বর্ষা মৌসুমে মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর আটটি পয়েন্ট ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। দুর্ঘটনা এড়াতে ১৫ মার্চ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত এসব রুটে ছোট ছোট নৌযান চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এ সময়ে বে-ক্রুজিং সনদ অর্থাৎ সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তর অনুমোদিত নৌযান ছাড়া সব ধরনের নৌযান চলাচল বেআইনি ঘোষণা করা হয়েছে। তবে নিষেধাজ্ঞা মানছেন না নৌযান চালকরা। ঝুঁকি নিয়ে ডেঞ্জার পয়েন্টে ফিটনেসবিহীন নৌযানে যাত্রী পারাপার করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) সূত্রে জানা গেছে, ভোলাসহ দেশের দক্ষিণ উপকূলের আটটি নৌ-পয়েন্টকে ডেঞ্জার জোন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ফিটনেসবিহীন ও ছোট ছোট লঞ্চ বা ট্রলার চালাচল করলে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ও জরিমানার নির্দেশনাও রয়েছে।

নৌরুটে চলাচলকারী যাত্রীরা বলছেন, ভোলা-ঢাকা ও ভোলা-বরিশাল ছাড়াও আরো ২২টিরও বেশি রুট রয়েছে। যার একমাত্র বাহন হচ্ছে লঞ্চ, ট্রলার কিংবা ছোট ছোট নৌযান। এসব রুটের মধ্যে শুধু ইলিশা থেকে লক্ষ্মীপুরের মজুচৌধুরীর হাট ও তজুমদ্দিন উপজেলা থেকে মনপুরা রুটে নিরাপদ নৌযান হিসেবে সি-ট্রাক চলাচল করে। বাকি সব রুটে চলছে ফিটনেসবিহীন ছোট ছোট লঞ্চ, ট্রলার কিংবা ইঞ্জিনচালিত নৌকা। নিরাপদ নৌযান না থাকায় বাধ্য হয়েই যাত্রীরা ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে।

এ ব্যাপারে মনপুরা উপজেলা চেয়ারম্যান জাকির হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘মনপুরা হচ্ছে ভোলা থেকে বিচ্ছিন্ন একটি উপজেলা। এর সঙ্গে জেলার যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম একটি মাত্র সি-ট্রাক। তবে দিনে একবার চলাচল করায় এ অঞ্চলের মানুষের প্রয়োজন মিটছে না। শুষ্ক মৌসুমে বিভিন্ন ধরনের নৌযান ব্যবহার সম্ভব হলেও বর্ষায় তা সম্ভব হয় না। সি-ট্রাকের ওপরই মনপুরাবাসীকে নির্ভর করতে হয়। নিরাপদ নৌযানের অভাবে মনপুরা থেকে আরো ১০টি রুটে ছোট ছোট লঞ্চ ও ট্রলারে উত্তাল মেঘনা পাড়ি দিচ্ছে এ অঞ্চলের মানুষ।’

এ ব্যাপারে বিআইডব্লিউটিএর ভোলা জেলার দায়িত্বে থাকা ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মো. জাহিদুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ভোলার বিভিন্ন রুটে নিরাপদ নৌযান সংকটের বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।’