মার্ভেল সিনেম্যাটিক ইউনিভার্সের বর্তমান অবস্থা কী? এমন প্রশ্ন করা হলে দুটো উত্তর আসে-সর্বাধিক বিস্তৃত ও সেরা সময়। দুটো উত্তরই সঠিক। বিশেষত বিভিন্ন চরিত্র নিয়ে ইউনিভার্সকে যেভাবে বিস্তৃত করা হয়েছে, তা প্রশংসার দাবিদার। তবে ‘ সেরা
সময়’
বিষয়টি আংশিকভাবে সত্য। কারণ অনেকেরই মত হলো এ বিস্তৃতির কারণে কনটেন্টের মান তুলনামূলক নেমে গিয়েছে। বিশেষত থরের শেষ সিনেমাটি ও আরো কিছু সিরিজ মার্ভেল ভক্তদেরও দুই ভাগে ভাগ করে ফেলেছে। এসবের মধ্যে ব্ল্যাক প্যান্থারের দ্বিতীয় সিনেমা ওয়াকান্ডা ফরএভার একটা পরিবর্তনের মাঝখানে রয়েছে বলা যায়। মার্ভেলের ভবিষ্যৎ কী হবে তার অনেক কিছুই নির্ভর করবে রায়ান কুগলারের এ সিনেমার ওপর এবং সেখানে আয় নয় বরং সিনেমার গল্প ও উপস্থাপনাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
মার্ভেলের সিনেমাগুলোর মধ্যে ভিত্তির মতো কাজ করেছে কিছু সিনেমা। বিশেষত অ্যাভেঞ্জার্সের সিনেমাগুলোই এমসিইউয়ের খুঁটি হিসেবে কাজ করেছে। মার্ভেলের চতুর্থ ও পঞ্চম ফেজে অ্যাভেঞ্জার্সের কোনো সিনেমা নেই। পরবর্তী অ্যাভেঞ্জার্স (দ্য ক্যাং ডাইন্যাস্টি) আসবে ২০২৫ সালে। আয়রন ম্যান, ব্ল্যাক উইডো, হাল্কের মতো চরিত্রগুলোর অনুপস্থিতি ভক্তদের মধ্যে প্রভাব ফেলেছে। খণ্ড সিনেমার মধ্যে স্পাইডারম্যান: নো ওয়ে হোম বা ব্ল্যাক প্যান্থারের মতো চরিত্রগুলো ঘিরে তৈরি হওয়া সিনেমা ভক্তদের আশা জাগায়। ওয়াকান্ডা ফরএভারের জন্য কাজটা কঠিন হতে পারে, তবে অসম্ভব নয়। সিনেমাটির একটি অন্যতম শক্তি বা ইতিবাচক দিক হচ্ছে এর তৈরি হওয়া।
চ্যাডউইক বোজম্যানের মৃত্যুর পর তার মতো জনপ্রিয় হয়ে ওঠা অভিনেতাকে প্রতিস্থাপন করাটাই অসম্ভব মনে হয়েছিল। আয়রন ম্যান চরিত্রে ডাউনি জুনিয়র ছাড়া কাউকে মানা যেতেও পারে কিন্তু ব্ল্যাক প্যান্থার যেন অন্য কেউ নয়। এমনকি অনেকে তো ভেবেছিল অ্যাভেঞ্জার্সের ‘অরিজিনাল
সিক্স’-এর পর তিনিই হবেন মূল অ্যাভেঞ্জার। কিন্তু তা আর সম্ভব নয়। কিন্তু ওয়াকান্ডা ফরএভার নিয়ে রায়ান কুগলার যেভাবে কাজ করেছেন এবং ট্রেলার প্রকাশ হওয়ার পর মনে হচ্ছে একটা বিস্তৃত গল্প ও লড়াইয়ের গল্প পাওয়া যাবে। সিনেমার গল্প যেভাবে টি’চালার স্মৃতির মধ্য দিয়ে এগিয়েছে তাতে ভক্তদের মধ্যে এক ধরনের চাঞ্চল্য ও ভালো লাগার ভাব দেখা যাচ্ছে। গল্প ঘুরিয়ে দেয়া হলে অনেক সময় মূল গল্পের ভাবটা হারিয়ে যায়। কিন্তু এখানে তেমন হয়নি।
টি’চালার চলে যাওয়ার মধ্য দিয়ে ওয়াকান্ডার বাসিন্দাদের প্রথম দায়িত্ব হয়েছে তার উত্তরাধিকার বহন করা। দ্বিতীয় আরেকটি বিষয় হলো মার্ভেলের পরবর্তী পথটা ঠিক করে দেয়া। প্রথম সিনেমাটি ওয়াকান্ডার নিজের গল্প কিন্তু দ্বিতীয়টি অনেক বিস্তৃত। বেশকিছু ক্রসওভারে পাশাপাশি ভিত্তি তৈরির কাজও করা হচ্ছে। এমসিইউ পাচ্ছে নতুন একজন খলনায়ক। নতুন ব্ল্যাক প্যান্থারের পাশাপাশি যুক্ত হচ্ছে আয়রন হার্ট। পঞ্চম ধাপের বীজ রোপণ হবে এ সিনেমার মধ্য দিয়ে। মার্ভেলে মূল যে আকর্ষণ তা চলে গিয়েছে এন্ডগেমের পর থেকেই। শি হাল্ক, আই অ্যাম গ্রুট কিংবা মিস মার্ভেল কনটেন্ট হিসেবে উপভোগ্য কিন্তু মার্ভেলের সিনেমা ও গল্পের যে রস, তা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে নজর থাকবে ওয়াকান্ডা ফরএভারের দিকে।










