তিস্তা নদী সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে (টিআরসিএমআরপি) চীনের সম্পৃক্ততা ও সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ। বুধবার বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক যৌথ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই’র আমন্ত্রণে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খালিলুর রহমান ৫ থেকে ৭ মে ২০২৬ পর্যন্ত চীন সফর করেন; এটি ছিল তাঁর প্রথম চীন সফর। সফরকালে দুই পক্ষ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে গভীর আলোচনা করে এবং বিস্তৃত ঐকমত্যে পৌঁছায়। পাশাপাশি একে অপরের মৌলিক স্বার্থে সমর্থন এবং প্রধান উদ্বেগসমূহ মোকাবেলায় দৃঢ় প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

উভয় পক্ষ শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পাঁচ নীতিতে অটল থাকার, উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের গতি বজায় রাখার, রাজনৈতিক পারস্পরিক আস্থা ও উন্নয়ন কৌশলের সমন্বয় জোরদার করার এবং চীন-বাংলাদেশ সমন্বিত কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারিত্ব এগিয়ে নেয়ার বিষয়ে একমত হয়।

বৈঠকে উভয় পক্ষ জোর দিয়ে উল্লেখ করে যে, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ২৭৫৮ নম্বর প্রস্তাবের কর্তৃত্ব প্রশ্নাতীত। বাংলাদেশ ‘এক-চীন নীতি’র প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে এবং তাইওয়ানকে চীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। বাংলাদেশ যে কোনো ধরনের ‘তাইওয়ান স্বাধীনতা’র বিরোধিতা করে এবং জাতীয় পুনঃএকত্রীকরণে চীনা সরকারের প্রচেষ্টাকে দৃঢ় সমর্থন জানায়। অপরদিকে, চীন বাংলাদেশের জাতীয় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে এবং বাংলাদেশের জনগণের নিজস্ব বাস্তবতানির্ভর উন্নয়নপথের প্রতি সম্মান জানায়।

বাংলাদেশ চীনের ১৫তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার সফল সূচনাকে অভিনন্দন জানায়। চীন বাংলাদেশের নতুন সরকারের রাজনৈতিক কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে। উভয় পক্ষ উচ্চমানের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ সহযোগিতা জোরদার করা, অর্থনীতি ও বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিল্প, ডিজিটাল অর্থনীতি, পানি সম্পদ, স্বাস্থ্য এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণে একমত হয়। বাংলাদেশের উন্নয়নে দীর্ঘদিনের সমর্থনের জন্য বাংলাদেশ চীনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ পক্ষ তিস্তা নদী সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে (টিআরসিএমআরপি) চীনের সম্পৃক্ততা ও সহায়তা কামনা করে।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং প্রস্তাবিত ‘মানবজাতির অভিন্ন ভবিষ্যৎ নির্মাণ’ উদ্যোগের প্রশংসা করা হয় এবং চীনের বৈশ্বিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগকে স্বাগত জানানো হয়।

উভয় পক্ষ জাতিসংঘ সনদের উদ্দেশ্য ও নীতিমালা, বহুপাক্ষিকতা, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের গণতন্ত্রায়ন এবং বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে। পাশাপাশি একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থা এবং সবার জন্য উপকারী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক বিশ্বায়ন এগিয়ে নিতে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে একমত হয়।

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং প্রস্তাবিত চার দফা উদ্যোগের প্রশংসা করে বাংলাদেশ। উভয় পক্ষ অবিলম্বে ও পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানায়, শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সহায়ক সব কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে, বেসামরিক স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং হরমুজ প্রণালীতে স্বাভাবিক নৌচলাচল বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া জনগোষ্ঠীর বিষয়ে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজে পেতে সংলাপ ও পরামর্শ প্রক্রিয়ায় চীন তার সমর্থন অব্যাহত রাখবে এবং প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় সামর্থ্য অনুযায়ী সহায়তা প্রদান করবে।

সফর শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খালিলুর রহমান আন্তরিক আতিথেয়তা প্রদানের জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এবং চীনা সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি সুবিধাজনক সময়ে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।