ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক কোচদের জন্য সাম্প্রতিক সময়টা ছিল এক দুঃস্বপ্নের মতো। মাত্র চার দিনের ব্যবধানে বরখাস্ত হয়েছেন ওলে গুনার সুলশার, হোসে মরিনিয়ো এবং এরিক টেন হ্যাগ। সবচেয়ে বড় চমক নিঃসন্দেহে ছিল টেন হ্যাগের বিদায়। বায়ার লেভারকুসেনের দায়িত্ব নেয়ার মাত্র তিন ম্যাচের মধ্যেই তাকে বরখাস্ত করা হয়। জার্মান ফুটবলে এই সিদ্ধান্ত অবাক করার মতো না হলেও তবে ফুটবল বিশ্ব এতে হতবাক।
ক্লাব ইতিহাসের সেরা কোচ জাবি আলোনসোর বিদায়ের পর লেভারকুসেনের দায়িত্ব নেয়া যে ভয়াবহ চ্যালেঞ্জিং হবে, তা টেন হ্যাগ নিজেও জানতেন। একই সময়ে তারকা খেলোয়াড় ফ্লোরিয়ান ভির্টজ, জেরেমি ফ্রিমপং এবং জোনাথন টাহ দল ছেড়ে চলে যান। এমনকি ক্লাবের লিডারশিপ গ্রুপে থাকা মিডফিল্ডার গ্র্যানিট ঝাকাকেও ধরে রাখতে ব্যর্থ হয় লেভারকুসেন।
১৭ জন নতুন খেলোয়াড় দলে নিলেও ট্রান্সফার নীতি নিয়ে বারবার ক্লাবের সঙ্গে মতবিরোধে জড়ান টেন হ্যাগ। মিডিয়ায় প্রকাশ্যে সমালোচনা করে তিনি আরো বিশ্বাস হারান বোর্ডের কাছে। খেলোয়াড়দের সঙ্গেও তার যোগাযোগ দুর্বল ছিল বলে অভিযোগ ওঠে।
জার্মান গণমাধ্যম ‘কিকার’ টেন হ্যাগকে আখ্যা দিয়েছে একগুঁয়ে হিসেবে। মাঠেও দেখা গেছে বিশৃঙ্খলার চিত্র। ভের্ডার ব্রেমেনের বিপক্ষে পেনাল্টি নেয়া নিয়ে মাঠেই ঝগড়ায় জড়ান প্যাট্রিক শিক ও এজেকুয়েল প্যালাসিওস। পরে দলের অধিনায়ক রবার্ট অ্যান্ডরিশ ক্ষোভ উগরে দেন, ‘আমরা এভাবে চলতে পারি না, এটা দলের জন্য লজ্জাজনক।‘
বুন্দেসলিগায় টানা ব্যর্থতার পর অবশেষে ক্লাবের ধৈর্যের বাঁধ ভাঙে। ম্যানেজিং ডিরেক্টর সাইমন রলফেস জানান, ‘আমরা দেখছিলাম পরিস্থিতি ভুল পথে যাচ্ছে। শেষ গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই সিদ্ধান্ত নিতে হলো।‘
লেভারকুসেন কখনই জানতে পারবে না, টেন হ্যাগ পরিস্থিতি পরিবর্তন করতে পারতেন কিনা। তবে, এই 'অভূতপূর্ব' সিদ্ধান্তে ডাচ কোচ ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি এই সম্পর্ক কখনোই পারস্পরিক আস্থার ওপর দাঁড়ানো ছিল না। আমার ক্যারিয়ারে প্রতিটি মৌসুমেই শেষ পর্যন্ত টিকে থাকাটাই দলকে সাফল্য এনে দিয়েছে। যারা আমাকে বিশ্বাস করেছে, তারা পুরস্কৃত হয়েছে। লেভারকুসেন সেই সুযোগ দেয়নি।‘










