নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে ওঠা পাঁচটি অভিযোগের প্রতিবাদ জানিয়েছে ইউনূস সেন্টার। এর আগে গ্রামীণ ব্যাংকের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, ড. ইউনূস ও তার পরিবারের মালিকানাধীন প্যাকেজেস করপোরেশন লিমিটেডকে নিয়মকানুন না মেনে ৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা ঋণ দেয়া হয়। গতকাল এর জবাবে ইউনূস সেন্টার জানায়, গ্রামীণ ব্যাংকের নিয়মকানুন মেনেই ঋণ দেয়া হয়। 

দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়, ইউনূস ও তার পরিবার ব্যাংকের কোটি কোটি টাকার প্রিন্টিং সামগ্রী চড়া দামে ছাপানোর জন্য পারিবারিক কোম্পানিকে কার্যাদেশ দিয়ে বিপুল আর্থিক সুবিধা নেন। এর জবাবে ইউনূস সেন্টার জানায়, প্যাকেজেস করপোরেশনের মালিকরা গ্রামীণ ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে কোনো আর্থিক সুবিধা নেননি। তৃতীয় অভিযোগে বলা হয়, গ্রামীণ ব্যাংক অধ্যাদেশ ১৯৮৩ অনুযায়ী ব্যাংকের ঋণ সুবিধা ভূমিহীন দরিদ্র ঋণগ্রহীতাদের জন্য সীমাবদ্ধ। কিন্তু ড. ইউনূস আইন ভেঙে পারিবারিক প্রতিষ্ঠান প্যাকেজেস করপোরেশনকে ঋণ দেন। এর জবাবে ইউনূস সেন্টার জানায়, প্যাকেজেস করপোরেশন দাতা সংস্থার সহায়তায় তৈরি সোশ্যাল ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ড থেকে ঋণ পেয়েছিল। আর গ্রামীণ ব্যাংক এবং প্যাকেজেস করপোরেশনের মধ্যে চুক্তি অনুসারে, প্যাকেজেস করপোরেশন কোনো লাভ করলে মালিক পক্ষ কখনই এর অংশ পাবে না। চতুর্থ অভিযোগে বলা হয়, প্যাকেজেস করপোরেশন ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে ড. ইউনূস ব্যাংকের কাছ থেকে তা মওকুফ করান। এর জবাবে ইউনূস সেন্টার জানায়, ড. ইউনূসের পরিবার প্যাকেজেস করপোরেশনের আর্থিক বিষয়ে জড়িত ছিল না। মালিক পক্ষ কোনো ঋণ নেয়নি। কাজেই মওকুফ করার প্রশ্নই ওঠে না। পঞ্চম অভিযোগে বলা হয়, পরিচালনা পর্ষদকে না জানিয়ে চুক্তি করা হয় এবং ব্যাংকের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীকে প্যাকেজেস করপোরেশনে নিয়োগ দেয়া হয়। এছাড়া গ্রামীণ ব্যাংকের অফিস বিনামূল্যে ব্যবহার করা হয়। এর জবাবে ইউনূস সেন্টার জানায়, প্যাকেজেস করপোরেশনের সঙ্গে গ্রামীণ ব্যাংকের চুক্তি বোর্ডসভায় অনুমোদনের ফলে করা হয়েছে। এছাড়া গ্রামীণ ব্যাংক যখন মুদ্রণের কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব নেয় তখন কাজের সুবিধার্থে কয়েকজন কর্মীকে নতুন দায়িত্ব দেয়। —বিজ্ঞপ্তি