১৯৯৯ সালের কার্গিল যুদ্ধের ঘটনাপ্রবাহ ভারতীয় বিমানবাহিনীর দৃষ্টিকোণ থেকে তুলে ধরেছে সিরিজটি। যুদ্ধ শুরুর কয়েক মাস আগের ঘটনা দিয়ে সিরিজটির গল্প শুরু হয়। সে সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারি বাজপেয়ী দুই দেশের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়ে পাকিস্তানের লাহোর সফর করেন। মজার ব্যাপার হলো এ সফরে বাজপেয়ীর সঙ্গে ছিলেন অভিনেতা দেব আনন্দ। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের অনুরোধে তিনি যুক্ত হয়েছিলেন এ সফরে।
অপারেশন সফেদ সাগরে বিনয় পাঠক অভিনীত নওয়াজ শরিফকে দেব আনন্দর সঙ্গে তার সাক্ষাতের কথা বলতে দেখা যায়। সেখানে তিনি জানান, দেব আনন্দর সঙ্গে দেখা করা তার কাছে স্বপ্নপূরণের মতো ছিল। বাস্তব জীবনেও দেবের প্রতি নওয়াজের বিশেষ দুর্বলতা ছিল।
সাংবাদিক পুণ্য প্রসূনের মতে, নওয়াজ শরিফই বাজপেয়ীকে অনুরোধ করেছিলেন যেন দেব আনন্দকে তার সঙ্গে নিয়ে আসেন। ২০২৪ সালে আউটলুক-এ প্রকাশিত এক নিবন্ধে পুণ্য প্রসূন লিখেছেন, পাকিস্তান সফরের মাত্র একদিন আগে দেব আনন্দকে বিষয়টি জানানো হয়েছিল।
অটল বিহারি বাজপেয়ী তাকে বলেছিলেন, ‘আগামীকাল প্রস্তুত থাকবেন। কয়েকজন কর্মকর্তা আপনার বাড়িতে আসবেন। দয়া করে দিল্লি চলে আসুন। আর হ্যাঁ, পাসপোর্টটি সঙ্গে নিতে ভুলবেন না। আপনাকে আমার সঙ্গে লাহোর যেতে হবে। প্রতিবেশী দেশেও আপনার অনেক ভক্ত রয়েছেন।’

মূলত সফরের আগে অটল বিহারি বাজপেয়ী নওয়াজ শরিফকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, ভারত থেকে তার জন্য কিছু নিয়ে যেতে চান কিনা। তখনই নওয়াজ শরিফ নাকি বলেছিলেন, ‘সম্ভব হলে দেব আনন্দকে সঙ্গে নিয়ে আসবেন।’
সেখান থেকেই দুজনের দীর্ঘ সম্পর্কের সূচনা। ২০১১ সালে দেব আনন্দর মৃত্যুর পর দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে নওয়াজ শরিফ জানিয়েছিলেন, ১৯৯৯ সালের পর তিনি যখন জেদ্দায় ‘নির্বাসনে’ ছিলেন, তখন দেব আনন্দ তার খোঁজখবর নিতেন।
নওয়াজ বলেছিলেন, ‘তিনি আমার ভালো-মন্দের খোঁজ নিতেন। লন্ডনেও আমাদের বেশ কয়েকবার দেখা হয়েছে। মনে আছে, আমরা হাইড পার্কে হাঁটতে বেরিয়েছিলাম। সেটা ছিল স্বপ্নপূরণের মতো। তিনি আমাকে খুব ভালোবাসতেন।’
একই সাক্ষাৎকারে দেব আনন্দর সঙ্গে তার প্রথম সাক্ষাতের কথাও স্মরণ করেন নওয়াজ। তিনি বলেন, ‘বাসটি ওয়াঘায় পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই দেব সাহেব নেমে এলেন এবং আমরা একে অন্যকে জড়িয়ে ধরলাম। এরপর তিনি আমার ও বাজপেয়ীর হাত ধরলেন। আমাদের দুজনকে একসঙ্গে এনে বললেন, ‘‘আমি দুই দেশকে ঠিক এভাবেই এক করতে এসেছি’’।’
‘গাইড’, ‘জুয়েল থিফ’, ‘সিআইডি’, ‘ট্যাক্সি ড্রাইভার’, ‘জনি মেরা নাম’-এর মতো অসংখ্য সিনেমার জন্য পরিচিত দেব আনন্দর জন্ম লাহোরের কাছে। লাহোরের গভর্নমেন্ট কলেজে পড়াশোনা শেষ করেন এবং ভারত ভাগের আগে তিনি মুম্বাইয়ে (তৎকালীন বোম্বে) চলে যান। ১৯৯৯ সালের আগে নিজের জন্মভূমিতে ফেরার সুযোগ আর হয়নি।
এ সফরে গিয়ে তিনি লাহোর ফোর্ট ও লাহোর গভর্নমেন্ট কলেজ ঘুরে দেখেছিলেন। নিজের শহরে একটা সিনেমার শুটিংও করতে চেয়েছিলেন। তবে তা সম্ভব হয়নি। ২০১১ সালে মারা যান দেব।
২০১১ সালে তার মৃত্যুর পর নওয়াজ দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে জানিয়েছিলেন, অভিনেতার সঙ্গে তার শেষ কথা হয়েছিল মৃত্যুর কয়েক বছর আগে। তখন দেব তাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, একদিন তিনি পাকিস্তানে ফিরবেন।
দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্বনে মাহমুদুর রহমান









