‘স্ট্রেঞ্জার থিংস’ ও ‘দ্য হোয়েল’-এ নজরকাড়া অভিনয়ের পর তাকে এ চরিত্রের প্রস্তাব দেয়া হয়। লন্ডনে ছবির শুটিংয়ে যোগ দেয়ার সময়ও তিনি পুরো চিত্রনাট্য পড়েননি। নিরাপত্তার স্বার্থে তার চরিত্রকে একটি সাংকেতিক নামে উল্লেখ করা হতো। নির্মাতারা বিষয়টি ‘সারপ্রাইজ’ হিসেবে রাখতে চেয়েছিলেন। টম হল্যান্ড ও জেনডায়ার সঙ্গে ফটোশুটে অংশ নেয়া কিংবা সাক্ষাৎকার দেয়ার সময়ও সেটে কী করেছেন, তা এড়িয়ে যাওয়ার সৃজনশীল উপায় খুঁজতে হয়েছে তাকে। মার্ভেলভক্তদের কাছে অবশ্য তার চরিত্র অনুমান করা কঠিন ছিল না। সিঙ্ক অভিনয় করছেন জিন গ্রে চরিত্রে—ওমেগা লেভেলের মিউট্যান্ট, আসন্ন ‘এক্স-মেন’ ছবিতেও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে থাকবেন। সম্প্রতি ভ্যারাইটিকে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন ২৪ বছর বয়সী এ অভিনেত্রী। উল্লেখযোগ্য অংশ অনূদিত হলো বণিক বার্তার পাঠকদের জন্য।
কোন প্রশ্নটির উত্তর দেয়ার জন্য আপনি সবচেয়ে বেশি অপেক্ষা করছিলেন?
জানি না। এটা নিয়ে আসলে ভাবিনি। এত দিন শুধু ভাবছিলাম, আমি কী কী বলতে পারব না। এখন বলতে পারছি, তাই মনে হচ্ছে, ‘১ মিনিট, এটা নিয়ে কথা শুরু করব কীভাবে?’
জিনকে নিয়ে কোথা থেকে শুরু করতে চান? কমিকস ও আগের সিনেমাগুলোয় চরিত্রটি খুবই জনপ্রিয়। এ সুযোগ পাওয়ার আগে আপনি জিনের কতটা ভক্ত ছিলেন?
সত্যি বলতে, জিন সম্পর্কে আমি কিছুই জানতাম না। বছরের পর বছর ধরে অনলাইনে গুজব চলছিল যে আমি হয়তো এ চরিত্রে অভিনয় করব। সেটাই ছিল আমার জানা। কিন্তু আমি কখনো ‘এক্স-মেন’ দেখিনি। তাই চরিত্রটি সম্পর্কে একেবারেই অপরিচিত ছিলাম।
এরপর মার্ভেল থেকে কেভিন (ফাইগি) ও লুই (ডি’এসপোসিতো) আমাকে ফোন করেন। একটি বৈঠকের ব্যবস্থা করেন এবং চরিত্রটি ও ‘স্পাইডার-ম্যান’-এ তার ভূমিকা সম্পর্কে জানান। এরপর আমি জিনকে নিয়ে আরো গবেষণা করি। তখন মনে হলো, ‘হ্যাঁ, এটা তো একেবারেই না করার কোনো কারণ নেই!’ এক্স-মেন ও কমিকসের জগতে সে এতটাই আইকনিক একটি চরিত্র। তাকে নিজের মতো করে পর্দায় তুলে ধরতে আমি ভীষণ উত্তেজিত।
এ জিন গ্রে আগের সিনেমাগুলোর জিনের চেয়ে আলাদা। যেমন, এখানে তার বোন সারা’র সঙ্গে সম্পর্কও দেখানো হয়েছে। গল্পের এ দিক আপনার কাছে কী আকর্ষণীয় লেগেছে?
