অতিমারী-পরবর্তী সময়ে এর আগে মাত্র একবার গ্রীষ্মকালীন বক্স অফিস এতটা আয় করেছিল। বক্স অফিস ৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছিল ২০২৩ সালে। সে বছর ‘বারবেনহাইমার’ (বারবি ও ওপেনহাইমার) জ্বরে টিকিট বিক্রি বেড়ে মে থেকে আগস্ট পর্যন্ত আয় দাঁড়িয়েছিল ৪০৯ কোটি ডলারে। তবে এবার আয় আরো বাড়ার সম্ভাবনা আছে। গ্রীষ্মকালীন মৌসুম শেষ হবে লেবার ডে-তে। তার এখনো কয়েক সপ্তাহ বাকি। ফলে ২০১৯ সালের পর এ বছরের গ্রীষ্মই বক্স অফিসে সবচেয়ে বেশি আয়কারী সামার হবে বলে জানিয়েছে বক্স অফিস বিশ্লেষক সংস্থা রেন্ট্রাক।
হলিউডের সামার মূলত মে থেকে আগস্ট। চার মাসের এ ব্যস্ত মৌসুম চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বছরের মোট বক্স অফিস আয়ের প্রায় ৪০ শতাংশই আসে এ সময়ে। কভিডের আগে গ্রীষ্মকালীন আয় নিয়মিতভাবে ৪ বিলিয়ন ডলারের সীমা ছাড়িয়ে যেত। মূল্যস্ফীতির হিসাব বাদ দিলে ২০১৩ সালে গ্রীষ্মকালীন বক্স অফিসে সর্বোচ্চ ৪৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার আয় হয়েছিল।
২০১৯ সালে বক্স অফিসের সর্বশেষ ‘স্বাভাবিক’ বছরে, ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’সহ একাধিক বিলিয়ন ডলারের ব্লকবাস্টারের কল্যাণে গ্রীষ্মকালীন আয় দাঁড়িয়েছিল ৪৩০ কোটি ডলারে। ২০১৮ সালে ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ইনফিনিটি ওয়ার’ ও ‘ইনক্রেডিবলস টু’র মতো সিনেমার সাফল্যে গ্রীষ্মকালীন আয় হয়েছিল ৪৪২ কোটি ডলার।
অতিমারীর বছর দুটো চলচ্চিত্র প্রদর্শন ব্যবসাকেই বদলে দিয়েছে। এরপর যেন কোনোভাবেই থৈ পাচ্ছিল না বক্স অফিস। গত বছর সামারে আয় হয়েছিল ৩৬৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার। নেতৃত্বে ছিল ডিজনির ‘লিলো অ্যান্ড স্টিচ’-এর রিমেক। ২০২৪ সালে আয় হয়েছিল ৩৬৭ কোটি ডলার। ওই বছর সবচেয়ে বেশি আয় করা দুটি সিনেমা ছিল ‘ডেডপুল অ্যান্ড উলভারিন’ ও ‘ইনসাইড আউট টু’। ২০২২ সালে আয় হয়েছিল ৩৪০ কোটি ডলার। সে বছর প্যারামাউন্টের ‘টপ গান: ম্যাভেরিকই সবচেয়ে ১০০ কোটি ডলার আয় করেছিল।
এ বছরের গ্রীষ্মে স্টুডিওগুলো একদিকে নতুন কিস্তির নির্ভরযোগ্য ফ্র্যাঞ্চাইজি, অন্যদিকে অপ্রত্যাশিত সাফল্য পাওয়া সিনেমার সমন্বয়ে ভালো ফল পেয়েছে। সনি-মার্ভেলের সিনেমা ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’ এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি আয় করা সিনেমা। উত্তর আমেরিকায় এর আয় ৬৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার। বিশ্বব্যাপী আয় করেছে ১৬৭ কোটি ডলার। ক্রিস্টোফার নোলান পরিচালিত ‘দি ওডিসি’ও প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি সাফল্য পাচ্ছে। মুক্তির চার সপ্তাহ শেষে উত্তর আমেরিকায় সিনেমাটির আয় ৪৬ কোটি ডলার এবং বিশ্বব্যাপী ১১০ কোটি ডলার।
