা, সংস্কৃত, ফারসি ও ভারতীয় অন্যান্য ভাষার প্রচুর পুঁথি সংগ্রহ করেন। পরবর্তীকালে ব্রিটিশ মিউজিয়াম তাঁর কাছ থেকে ৯৩টি পুঁথি (Additional 5569-5661) কিনে নেয়। হ্যালহেডের সংগ্রহে থাকা বাংলা পুঁথির সংখ্যা ১২। একটি সুপরিকল্পিত পদ্ধতিতে পুঁথিগুলো সংগৃহীত হয়। হ্যালহেডের উদ্দেশ্য ছিল বাংলা সাহিত্যের প্রতিনিধিত্বমূলক কয়েকটি পুঁথি সংগ্রহ করা। এ উদ্দেশ্যে তিনি তাঁর মুনশিকে দিয়ে একটি পুঁথি তালিকা তৈরি করান। তালিকায় সাতজন নির্বাচিত কবি ও কাব্যের নাম পাওয়া যায়:
‘ইয়াদাস্ত ভাষা কবিতা বাঙ্গলা
কবির নাম কবিতার নাম
কাসীদাস জয়মুনি ভারত
কৃত্তিবাস রামায়ণ
মুকুন্দ কবিকঙ্কণ মঙ্গলচণ্ডীর গীত
ক্ষেমানন্দ মনসার গীত
গোবিন্দ দাস কালিকামঙ্গল
দ্বিজমাধব কৃষ্ণমঙ্গল
ভারতচন্দ্র অন্নদামঙ্গল।’৫
তালিকাভুক্ত কাব্যগুলোর মধ্যে রামায়ণ, মহাভারত, চণ্ডীমঙ্গল ও কালিকামঙ্গলের পুঁথি সংগৃহীত হয়। কালিকামঙ্গলের তিনটি পুঁথি হ্যালহেডের সংগ্রহে পাওয়া যায়। একটির লিপিকাল ১৭৭৬ সাল।৬ পুঁথিটি কালিকামঙ্গলের প্রাচীনতম তারিখযুক্ত পুঁথি। ড. তারাপদ মুখোপাধ্যায়ের মতে, এ পুঁথির পাঠ শুধু প্রাচীনতমই নয়, বিশুদ্ধতমও।৭
হ্যালহেডের প্রথম বাংলা ব্যাকরণ রচনার কৃতিত্বের কথা আমরা এর আগে উল্লেখ করেছি।
এই ব্যাকরণ গ্রন্থের ‘ভূমিকা’ অংশটিও আমাদের কাছে কম তাত্পর্যপূর্ণ নয়। তিনি যদি ব্যাকরণ না লিখে শুধু ভূমিকার বক্তব্য লিখতেন, তাহলেও আমরা তাঁকে স্মরণ করতাম। বাংলা ভাষাচর্চার সপক্ষে এ ভূমিকাটি একটি মূল্যবান সুপারিশনামা। সিভিলিয়ানদের বাংলা ভাষা কেন শেখা দরকার এবং এ ভাষার গুরুত্ব কতখানি, ভূমিকায় এ সম্পর্কে বিশেষভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
ভূমিকায় তিনি প্রথমে উল্লেখ করেন যে, ইংরেজ সরকার যদি তার প্রজাদের সঙ্গে বোঝাপড়ায় আসতে চায় এবং ভাববিনিময় করতে চায়, তবে তার ভাষা হবে দেশীয় ভাষা। বাংলা ভাষা বাংলাদেশের নিজস্ব ভাষা। হ্যালহেড এ প্রসঙ্গে একটি ভুল ধারণার প্রতিও দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। বাংলাদেশের যে একটি নিজস্ব ভাষা (Native and peculiar deialect of its own) আছে, তা সে যুগে অনেকেরই অজানা ছিল। সবাই মনে করত, সারা ভারতে একমাত্র হিন্দুস্থানী ভাষা ছাড়া অন্য কোনো ভাষার প্রচলন নেই।
হ্যালহেড তাঁর ভূমিকার পরবর্তী অংশে বাংলা ভাষার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে নিম্নলিখিত কয়েকটি যুক্তি পেশ করেন:
ক. ‘বোর্ড অব কমার্স’ ও তার অধীন বিভিন্ন কুঠির ব্যবসা-সংক্রান্ত কাজ ও চিঠিপত্রের আদান-প্রদান বাঙালি দোভাষীর সাহায্য ছাড়া সম্পন্ন হতে পারে না।
খ. আদালতের কাজে বাঙালি দোভাষী আবশ্যক। ফারসি রাষ্ট্রভাষা বিধায় সব সরকারি বিজ্ঞপ্তি ফারসি ভাষায় প্রচারিত হলেও পাশাপাশি বাংলা অনুবাদ প্রচার না করে উপায় নেই।
গ. খাজনা আদায়ের ক্ষেত্রে, বিচারকার্যে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের লেনদেনে দেশীয় ভাষার ব্যবহার একান্ত প্রয়োজন। ‘শব্দালঙ্কারবহুল’ ফারসি ভাষার তুলনায় বাংলা ভাষা অধিকতর ‘সরল, যথার্থ ও সুনিয়ন্ত্রিত’, সে কারণেই সরকারি ও বেসরকারি কাজে বাংলা ভাষা বিশেষ উপযোগী ‘...it is much better calculated both for public and private affairs by its plainness, its precision and regularity of construction, than the flowery sentences and modulated periods of Persian.’ Preface, p. xvii.
