অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সাবেক মন্ত্রিপরিষদ
সচিব কবির বিন আনোয়ার, সাবেক সংসদ সদস্য এবং সাবেক পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর
গাজী, সাবেক সংসদ সদস্য ধীরেন্দ্র নাথ শম্ভুসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বাকিরা হলেন, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী
শরীফ আহমেদ ও সাবেক সংসদ সদস্য শাহে আলম তালুকদার।
রোববার (২৫ আগস্ট) এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে
বলে দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) আকতারুল ইসলাম জানিয়েছেন। অনুসন্ধানগুলো দুদকের বিশেষ
তদন্ত শাখা থেকে পরিচালিত হবে।
তবে এখনও অনুসন্ধান কর্মকর্তা নিয়োগ বা দল
গঠন করা হয়নি। সোমবার সরকারি ছুটি থাকায় মঙ্গলবার অনুসন্ধান কর্মকর্তা নিয়োগ বা দল
গঠন করা হতে পারে বলে বণিক বার্তাকে জানিয়েছেন দুদকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
কবির বিন আনোয়ারের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার
এবং বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে নিজ ও পরিবারের সদস্যদের নামে অবৈধ সম্পদ অর্জনের
অভিযোগ রয়েছে।
দুদকের ঊর্ধ্বতন একটি সূত্র বণিক বার্তাকে
জানিয়েছে, কবির বিন আনোয়ারের বিরুদ্ধে ২০২২ সালের নভেম্বর মাসে অভিযোগ জমা পড়ে দুদকে।
অথচ এতদিন পর ২০২৪ সালে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিল দুদক।
এই বিষয়ে একজন কর্মকর্তা বণিক বার্তাকে বলেন,
এত দিন গোয়েন্দা অনুসন্ধান ছিল। এখন প্রকাশ্য অনুসন্ধান শুরু হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তথ্য বলছে, মন্ত্রিপরিষদ
সচিব হিসেবে তিনি মাত্র ১৯ দিন দায়িত্বে ছিলেন। তিনি দায়িত্বভার গ্রহণ করেন ২০২২ সালের
১৮ ডিসেম্বর। অবসরে যান ২০২৩ সালের ৩ জানুয়ারি। তার জন্ম ১৯৬৪ সালে সিরাজগঞ্জ জেলায়।
১৯৮৮ সালে সহকারী কমিশনার হিসেবে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে যোগ দেন তিনি। ২০১৮ সালে
জ্যেষ্ঠ সচিব হিসেবে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। সেখান থেকে তাকে মন্ত্রিপরিষদ
সচিবের দায়িত্ব দেয় সরকার। ছাত্রজীবনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলের ছাত্রলীগ
থেকে নির্বাচিত সভাপতি ছিলেন।
নারায়ণগঞ্জ ১ আসনে পর পর চারবার নির্বাচিত
হয়েছেন গোলাম দস্তগীর গাজী। তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারি
অর্থ আত্মসাৎ, নিজ ও পরিবারের সদস্যদের নামে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং অর্থপাচারের
অভিযোগ রয়েছে। শনিবার রাত পৌনে ৩টার দিকে ঢাকার শান্তিনগর থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, তার বিরুদ্ধে দুদকের
গোয়েন্দা শাখায় আগে থেকেই অনুসন্ধান চলমান ছিল।
ধীরেন্দ্র নাথ শম্ভু তিন দশক ধরে জেলা আওয়ামী
লীগের সভাপতির পদে ছিলেন। পাঁচ বার আসনটির সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তার ও পরিবারের
বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, মাদক ব্যবসা, বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে পাঁচশ
কোটি টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধেও দুদকে অনুসন্ধান
চলমান ছিল।
এছাড়া গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক
প্রতিমন্ত্রী ও ময়মনসিংহ ২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শরীফ আহমেদ ও বরিশাল ২ আসনের সাবেক
সংসদ সদস্য শাহে আলম তালুকদারের বিরুদ্ধেও ক্ষমতার অপব্যবহার, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ
ও জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদে অর্জনের অভিযোগ রয়েছে।










