‘যশোরের দুঃখ’ হিসেবে পরিচিত ভবদহের দীর্ঘ জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের পথে হাঁটছে সরকার। এ লক্ষ্যে এরই মধ্যে কাজ শুরু হয়েছে।

গতকাল দুপুরে ভবদহ জলাবদ্ধ অঞ্চল পরিদর্শনকালে এ কথা জানান জলবায়ু পরিবর্তন ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম ও স্বরাষ্ট্র এবং কৃষি উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। অন্তর্বর্তী সরকারের তিন উপদেষ্টা একসঙ্গে এ অঞ্চল পরিদর্শনে আসেন। তাদের সঙ্গে ছিলেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবরা।

গতকাল দুপুরে পরিদর্শন শেষে ভবদহ কলেজ মাঠে ব্রিফ করেন রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেন, ‘গতবারের মতো এবার বর্ষায় যাতে জলাবদ্ধতা না হয়, সেজন্য সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ভবদহ এলাকার নদী খননকাজ শুরু হবে। জলাবদ্ধতা নিরসনে যেসব সেচ পাম্প কাজ করছে, সেগুলোর বিদ্যুৎ বিল এরই মধ্যে ৪৬ শতাংশ কমিয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ। এ এলাকার জন্য কৃষি ব্যাংকের ঋণের সুদ মওকুফের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভবদহ জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান যাতে হয়, সে ব্যাপারে উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘২০০৫ সালে ভবদহ সমস্যার সমাধান করা সহজ ছিল। কিন্তু সে সময় সরকার সদিচ্ছা দেখায়নি। বর্তমান সরকার এ সমস্যার চিরস্থায়ী সমাধানের জন্য এরই মধ্যে ভিজিবিলিটি স্টাডি শুরু করেছে। পক্ষ-বিপক্ষ সবার কাছ থেকে এ ব্যাপারে মতামত নেয়া হবে। এরপর বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

গতকাল সকাল ১০টার দিকে যশোরের অভয়নগরের নওয়াপাড়া সরকারি কলেজ মাঠে হেলিকপ্টারে নামেন তিন উপদেষ্টা। এরপর তারা এ অঞ্চলের ধানখেত পরিদর্শন করেন। এর আগে থেকেই ভবদহ পাড়ের মানুষ ভবদহের স্থায়ী সমাধানে বিভিন্ন দাবি-দাওয়া সংবলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে সেখানে অবস্থান নেন। এ সময় তারা দ্রুত টিআরএম চালুসহ স্থানীয় নদীগুলো খনন করার দাবি জানান।

যশোরের অভয়নগর, মণিরামপুর ও কেশবপুর এবং খুলনার ডুমুরিয়া ও ফুলতলা উপজেলার অংশবিশেষ নিয়ে ভবদহ অঞ্চল। পলি পড়ে এ অঞ্চলের পানি নিষ্কাশনের মাধ্যমে মুক্তেশ্বরী, টেকা, শ্রী ও হরি নদী নাব্য হারিয়েছে। বর্ষা মৌসুমে উজানের পানি এসব নদী দিয়ে নামতে পারে না। ফলে নদী উপচে সেই পানি বিল-মাঠ ছাপিয়ে ঘরবাড়িতে প্রবেশ করে। বর্ষায় জলাবদ্ধতা ক্ষেতের ফসল, ঘেরের মাছ সবই কেড়ে নেয়। জলাবদ্ধ থাকে শতাধিক গ্রামের ঘরবাড়ি, ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাস্তাঘাট, কৃষিজমি এবং মাছের ঘের। এ অঞ্চলের চার লক্ষাধিক মানুষ ঠাঁই নিয়েছে মহাসড়কের ধারে বা স্কুল কিংবা আশ্রয় কেন্দ্রে। গত চার দশকে ভবদহ অঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রায় ৬৫০ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন হলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিগত সরকারগুলোর স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কর্মকর্তারা বরাদ্দের অর্থের সিংহভাগ লুটপাট করেছেন।