বিশ্বকাপে অভিষেক হওয়া জর্ডানের বিপক্ষে একসময় হোঁচট খাওয়ার শঙ্কাও জেগেছিল। তবে অভিজ্ঞ মার্কো আর্নাউটোভিচ শেষ পর্যন্ত ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে অস্ট্রিয়াকে এনে দেন ৩-১ গোলের গুরুত্বপূর্ণ জয়।
সানফ্রান্সিসকোয় অনুষ্ঠিত ম্যাচের শুরুতে অবশ্য আর্নাউটোভিচকে একাদশে রাখেননি কোচ রালফ রাংনিক। ৩৭ বছর বয়সী এ ফরওয়ার্ডের পরিবর্তে আক্রমণভাগে সুযোগ পান সাসা কালাইডজিচ। তবে ম্যাচের গতি ও তীব্রতার সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে ব্যর্থ হন তিনি। ফলে বিরতির পর মাঠে নামানো হয় অস্ট্রিয়ার ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতাকে।
প্রথমার্ধে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল অস্ট্রিয়ার হাতেই। এর ফলও পেয়ে যায় ইউরোপের দলটি। ২৪ মিনিটে দূরপাল্লার দুর্দান্ত এক শটে দলকে এগিয়ে দেন রোমানো শ্মিড। বিশ্বকাপে ১৯৯৮ সালের পর প্রথম ম্যাচ খেলতে নামা অস্ট্রিয়ার জন্য এটি ছিল স্বস্তির মুহূর্ত। তবে জর্ডান সহজে হার মানার পাত্র ছিল না।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ম্যাচে ফেরে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি। বাঁ দিক থেকে ভেতরে ঢুকে দূরের পোস্ট ঘেঁষে অসাধারণ এক শটে গোল করেন আলি অলওয়ান। সেই গোলের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসে জর্ডানের প্রথম গোলদাতা হিসেবে নাম লেখান তিনি। গোলটির সৌন্দর্য শ্মিডের প্রথম গোলের সঙ্গে পাল্লা দেয়ার মতোই ছিল।
সমতায় ফেরার পর ম্যাচ আরো জমে ওঠে। অস্ট্রিয়া আক্রমণের চাপ বাড়াতে থাকে, আর জর্ডান চেষ্টা করে শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণে দাঁড়িয়ে থাকার। ৭০ মিনিটের দিকে আর্নাউটোভিচ বল জালে পাঠালেও ভিএআরের হস্তক্ষেপে গোলটি বাতিল হয়ে যায়। রিপ্লেতে দেখা যায়, আক্রমণ তৈরির সময় বল অস্ট্রিয়ার ডিফেন্ডার স্টেফান পসের হাতে লেগেছিল। ফলে গোল উদযাপন করেও হতাশ হতে হয় আর্নাউটোভিচকে।
তবে ভাগ্য বেশিক্ষণ মুখ ফিরিয়ে রাখেনি। ৭ মিনিট পর কর্নার থেকে আসা বলে আবারো বিপদ তৈরি করেন তিনি। এবার বল তার গায়ে না লাগলেও তাকে মার্ক করা জর্ডানের ডিফেন্ডার ইয়াজান আল-আরাবের পিঠে লেগে জালে ঢুকে যায়। আত্মঘাতী সেই গোলে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় অস্ট্রিয়া।
গোল হজমের পর জর্ডান মরিয়া হয়ে সমতা ফেরানোর চেষ্টা চালায়। কিন্তু যোগ করা সময়ে আরেকটি ধাক্কা খায় তারা। আর্নাউটোভিচের শট ঠেকাতে গিয়ে হ্যান্ডবল করেন সালিম ওবাইদ। পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। স্পট কিক থেকে জোরালো শটে বল জালে পাঠিয়ে জয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন আর্নাউটোভিচ।
এটি ছিল অস্ট্রিয়ার জার্সিতে তার ১৩৪তম ম্যাচে ৪৮তম গোল। ম্যাচের ফল নির্ধারণে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখা এ অভিজ্ঞ ফরওয়ার্ডকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন কোচ রাংনিক।
তবে একাদশের বাইরে রাখার সিদ্ধান্তও সমর্থন করেছেন তিনি। তার মতে, গত দুই সপ্তাহের অনুশীলনে কালাইডজিচ দারুণ পারফর্ম করেছিলেন বলেই শুরুতে তাকে খেলানো হয়েছিল। কিন্তু ম্যাচের শারীরিক চাহিদার সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পারায় দ্বিতীয়ার্ধে আর্নাউটোভিচকে নামাতে হয় এবং তিনি প্রত্যাশামতোই প্রভাব ফেলেন।
এ জয়ে গ্রুপ ‘জে’তে ৩ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে অস্ট্রিয়া। একই গ্রুপের অন্য ম্যাচে আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ২২ জুন অস্ট্রিয়ার সামনে অপেক্ষা করছে আরো কঠিন পরীক্ষা। প্রতিপক্ষ লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা।
তবে সেই চ্যালেঞ্জ নিয়েও উচ্ছ্বসিত রাংনিক। তার মতে, বিশ্বকাপের আসল সৌন্দর্যই হলো বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের সেরা দলগুলোর মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ। আর বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলার চেয়ে বড় উত্তেজনা আর কীইবা হতে পারে।














