অস্কার নিয়ে জোর আলোচনা চলছে বর্তমানে। সেরা সিনেমা, সেরা পরিচালক কে হবেন তা নিয়ে ধরা হচ্ছে বাজি। এর মধ্যে সেরা অভিনেতা হিসেবে ঘুরেফিরে আসছে ব্রেন্ডন ফ্রেজারের নাম। দ্য হোয়েল সিনেমায় তার অনবদ্য অভিনয়ের কারণে তিনি এ পুরস্কার জয় করতে পারেন বলে মনে করেন সিনেমা সমালোচক ও অস্কার বিশেষজ্ঞরা। সিনেমাটি এখনো সর্বসাধারণের জন্য মুক্তি পায়নি কিন্তু বিভিন্ন বিশেষ প্রদর্শনীতে তুমুল প্রশংসা লাভ করেছে। সেই সঙ্গে প্রশংসিত খোদ ফ্রেজার। নতুন করে নিজেকে আবিষ্কার করেছেন তিনি।
প্রায় ১৫ বছর পর ফিরে এলেন ব্রেন্ডন ফ্রেজার। এ বছর ড্যারেন অ্যারনোফস্কির পরিচালনায় ‘দ্যা হোয়েল’ সিনেমাটির মধ্য দিয়ে ব্রেন্ডনকে যেন নতুন করে চিনল সিনেমা জগৎ। অথচ ব্রেন্ডনের ক্যারিয়ার প্রায় ৩০ বছরের। নব্বইয়ের দশকে হলিউডের অ্যাকশন ও মিস্ট্রি জনরার সিনেমায় তিনি ছিলেন অন্যতম পরিচিত ও জনপ্রিয় মুখ। ১৯৯৯ সালের দ্য মামি ও ২০০১ সালের দ্য মামি রিটার্নসের জন্য তিনি সর্বাধিক পরিচিত। মামি ফ্র্যাঞ্চাইজিতে এ দুটো ওই সময়ের জনপ্রিয় সিনেমা। সেখানে রিক চরিত্রে ব্রেন্ডনের অভিনয় থেকে শুরু করে তার পারফরম্যান্স সবার নজরে পড়ে। ফ্রেজার ছিলেন তার সময়ের সুদর্শন নায়কদের মধ্যে একজন। ‘হ্যান্ডসাম’ শব্দটি যেন তার ক্ষেত্রে সুন্দরভাবে মানিয়ে যায়। কিন্তু হলিউডে তিনি মানাতে পারেননি বা হলিউড তাকে মেনে নিতে পারেনি। সে কারণেই দীর্ঘ বিরতি। তবে বিরতির মানেও অবশ্য চলে যাওয়া ছিল না। কিন্তু ফ্রেজার নিজেকে যে মাপে, যে স্থানে নিয়েছিলেন ওই মাপের চরিত্রে ডাক পাননি। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি যেনতেন সিনেমায় ছোট ছোট চরিত্রে অভিনয় করেছেন। সিনেমায় উপযুক্ত চরিত্রে ডাক না পেয়ে করেছেন একাধিক সিরিজ। কিন্তু কোনো অভিনয়ই যেন পুরনো ফ্রেজারকে ফিরে পায়নি। তিনি নিজেও যেন নিজেকে লুকিয়ে বা সরিয়ে রাখতে চাইতেন। হলিউড ও অভিনয়ের প্রতি এক ধরনের অনীহা তৈরি হয়েছিল তার। এর মধ্যে ২০০৩ সালে একজন ক্ষমতাবান ব্যক্তির মাধ্যমে অপমানের শিকার হওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। ফিলিপ বার্ক নামের এ ব্যক্তি হলিউড ফরেন প্রেস অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। বেভারলি হিলস হোটেলে ফ্রেজারকে হেনস্তা করার পর তিনি ভেঙে পড়েন।
এর বাইরেও ফ্রেজারের ব্যক্তিগত জীবনেও রয়েছে নানা উত্থান-পতন। জিকিউ ম্যাগাজিনের সঙ্গে তিনি এসব নিয়ে কথা বলেছেন। ২০০৮ সালের পর থেকেই কমে যায় ব্রেন্ডন ফ্রেজারের কাজের পরিমাণ। কিন্তু ওই বছর তাকে দেখা গিয়েছিল ‘দ্য মামি: টুম্ব অব দ্য ড্রাগন এমপেরর’ ও ‘জার্নি টু দ্য সেন্টার অব দি আর্থ-এর মতো সিনেমায়’। ওই বছর ব্রেন্ডনের ডিভোর্স হয়। অ্যাফটন স্মিথের সঙ্গে ডিভোর্সের পর সাবেক স্ত্রী ও সন্তানের জন্য তাকে মোটা অংকের অর্থ খরচ করতে হতো। ২০১১ সালে তিনি আদালতে পিটিশন করে জানান বার্ষিক ৬ লাখ ডলারের খোরপোশ দেয়ার মতো আর্থিক সংগতি তার নেই। ব্রেন্ডনের তিন সন্তানের বড় গ্রিফিন। অটিজমে আক্রান্ত গ্রিফিনের জন্য আলাদা মনোযোগ দিতে হয়।
সিনেমায় ফেরার ইচ্ছা ব্রেন্ডনের ছিল না এমন নয়। ভ্যারাইটির সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমি অভিনয় ছাড়িনি। ছোটখাটো অনেক চরিত্রে আমাকে দেখা গেছে। তাছাড়া আমি যখন থেকে অভিনয় কমিয়ে দিই (২০০৯-১০), সে তুলনায় সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি অনেক বদলে গেছে। এখন নতুন করে শুরু করাই যায়।’ সেই শুরুটা দারুণভাবেই করেছেন ফ্রেজার। নিজেকে ভেঙে গড়েছেন নতুন করে। হ্যান্ডসাম রিক এখন ৬০০ পাউন্ডের চার্লি। ‘দ্য হোয়েল’ দিয়ে এ প্রজন্মের দর্শকরা নতুন করে চিনছে তাকে। এমনকি তাকে নতুন করে ‘দ্য মামি’ ফ্যাঞ্চাইজিতে অভিনয়ের প্রস্তাব দিলে তিনি সেখানেও নতুন করে ফিরতে রাজি।