এ বছর অ্যানিমেশন সিনেমাও ভালো আয় করেছে। ডিজনি-পিক্সারের ‘টয় স্টোরি ফাইভ’ ১ বিলিয়ন ডলারের ক্লাবে ঢুকে পড়েছে। শুধু উত্তর আমেরিকাতেই সিনেমাটি আয় করেছে ৪৭ কোটি ডলার। লায়ন্সগেটের ‘মাইকেল’ বসন্তে মুক্তি পেলেও সিনেমাটি কয়েক মাস ধরে দর্শক টেনেছে এবং শেষ পর্যন্ত জুলাইয়ে ১ বিলিয়ন ডলারের ক্লাবে জায়গা করে নিয়েছে।
এছাড়া শীর্ষ আয়কারী সিনেমাগুলোর মধ্যে রয়েছে জেন-জি দর্শকদের মধ্যে জনপ্রিয়তা পাওয়া দুটি স্বল্প বাজেটের হরর সিনেমা। এটোয়েন্টিফোর-এর ‘ব্যাকরুমস’ উত্তর আমেরিকায় ১৯ কোটি ৭০ লাখ, বিশ্বব্যাপী ৩৯ কোটি ৫০ লাখ ডলার আয় করেছে। ফোকাস ফিচার্সের থ্রিলার ‘অবসেশন’ উত্তর আমেরিকায় ২৬ কোটি ৩০ লাখ এবং বিশ্বব্যাপী ৪৮ কোটি ৮০ লাখ মিলিয়ন ডলার আয় করেছে। অন্যদিকে ডিজনির ‘দ্য ডেভিল ওয়্যারস প্রাডা টু’ উত্তর আমেরিকায় ২২ কোটি এবং বিশ্বব্যাপী ৬৯ কোটি ডলার আয় করেছে।
বিভিন্ন ঘরানার এসব সাফল্য বড় বাজেটের বেশকিছু ব্যর্থতার ক্ষতি পুষিয়ে দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ডিজনির ‘স্টার ওয়ার্স’ স্পিন-অফ ‘দ্য ম্যান্ডালোরিয়ান অ্যান্ড গ্রোগু’ ও লাইভ-অ্যাকশন ‘মোয়ানা’, ডিসির কমিক অবলম্বনে নির্মিত ‘সুপারগার্ল’ এবং অ্যামাজন এমজিএমের ‘মাস্টার্স অব দ্য ইউনিভার্স’।
বক্স অফিসের এ গতি প্রদর্শকদেরও আশাবাদী করে তুলেছে। তাদের বিশ্বাস, মহামারীর পর এ বছরই প্রথমবারের মতো উত্তর আমেরিকার টিকিট বিক্রি ১০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। গ্রীষ্মের মৌসুম শেষ হবে ওয়ার্নার ব্রাদার্সের ‘দ্য এন্ড অব ওক স্ট্রিট’ এবং সনির অতিপ্রাকৃত থ্রিলার ‘ইনসিডিয়াস: আউট অব দ্য ফার্দার’ দিয়ে। সায়েন্স ফিকশন ঘরানার ‘দ্য এন্ড অব ওক স্ট্রিট’-এ অভিনয় করছেন অ্যান হ্যাথাওয়ে ও ইওয়ান ম্যাকগ্রেগর।
এ বছরটাই বক্স অফিসের ভালো যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কেননা শরতেও বেশকিছু ভালো ও বড় বাজেটের সিনেমা আছে। টম ক্রুজ অভিনীত ডিগার, নিকোল কিডম্যান ও স্যান্ড্রা বুলকের ‘প্র্যাকটিক্যাল ম্যাজিক টু’, লায়ন্সগেটের ‘দ্য হাঙ্গার গেমস’ সিরিজের প্রিকুয়েল ‘সানরাইজ অন দ্য রিপিং’ আছে মুক্তির অপেক্ষায়। বছর শেষ হবে ওয়ার্নার ব্রাদার্সের ‘ডুন: পার্ট থ্রি’ ও মার্ভেলের ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ডুমসডে’।
বক্স অফিসের দুরবস্থার কারণে অনেক নির্মাতা ও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানও সিনেমা নির্মাণে পিছিয়ে এসেছিল। তবে এ বছরের অবস্থা দেখে তারা আবার নতুন উদ্যমে এগোবেন বলেই মনে হয়। তবে সেক্ষেত্রে পরিকল্পনা ও মৌলিক গল্প গুরুত্ব রাখবে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।
ভ্যারাইটি ও ডেডলাইন অবলম্বনে মাহমুদুর রহমান