ঘ. হিসাবরক্ষণের কাজে বাংলা সংখ্যা প্রণালি বিশেষ উপযোগী।
ঙ. বাংলা বর্ণমালায় বর্ণসংখ্যা অনেক এবং বানান পদ্ধতিও কিছু জটিল; কিন্তু বাংলা ভাষা সহজেই শেখা যায়। কারণ এর ব্যাকরণ খুবই সোজা। ব্যাকরণের নিয়মগুলো সরল এবং নিয়মের ব্যতিক্রমের সংখ্যাও কম।
এছাড়া হ্যালহেড তাঁর ভূমিকার শেষদিকে বাংলা মুদ্রণের প্রয়োজনীয়তা ও উপকারিতা সম্পর্কেও কিছু বলেছেন। বাংলা মুদ্রণের সপক্ষে তাঁর যুক্তিগুলো হচ্ছে:
১. বাংলা মুদ্রণের প্রসার হলে ভাবের আদান-প্রদানে বিশেষ সুবিধা হবে।
২. বাংলা হরফে ছাপার ব্যবস্থা প্রবর্তন হলে দলিল-দস্তাবেজের জালিয়াতিও লোপ পাবে।
৩. বাংলা ভাষায় গ্রন্থ মুদ্রিত হলে জনসাধারণ সাহিত্য ও বিজ্ঞান বিষয়ে জ্ঞানলাভে সমর্থ হবে।
হ্যালহেডের যুক্তিগুলো বিশ্লেষণ করলে আমরা দুটি বিষয় লক্ষ করি। প্রথমত. ইংরেজ রাজত্বে হ্যালহেডই প্রথম বাংলা ভাষা চর্চার পক্ষে দাবি তুললেন। বক্তব্যের সমর্থনে তিনি সম্ভাব্য সব যুক্তিও তুলে ধরেছিলেন। দ্বিতীয়ত. রাষ্ট্রভাষার মর্যাদায় তখনো আসীন ফারসি ভাষার সঙ্গে তুলনায় বাংলা ভাষাকে অধিকতর উপযোগী বলে প্রমাণ করলেন। সে কারণেই হ্যালহেডের এ সুপারিশনামা বাংলা ভাষার ইতিহাসে একটি স্মরণীয় দলিল।
প্রসঙ্গত, আরেকটি কথা বলতে হয়। হ্যালহেড বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণ রচনা করলেন, বাংলা হরফে প্রথম ছাপার ব্যবস্থা করলেন এবং সংস্কৃত ভাষার সঙ্গে গ্রিক-লাতিনের তুলনার কথা জোন্সের অনেক আগেই সবার গোচরীভূত করলেন; কিন্তু প্রাচ্যতত্ত্ববিদ হিসেবে হ্যালহেড কোনো স্বীকৃতি পাননি। এর প্রধান কারণ অষ্টাদশ শতকের শেষদিকে বাংলা ভাষার বিশেষ কোনো মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ইউরোপের পণ্ডিতরা তখন নব আবিষ্কৃত সংস্কৃত ভাষা ও সাহিত্যের রসসন্ধানে মশগুল। সংস্কৃত, ফারসি, হিন্দুস্থানি ব্যাকরণ বা অভিধান যাঁরা রচনা করেছেন, তাঁরা ‘প্রাচ্যতত্ত্ববিদ’ বা Orientalist নামে খ্যাতি লাভ করেছেন। তাছাড়া সরকারি নীতিতেও বৈষম্য ছিল। একটি উদাহরণ দিলেই কথাটি স্পষ্ট হয়। জোনাথান ডানকান ১৭৮৩ খ্রিস্টাব্দে একটি আইন পুস্তক বাংলায় অনুবাদ করে পারিশ্রমিক পেয়েছিলেন মাত্র ১৫ হাজার টাকা। কিন্তু একই গ্রন্থ ফারসিতে অনুবাদ করে চেম্বার্স সাহেব ৩২ হাজার টাকা পেয়েছিলেন। পরবর্তীকালে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজেও এ বৈষম্যনীতি সক্রিয় ছিল।
‘ওরিয়েন্টালিস্ট’ হিসেবে হ্যালহেড কোনো স্বীকৃতি না পেলেও বাংলা ভাষা চর্চার ইতিহাসে আমরা অবশ্যই তাঁর অবদানের কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করব।
নির্দেশিকা
১. Vocabulario Em Idioma Bengalla, e Portuguez
২. রচনাকাল ১৭৭৪-৭৫ খ্রি.। ২৭-৩-১৭৭৫ তারিখে পাণ্ডুলিপি ইংল্যান্ডে প্রেরিত হয় এবং তা ১৭৭৬-এর ১ জানুয়ারি বোর্ড অব ডাইরেক্টরসের কাছে পৌঁছে।
৩. ‘It was begun and continued by my advice and even solicitation.’
—Governor General’s Proceedings, Revenue Department dated 20.2.1778
৪. Asiatick Researches, Vol. I p. 422
৫. ব্রিটিশ মিউজিয়াম পুঁথি, Additional 5660F, পত্রাঙ্ক ১৮
৬. ঐ Additional 5660
৭. ড. তারাপদ মুখোপাধ্যায়, ভারতচন্দ্রের বারমাস্যা। বিশ্বভারতী পত্রিকা, শ্রাবণ-আশ্বিন ১৩৭৭; পৃ ১৯-৩৫





