এর সঙ্গে যুক্ত হয় অসুস্থতা, বয়সের সীমাবদ্ধতা, একাকিত্ব ও দীর্ঘদিনের ক্লান্তি। এসবের মধ্যেও জীবনের শেষ প্রান্তে এগিয়ে যাওয়া দুজন মানুষ কীভাবে একে অন্যকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকার অর্থ খুঁজে নেয়, সেই গল্পই উঠে এসেছে চরকির অরিজিনাল কনটেন্ট ‘রঙিন সুরমা’য়। এতে মুন্তাসির চরিত্রে অভিনয় করেছেন আফজাল হোসেন ও শাহিদা চরিত্রে অভিনয় করেছেন আফসানা মিমি।
রিয়াজুল হক ইমরানের চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় নির্মিত ‘রঙিন সুরমা’ চরকিতে মুক্তি পাচ্ছে ১৩ আগস্ট।
মুন্তাসির ও শাহিদার জীবনে ধূসর বাস্তবতার পাশাপাশি তৈরি হয় কিছু রঙিন মুহূর্ত। বয়স, সময়, সম্পর্ক, না পাওয়া, ভয় এবং কিছু অনিবার্য সত্য তাদের ঘিরে থাকে। তবে সে ধূসর জীবনের মধ্যেই তারা কিছু সত্য গোপন রেখে নিজেদের মতো করে কিছু রঙিন মুহূর্ত তৈরি করে নেয়।
নির্মাতা রিয়াজুল হক ইমরান বলেন, ‘সব সত্য সবসময় মানুষকে বাঁচায় না। কখনো একটি মিথ্যা মানুষকে তার প্রিয় মানুষের পাশে থাকার সুযোগ দেয়, কোনো সম্পর্ককে ভেঙে পড়া থেকে রক্ষা করে কিংবা জীবনের শেষ আলোটুকু ধরে রাখতে সাহায্য করে। সেই বৈপরীত্য থেকেই রঙিন সুরমার নামের ভাবনা এসেছে।’
গল্প শুনেই রঙিন সুরমায় অভিনয়ের আগ্রহ তৈরি হয় আফসানা মিমির। নির্মাতার পাঠানো চিত্রনাট্য হাতে পাওয়ার পর প্রথমেই গল্পের নামটি তার দৃষ্টি আকর্ষণ করে। মিমি বলেন, ‘ইমরান যখন স্ক্রিপ্ট পাঠালেন, প্রথমেই নামটা দৃষ্টি কেড়েছিল—রঙিন সুরমা। স্বাভাবিক আগ্রহ নিয়ে পড়তে শুরু করলাম, শেষ করেছি চোখে জল নিয়ে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর কাজটা হলো। এখন দেখার অপেক্ষা।’
আফজাল হোসেনের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে তার ভাষ্য, আফজাল হোসেনের সঙ্গে কাজ করা সবসময় আনন্দের। তিনি সবকিছু খুব সহজ করে দেন, বন্ধুর মতো করে কাজের পরিবেশ তৈরি করেন।
নির্মাতা রিয়াজুল হক ইমরানের কাজের ধরন নিয়ে মিমি জানান, ইমরান কাজের প্রতি ভীষণ নিবেদিত এবং প্রতিটি বিষয় খুব মনোযোগ দিয়ে দেখেন। চরিত্রের বিকাশ ও শুটিংয়ের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কাজ করতে গিয়ে তাদের মধ্যে মতের অমিল হয়েছে, তবে এসবের মধ্য দিয়েই কাজটি নিয়ে দুজনই আন্তরিকভাবে কাজ করেছেন।
চিত্রনাট্য পড়েই কাজটি করার সিদ্ধান্ত নেন আফজাল হোসেন। তিনি বলেন, ‘দুজন মানুষ ও একটা সংকট নিয়ে গল্প। তারা বয়স্ক মানুষ। আজকাল মানুষের মন মাতানোর জন্য গরমাগরম গল্পের চাহিদা অনেক। এমন সময়ে কেউ যদি ঠাণ্ডা মেজাজের, শিরশির করা অনুভূতির কোনো গল্প পর্দায় হাজির করতে চায়, সে ভাবনাকে বিশেষ ভাবতেই হয়। সেটা ভেবেই আগ্রহ নিয়ে অভিনয় করা। রিয়াজুল হক ইমরান নির্মিত রঙিন সুরমার আবেগ আশা করি দর্শকের আবেগ স্পর্শ করতে পারবে।’
চরকির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রেদওয়ান রনি মনে করেন, বরেণ্য অভিনয়শিল্পীদের নিয়ে দেশের মিডিয়া অঙ্গনে খুব কম কাজ হয়। রঙিন সুরমার মাধ্যমে চরকি কিছুটা হলেও প্রচলিত ধারার বাইরে যাওয়ার চেষ্টা করেছে।
তিনি বলেন, ‘রঙিন সুরমা খুব ইমোশনাল একটা কাজ। সব বয়সী দর্শকই তাদের নিজ নিজ দৃষ্টিভঙ্গিতে কনটেন্টটি রিলেট করতে পারবেন। গুণী দুই অভিনয়শিল্পী নিয়ে বলার কিছু নেই। তাদের অভিনয়ের মাধ্যমে অনুভূতিগুলো যেন জীবন্ত হয়ে উঠেছে।’
নির্মাতা মনে করেন, রঙিন সুরমা দর্শককে খুব পরিচিত অথচ অনেক সময় এড়িয়ে যাওয়া একটি জীবনের কাছে নিয়ে যাবে। মানুষ যে জীবনকে খুব স্বাভাবিক বলে পাশ কাটিয়ে যায়, তার ভেতরেই হয়তো বেঁচে থাকার সবচেয়ে গভীর কারণগুলো লুকিয়ে থাকে। দর্শকের মনে এ প্রশ্ন কিছুক্ষণ থেকে গেলেই সেটিই হবে রঙিন সুরমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।










