ভারত, পাকিস্তান ও নেপালের রাষ্ট্রপতিসহ চীন, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত এবং মিশনপ্রধানরা নতুন রাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন জানান। বিশ্বনেতারা নিজ নিজ দেশের বার্তার মাধ্যমে বাংলাদেশের সমৃদ্ধি, গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরো সুদৃঢ় ও সম্প্রসারিত করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছেন ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। গতকাল এক অভিনন্দন বার্তায় তিনি নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম সফলভাবে তার মেয়াদ পূর্ণ করবেন বলে আস্থা প্রকাশ করেন।

মুর্মু বলেন, ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় আপনাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।’

ভারতের রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘জনজীবন ও রাজনৈতিক নেতৃত্বে মির্জা ফখরুলের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জনগণের সেবায় তার সফল মেয়াদের সূচনা করবে।’

মুর্মু বলেন, ‘ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে অনন্য সম্পর্ক রয়েছে, যার ভিত্তি অভিন্ন ত্যাগের ইতিহাস, ঘনিষ্ঠ সাংস্কৃতিক বন্ধন ও উষ্ণ বন্ধুত্ব। সাম্প্রতিক সময়ে দুই প্রতিবেশী দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জ্বালানি, প্রযুক্তি, যোগাযোগ, যুববিষয়ক কার্যক্রম, স্বাস্থ্য ও শিক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ধারাবাহিকভাবে বিস্তৃত হয়েছে। আমাদের দুই প্রতিবেশী দেশের অংশীদারত্ব আরো জোরদার করতে আপনার সঙ্গে কাজ করার অপেক্ষায় রয়েছি।’

মুর্মু রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের সুস্বাস্থ্য ও সুখ এবং সফলভাবে দায়িত্ব পালনের জন্য শুভকামনা জানান। তিনি বাংলাদেশের জনগণের অব্যাহত অগ্রগতি ও সমৃদ্ধিও কামনা করেন।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচিত হওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি। ঢাকায় অবস্থিত পাকিস্তান হাইকমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জারদারি আশা প্রকাশ করেন যে রাষ্ট্রপতির যোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ তার অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখবে ও জনগণের কল্যাণে নতুন মাত্রা যোগ করবে।

অভিন্ন ইতিহাস, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বন্ধনের ভিত্তিতে দুই দেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে জারদারি সাম্প্রতিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ইতিবাচক গতিকে স্বাগত জানান। পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বৃদ্ধি ও দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ জোরদারে একযোগে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন তিনি। এর পাশাপাশি দুই দেশের সম্পর্ক গভীর করা ও সহযোগিতার ক্ষেত্র বিস্তারের লক্ষ্যে সুবিধাজনক সময়ে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে পাকিস্তান সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান জারদারি। বার্তায় তিনি রাষ্ট্রপতির সফলতা এবং বাংলাদেশের জনগণের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।

বাংলাদেশের নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন নেপালের রাষ্ট্রপতি রামচন্দ্র পৌডেল। গতকাল এক অভিনন্দন বার্তায় রামচন্দ্র পৌডেল নতুন দায়িত্ব পালনে তার সর্বাত্মক সাফল্য কামনা করেন।

বার্তায় নেপালের রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে বিদ্যমান দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও পারস্পরিক যোগাযোগ আরো জোরদার করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ঐতিহাসিক সম্পর্ক ও জনগণের সঙ্গে জনগণের শক্তিশালী বন্ধনে আবদ্ধ দুই দেশ ভবিষ্যতেও বিভিন্ন ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। রাষ্ট্রপতি পৌডেল আশাবাদ প্রকাশ করেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে বাংলাদেশ আরো সমৃদ্ধি ও সাফল্যের পথে এগিয়ে যাবে।

রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন ও ফলাফল ঘোষণার পর পরই বৈশ্বিক জলবায়ু ও ভূরাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা দেশগুলো ঢাকার কূটনীতিকদের মাধ্যমে দ্রুত অভিনন্দন বার্তা পাঠায়। সংসদ ভবনে গত বৃহস্পতিবার বেলা ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত আয়োজিত রাষ্ট্রপতির নির্বাচনে ২৫৫টি ভোট পেয়ে বিজয়ী হন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী অলি আহমদ পান ৮৮টি ভোট। ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা অভিনন্দন বার্তার মাধ্যমে শুভেচ্ছা জানান।

সিইসি কর্তৃক ফলাফল ঘোষণার পরই চীনের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে অভিনন্দন বার্তা দেয়া হয়। বেইজিং উল্লেখ করে, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের গভীরতাকে চীন অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় ও নতুন যুগে যৌথ প্রচেষ্টায় ‘অভিন্ন ভবিষ্যতের জন্য চীন-বাংলাদেশ কমিউনিটি’ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করতে তারা প্রস্তুত। চীনের পরই যুক্তরাজ্যের ব্রিটিশ হাইকমিশন অভিনন্দন জানিয়ে বার্তা দেয়। বার্তাটিতে বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারের সঙ্গে কাজ করে দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারত্বকে আরো শক্তিশালী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

ভোটের পরদিন ঢাকার ফ্রান্স ও সুইজারল্যান্ড দূতাবাস পৃথক বার্তা প্রকাশ করে। ফ্রান্স তাদের বার্তায় বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় প্রবীণ রাজনীতিবিদ হিসেবে মির্জা ফখরুলের দীর্ঘদিনের অবদানের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে। বন্ধুরাষ্ট্র হিসেবে ফ্রান্স দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক গভীর করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে। অন্যদিকে সুইজারল্যান্ড দূতাবাসও বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অংশীদার হিসেবে দুই দেশের মধ্যকার বন্ধুত্ব ও বহুমাত্রিক সম্পর্ক আরো জোরদারে একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।

গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচন শেষে ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এ শপথ গ্রহণ এবং বিশ্বনেতাদের অভূতপূর্ব অভিনন্দন বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য এক ইতিবাচক বার্তা বহন করছে।