‘রাশিয়া ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরু করার চার দিন পর ফিফা ও উয়েফা রাশিয়াকে নিষিদ্ধ করে। এখন আমরা এমন একটি ঘটনার ৭১৬ দিন পার করেছি, যাকে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল গণহত্যা বলেছে। অথচ ইসরায়েলকে এখনো খেলায় অংশ নিতে দেয়া হচ্ছে। কেন এই দ্বিচারিতা? ফিফা ও উয়েফার উচিত ইসরায়েলকে নিষিদ্ধ করা। সব ক্লাবেরই উচিত ইসরায়েলি দলের বিরুদ্ধে খেলতে অস্বীকার করা, সব খেলোয়াড়েরই উচিত ইসরায়েলি দলের বিরুদ্ধে খেলতে অস্বীকৃতি জানানো।’

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ফরাসি কিংবদন্তি এরিক ক্যান্টোনার এ কথাগুলো এখন ধ্বনিত হচ্ছে বিভিন্ন দিকে। গাজায় যুদ্ধের মানবিক ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে ক্ষোভ এখন খেলাধুলা ও সংস্কৃতি অঙ্গনে ছড়িয়ে পড়ছে। স্পেনের ভুয়েল্তা সাইক্লিং রেসে ইসরায়েলি দলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, পোল্যান্ডে বাস্কেটবল ম্যাচে ইসরায়েলি জাতীয় সংগীতের সময় দর্শকদের হাঁকডাক, আর ইউরোপের কয়েকটি দেশের ইউরোভিশন গান প্রতিযোগিতা বয়কটের হুমকি—সবই ইঙ্গিত দিচ্ছে ইসরায়েলের প্রতি বাড়তে থাকা বৈশ্বিক বিরূপতার।

cantona

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড কিংবদন্তি এরিক ক্যান্টোনা।

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ প্রকাশ্যে বলেছেন, গাজার ‘বর্বরতা’ শেষ না হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসর থেকে ইসরায়েলকে বয়কট করা উচিত। এর একদিন পরই স্পেনের সরকারি সম্প্রচার সংস্থা ও আরো চারটি ইউরোপীয় দেশ ঘোষণা দেয়—ইসরায়েল অংশ নিলে তারা ইউরোভিশন সম্প্রচার করবে না। একই সময়ে হাভিয়ের বারদেম, বেন অ্যাফ্লেকসহ হলিউডের বেশ কয়েকজন অভিনেতা-পরিচালক ইসরায়েলি চলচ্চিত্র উৎসব ও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বয়কটের অঙ্গীকারপত্রে স্বাক্ষর করেছেন।

তবে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি ও ফিফা বলছে, রাশিয়ার মতো ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে আইনগত ভিত্তি তৈরি হয়নি। রাশিয়া ইউক্রেন দখল করেছিল, যা অলিম্পিক সনদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। অন্যদিকে, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে এই ধরনের কোনো সুস্পষ্ট আইনি কারণ নেই, যার ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থাগুলো তাদের নিষিদ্ধ করতে পারে। এ কারণেই বেশিরভাগ আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থা এখনো ইসরায়েলি অ্যাথলেটদের তাদের জাতীয় পতাকার অধীনে খেলতে বাধা দিচ্ছে না।

red card 2

প্যারিসের পার্ক দে প্রিন্সেসে পিএসজি ও আতলেতিকো মাদ্রিদের চ্যাম্পিয়নস লিগ ম্যাচের আগে বিশাল একটি ব্যানারে লেখা ছিল, ফ্রি প্যালেস্টাইন। ছবি- এপি

প্রতিবাদের এ ঢেউয়ের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সা’আর স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে ‘ইহুদি বিদ্বেষী ও মিথ্যা’ বলে আখ্যা দেন।

এ পর্যন্ত কোনো বড় শক্তি স্পেনের অবস্থানকে সমর্থন করেনি। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্বকাপসহ বড় আয়োজনের সহ-আয়োজক দেশ হিসেবে স্পেনের অবস্থান তাৎপর্যপূর্ণ এবং এটি ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে ইসরায়েলের অবস্থান নিয়ে নতুন বিতর্ক উসকে দিতে পারে।

pedro

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। ছবি- এপি

এরইমধ্যে ইউরোপের বিভিন্ন স্টেডিয়ামে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ব্যানার, স্লোগান ও প্রতিবাদ দেখা যাচ্ছে। আয়ারল্যান্ড, ইতালি, নরওয়ের মতো দেশগুলো ইসরায়েলি দলের সঙ্গে খেলা নিয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষ জানালেও ফিফার নিয়মে না খেললে শাস্তির মুখে পড়তে হবে।

এখনো তাই কোনো বৈশ্বিক নিষেধাজ্ঞা জারি না হলেও গাজা যুদ্ধের কারণে ইসরায়েলের প্রতি ক্রমবর্ধমান বয়কটের প্রবণতা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন চাপ তৈরি করছে।