বুধবার রাতে দেখা মিলল এক ক্ল্যাসিক চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থ্রিলারের, যেখানে কুশীলব দেখে উত্তেজনার আঁচ কতজন পেয়েছিলেন তা ধারণা করা মুশকিল! ক্লাব ব্রুগার মাঠে তিনবার পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত ৩-৩ গোলে ড্র ছিনিয়ে এনেছে বার্সেলোনা। ব্রুগার ২০ বছর বয়সী ডিফেন্ডার হোয়াকিন সেয়সের আত্মঘাতী গোলে শেষ মুহূর্তে মহামূল্যবান এক পয়েন্ট নিশ্চিত হয় কাতালানদের।
এই ড্রয়ের পর চার ম্যাচে সাত পয়েন্ট নিয়ে ১১তম স্থানে বার্সেলোনা। আর চার পয়েন্ট নিয়ে ক্লাব ব্রুগা রয়েছে ২২তম স্থানে। দুই দলের জন্যই নকআউট পর্বে যাওয়ার আশা এখন টিকে রইল।
ব্রুগার জন ব্রেডেল স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই উত্তেজনা ছিল তুঙ্গে। মাত্র ষষ্ঠ মিনিটেই নিকোলো ট্রেসোল্ডির গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। কার্লোস ফোর্বসের দুর্দান্ত কাউন্টার অ্যাটাকে বার্সেলোনার হাই ডিফেন্সের দুর্বলতা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় ব্রুগা। ২১ বছর বয়সী পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড ফোর্বস বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বক্সে ঢুকে নিচু ক্রস করেন, যা থেকে ট্রেসোল্ডি গোল করতে ভুল করেননি।
তবে হান্সি ফ্লিকের বার্সা গোল হজম করে দমে যাওয়ার পাত্র নয়। এর মাত্র দু'মিনিট পরেই ফেরান তোরেসের কাছ থেকে আসে প্রথম সমতাসূচক গোল। কিন্তু এই সমতা বেশিক্ষণ টেকেনি। ১৭তম মিনিটে ফোর্বস গোল করে ব্রুগাকে আবারও এগিয়ে দেন— এটাও দ্রুতগতির কাউন্টার অ্যাটাক থেকে। প্রথমার্ধের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে ২৭ মিনিটে জুলস কুন্ডের শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। প্রথমার্ধের শেষলগ্নে তোরেস মিস করেন সহজ সুযোগ।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই বার্সার গোলরক্ষক ভয়চেখ শেজনির দুর্দান্ত সেভ বার্সাকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখে। ৫৯ মিনিটে এরিক গার্সিয়ার দূরপাল্লার শটও ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। তবে ৬০তম মিনিটে আসল ম্যাজিক দেখান কিশোর তারকা লামিন ইয়ামাল। অসাধারণ ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে তিনি ফের সমতা ফেরান।
কিন্তু ব্রুগা ছিল নাছোড়বান্দা। মাত্র দু'মিনিট পরেই কার্লোস ফোর্বস নিজের দ্বিতীয় গোল করে দলকে তৃতীয়বারের মতো এগিয়ে দেন। বার্সেলোনার ডিফেন্সকে তৃতীয়বারের মতো পরাস্ত করে শেজনিকে টপকে জালে বল জড়ান তিনি। বার্সেলোনা তাদের শেষ সমতাসূচক গোলটি পায় ৭৭তম মিনিটে। ইয়ামালের ক্রস ক্লিয়ার করতে গিয়ে ডিফেন্ডার হোয়াকিন সেয়স ভুলবশত নিজেদের জালেই বল ঠেলে দেন।
ম্যাচের শেষ মুহূর্তে অপেক্ষা করছিল আরো নাটক। ইনজুরি টাইমে রোমিও ভার্ম্যান্ট গোল করলে ব্রুগা সমর্থকরা ভেবেছিল জয় নিশ্চিত। শেজনির ভুল থেকেই গোলটি এসেছিল। কিন্তু ভিএআর রিভিউতে দেখা যায়, ভার্ম্যান্ট গোলকিপারকে ফাউল করেছেন। গোলটি বাতিল হলে কষ্টার্জিত এক পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে বার্সা।
বার্সেলোনা এই ড্রয়ের ফলে নকআউট পর্বের আশা এখনো বেঁচে আছে। সঙ্গে জীবন্ত তাদের রক্ষণের দুর্দশা। গত মৌসুমে হাই ব্যাকলাইন দিয়ে চমক দেখানো বার্সা এবার ভুরিভুরি গোল খাচ্ছে, ফ্লিকের ব্যাকলাইনে অনাবৃত হয়ে যাচ্ছে রক্ষণের ফাঁকফোকর।









