নাটক, সিনেমা ও ওয়েব সিরিজ নির্মাতা সঞ্জয় সমাদ্দার। এবারের ঈদুল আজহায় মুক্তি পেয়েছে এ নির্মাতার সিনেমা ‘ইনসাফ’। দেশের ১৬টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় সিনেমাটি। এ সিনেমা ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে তিনি কথা বলেছেন বণিক বার্তার সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন অহিদুর রহমান

ঈদে আপনার নির্মিত সিনেমা ইনসাফ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে। কেমন সাড়া পাচ্ছেন?

ঈদের দিন সিনেমাটি মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই দর্শকের ভালো প্রতিক্রিয়া পাচ্ছি। আমরা সিনেমা হলে গিয়েছি, দর্শকের সঙ্গে কথা বলেছি। দর্শক সিনেমাটিকে আপন করে নিয়েছে এবং তারা বলছে এটি দুর্দান্ত হয়েছে। আমাদের বেশ কয়েকটি শো হাউজফুল। দর্শকের এ প্রতিক্রিয়া দেখে আমরা সন্তুষ্ট।

ইনসাফ ১৬টি সিনেমা হলে মু্ক্তি পেয়েছে। সামনে হল সংখ্যা কি বাড়তে পারে?

ঈদের তৃতীয় দিন ব্লকবাস্টারে শো ছিল তিনটা। সেটা বেড়ে পাঁচটা হয়েছে। এছাড়া সিনেমা হলের ব্যাপারে এক সপ্তাহ না গেলে কিছু বোঝা যাবে না। তবে হলের সংখ্যা আরো বাড়বে।

আগামী বেশ কয়েক দিন ইনসাফ প্রেক্ষাগৃহে চলবে, তাই দর্শকের উদ্দেশে সিনেমাটি নিয়ে কী বলবেন?

ইনসাফ একটি বাংলাদেশী মৌলিক গল্পের সিনেমা। যেখানে আমরা দর্শককে বিনোদন দেয়ার সব আয়োজন করেছি। ইমোশন, অ্যাকশন, প্রেম সবই আছে এ সিনেমায়। সবচেয়ে বড় কথা এতে একটা দর্শন আছে, সেটা হলো আমরা কেউ স্বয়ংসম্পূর্ণ নই। একমাত্র সৃষ্টিকর্তাই স্বয়ংসম্পূর্ণ।

সিনেমাটির নামকরণ ইনসাফ করার কারণ কী ছিল?

দেখলেই বোঝা যাবে, আসলে কেন সিনেমাটির নাম ইনসাফ করা হয়েছে। সিনেমায় একটা মানুষের সঙ্গে অন্যায় হয়। একটা্ সময় মানুষটার অন্যায়ের প্রতিবাদ করার সুযোগ থাকে না। তার হয়ে কেউ একজন ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা করে, এমনই এক গল্প নিয়ে সিনেমাটি। আমি আর বেশি কিছু বলতে চাচ্ছি না। সিনেমাটি দেখলেই বোঝা যাবে যে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক নাম ‘ইনসাফ’।

ইনসাফে রাজ, ফারিণকেই কেন কাস্টিং করা হলো?

এ সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্রের সঙ্গে রাজকে একদম ফিট মনে হয়েছে। এছাড়া তিনি একজন ভালো অভিনেতা। তাসনিয়া ফারিণও এ কাস্টিংয়ের জন্য ভীষণ ফিট ছিল। আমার মনে হয়, দর্শকও আমার সঙ্গে একমত হবেন যে এ জুটি ইনসাফের জন্য ভালো কাস্টিং।

ইনসাফ কি আপনি দেখেছেন?

হ্যাঁ অবশ্যই। আমি ঈদের দিন থেকেই সিনেমা হলে আছি। দর্শকের প্রতিক্রিয়া দেখছি।

ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত অন্য সিনেমাগুলো দেখা হয়েছে কিনা?

অ্ন্য সিনেমাগুলো দেখার এখনো সময় পাইনি। যেহেতু আমার সিনেমা নিয়েই এখনো দৌড়ঝাঁপ করছি। টিকিট অ্যাভেইলেবল হলে দু-একদিনের মধ্যেই অন্য সিনেমাগুলো দেখব।

দর্শক সিনেমা দেখছে, হলে টিকিট পাওয়া যাচ্ছে না। বিষয়টিকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?

এখন ভালো সিনেমা হচ্ছে। ভালো কনটেন্ট দর্শক পছন্দ করছেন। এটা বাংলা চলচ্চিত্রের জন্য অবশ্যই ভালো দিক। মানুষ এখন বাংলা সিনেমা দেখছে, এটা নিয়ে আমরা অনেক বেশি উৎসাহ পাচ্ছি। আমাদের তো সেটাই চাওয়ার ছিল যে দর্শক আমাদের দেশের কনটেন্ট দেখবে। দর্শক বাংলা সিনেমা দেখছে, আমাদের সমর্থন দিচ্ছে, এটা একজন সিনেমা নির্মাতার জন্য উৎসাহের ব্যাপার।

সরকারি অনুদানে ‘লোভ’ নামে একটা সিনেমা করার কথা ছিল, সেটার কী খবর?

আমি সিনেমাটির পরিচালক। আমি চাই হুমায়ূন আহমেদের গল্পে সিনেমা নির্মাণ করতে। এর শুটিংয়ে এখনো যাইনি। এখনো প্রি-প্রডাকশন লেভেলেই আছে। ইনসাফের পরই আমরা আশা করি এটা নিয়ে কাজ করতে পারব।

এরপর নতুন কোনো কাজ নিয়ে পরিকল্পনা আছে কিনা?

এ মুহূর্তে ইনসাফ নিয়ে আছি। তবে বেশ কয়েকটি সিনেমা নিয়ে আলোচনা চলছে।