জিনের একটা অতীত তৈরি করা খুব গুরুত্বপূর্ণ—বিশেষ করে ছবিতে তার কর্মকাণ্ডের কথা বিবেচনা করলে। সে ভীষণ ত্রুটিপূর্ণ একজন মানুষ। আমরা তার জীবনের এমন এক সময় তাকে দেখছি, যখন সে নিজে কাউকে আঘাত করতে চায় বলে মনে হয় না। কিন্তু সে নিজেই এতটা আঘাত পেয়েছে যে সে সেটাকেই একমাত্র বাস্তবতা হিসেবে চেনে। তাই তার অতীত এবং তার কর্মকাণ্ডের পেছনের কারণটা তুলে ধরা খুব শক্তিশালী হয়েছে।
আমাকে বলা হয়েছিল যে আমি ভিলেন, কিন্তু আসলে আমি ভিলেন নই—আর আমি সেভাবেই চরিত্রটি করেছি। আমি তাকে ‘খারাপ মানুষ’-এর মতো করে তুলতে চাইনি। কারণ তার নিজের কাছে তার কাজ পুরোপুরি যৌক্তিক। আমারও মনে হয়, সেটা যৌক্তিক।
যখন চিত্রনাট্য পড়ে দেখলেন ‘ভি-ম্যাক্স’ আসলে কী, তখন আপনার প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল? কারণ প্রেক্ষাগৃহে দর্শক হা করে উঠেছিল।
আমার মনে আছে, মূল চিত্রনাট্যে এটি বোঝার পর আরো কিছু সংলাপ ছিল। জিন নিজেই কথাগুলো উচ্চারণ করছিল। কিন্তু শুটিংয়ের দিন মনে হলো, ‘না, এখানে শুধু একটা দর্শনই যথেষ্ট।’ এটিই আরো পরিষ্কার হবে। আসলে এটা নিয়ে মুখে বলে বোঝানোর দরকার নেই। আমার ভালো লেগেছে, শেষ পর্যন্ত সবকিছুই যে অর্থহীন ছিল, সে রাগের উপলব্ধিই তাকে মুক্ত করে দেয়।
আমার মনে হয়, সে একরকম জানত যে তার বোন আর নেই। শেষ যে তথ্যটুকু তার কাছে ছিল, সেটাকেই সে আঁকড়ে ধরে ছিল। কিন্তু সে জানত, তার বোন এখনো বেঁচে থাকার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। তাই এটি ছিল তার শেষ ট্রিগার অথবা শেষ নিশ্চিত হওয়া।
সে আশা করে ছিল যে আবার বোনকে দেখতে পাবে। তারপর যখন নিশ্চিত হলো এখানেই তার বোন মারা গেছে—এটা ভীষণ নির্মম উপলব্ধি। আপনি কি সারার স্ক্রাঞ্চি সেট থেকে নিয়ে এসেছিলেন?
না, সেটা নিইনি। আমি তার পরা জাম্পস্যুটটা নিয়েছি, কারণ সেটা ভীষণ আরামদায়ক মনে হয়েছিল। এখনো পরিনি। এখন হয়তো পরতেও পারব না, কারণ সেটা একটু বিব্রতকর হবে! তবে সত্যিই জাম্পস্যুটটা খুব আরামদায়ক।
একটা সুয়েড জ্যাকেট ছিল, অনেকটা ‘অলমোস্ট ফেমাস’ ছবির পেনি লেনের জ্যাকেটের মতো। পোশাক পরখ করার সময় সেটা পরেছিলাম এবং আইডিয়াটা আমার খুব পছন্দ হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটা ব্যবহার করা হয়নি। আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম, ‘আমি কি এটা রাখতে পারি?’ ওইটুকুই নিয়েছি।
পরের ছবিতে হয়তো সেটা সঙ্গে নিয়ে যেতে পারবেন?
আশা করি। হ্যাঁ, কোনোভাবে সেটাকে ছবিতে ঢোকাতে হবে।
এ চরিত্র নিয়ে তো অনেক গোপনীয়তা ছিল। আপনি যে চরিত্রটি পেয়েছেন, প্রথমে কাদের বলেছিলেন?
সত্যি বলতে, তিনজনের চেয়ে বেশি মানুষ জানত। ইন্ডাস্ট্রিতে এমন কিছু মানুষ থাকে, যাদের বিশ্বাস করে এসব কথা বলা যায়। আমার পরিবার জানত। এরপর ধীরে ধীরে... ডাফার ব্রাদার্সকে আমি প্রথম দিকেই বলেছিলাম। কারণ তখন তাদের সঙ্গেই শুটিং করছিলাম। আমার ক্যারিয়ার ও জীবনে তারা বড় প্রভাব ফেলেছেন, আমাকে বড় হতে দেখেছেন। তাই আমি চেয়েছিলাম, পরবর্তী কাজ হিসেবে আমি কী করতে যাচ্ছি, সেটা তারা জানুন।










