ফাইনালে মেসি ছিলেন, কিন্তু রঙিন আলোটা খুঁজে নিল সিয়াটল সাউন্ডার্সকে। টানা আক্রমণ, দুর্দান্ত রক্ষণ আর নিখুঁত ফিনিশিংয়ে ইন্টার মায়ামিকে ৩-০ গোলে হারিয়ে ২০২৫ লিগস কাপ নিজেদের করে নিল এমএলএস জায়ান্টরা।

অ্যানফিল্ড নয়, এবার ছিল লুমেন ফিল্ডের গর্জন। ৬৯,৩১৪ দর্শকের সামনে সাউন্ডার্স তুলে নিল তাদের ক্লাব ইতিহাসের আরো একটি ট্রফি। আগে জিতেছে দুই এমএলএস কাপ, চার ইউএস ওপেন কাপ, আর ২০২২ সালের কনকাকাফ চ্যাম্পিয়নস লিগ। এবার লিগস কাপ যোগ হলো তালিকায়—এমন কৃতিত্ব পাওয়া প্রথম উত্তর আমেরিকান দল তারা।

ম্যাচের ২৬ মিনিটেই এগিয়ে যায় সাউন্ডার্স। অ্যালেক্স রোল্ডানের ক্রসে দুর্দান্ত হেডে জালের দেখা পান তরুণ ফরোয়ার্ড ওসাজে ডে রোজারিও। প্রথমার্ধে এগিয়ে থেকে খেলার নিয়ন্ত্রণ নেয় সাউন্ডার্স।

দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে মায়ামি। লিওনেল মেসি কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও ফিনিশিংয়ে ব্যর্থ হন। সাউন্ডার্সের রক্ষণও ছিল অটল। বরং ৮৪ মিনিটে হানা দেয় আবারও সিয়াটল। জর্জি মিনুঙ্গুর ফাউলের পর পেনাল্টি পায় দল, আর সেখান থেকে নিখুঁত শটে গোল করেন রোল্ডান। তখনই যেন ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে যায়।

শেষ মুহূর্তে (৮৯ মিনিটে) পল রথরক যোগ করেন আরও একটি গোল, নিশ্চিত করেন সাউন্ডার্সের বড় জয়।

ট্রফি জয়ের আনন্দের পরও ম্যাচটি আলোচনায় থাকে আরেক কারণে—লুইস সুয়ারেজের আচরণ। খেলা শেষে উদযাপনের সময় তিনি তরুণ মিডফিল্ডার ওবেড ভার্গাসেরে সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয় যে, দুই দলের খেলোয়াড়রা মুখোমুখি হয়ে পড়েন। এমনকি নিরাপত্তা কর্মীর ওপরও থুতু ছুড়তে দেখা যায় সুয়ারেজকে। কয়েক মিনিটের বিশৃঙ্খলার পর শান্ত হয় পরিবেশ, এবং মঞ্চে উঠে আসে চ্যাম্পিয়নরা।

পুরো স্টেডিয়ামে ইন্টার মায়ামির গোলাপি জার্সি ও মেসি সমর্থকের অভাব ছিল না। তবে গর্জে ওঠা সাউন্ডার্স সমর্থকদের সবুজ সাগরই ফাইনালে ঢেকে দিল দৃশ্যপট। ঘরের মাঠের উৎসাহে মেসিদের ছাপিয়ে গেল সিয়াটল।

এই হারে মেসির ৪৭তম শিরোপা হাতে তোলার অপেক্ষা দীর্ঘায়িত হল। সর্বশেষ ২০২৪ সালে ইন্টার মায়ামির হয়ে সাপোটার্স শিল্ড জিতেছিলেন তিনি।