দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক প্রকৌশল ডিগ্রিধারী শিক্ষার্থী বের হয়। এসব শিক্ষার্থীর বড় একটি অংশ বাস্তব দক্ষতায় পিছিয়ে রয়েছে। ফলে তারা শিল্পখাতের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারছেন না। এ প্রেক্ষিতে প্রকৌশল শিক্ষার মান নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে আগামীতে দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ধস নামবে বলে মনে করেন প্রকৌশল বিশেষজ্ঞরা।

রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনিস্টিটিউশন, বাংলাদেশে (আইইবি) আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন প্রকৌশলীরা। আইইবির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বুধবার এ মত বিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।

সভায় আইইবির সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী অধ্যাপক ড. মো. সাব্বির মোস্তফা খান বলেন, দেশে বিদ্যমান ৫টি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার গুণগত মান সন্তোষজনক। এগুলো ছাড়াও আরো ৪০টি পাবলিক এবং ১০৩টি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় প্রকৌশল ডিগ্রি দিচ্ছে। কিছু কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল শিক্ষার গুণগত মান প্রশ্নবিদ্ধ। এ মান নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে ভবিষ্যতে প্রকৌশল শিক্ষা হুমকির মধ্যে পড়বে এবং দেশে উন্নয়নমূলক কাজের গুণগত মানে ধস নামবে।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রকৌশল শিক্ষার মান নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা প্রণয়ন প্রয়োজন বলেও মনে করেন এ প্রকৌশলী। এজন্য বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনকে (ইউজিসি) ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন আইইবির সভাপতি প্রকৌশলী মোহাম্মদ রিয়াজুল ইসলাম (রিজু)। তিনি বলেন, প্রকৌশল খাতকে শক্তিশালী করতে হলে শুধু অবকাঠামো নির্মাণ নয়, সুশাসন নিশ্চিত করাও জরুরি। উন্নয়ন প্রকল্পে পেশাদারত্ব, দক্ষতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

দেশের অবকাঠামোখাতে সরকারি যেকোনো প্রকল্পে অনেক বেশি ব্যয়ের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এসব প্রকল্পে বাড়তি ব্যয়ের কারণ খুঁজে বের করতে আইইবির পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

সভায় বলা হয়, বেসরকারি খাতের প্রকৌশলীদের বড় একটি অংশ তুলনামূলকভাবে কম বেতন, চাকরির অনিশ্চয়তা এবং সুযোগ-সুবিধার ঘাটতির মধ্যে কাজ করছেন। এ বাস্তবতায় বেসরকারি প্রকৌশলীদের জন্য একটি জাতীয় পর্যায়ের চাকরিবিধি প্রণয়ন দরকার। এছাড়া দেশের বিভিন্ন প্রকৌশল সংস্থা ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে কারিগরি জ্ঞানহীন ব্যক্তিদের নিয়োগ দেয়া হয়; যা প্রকল্প বাস্তবায়নে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। সেজন্য প্রকৌশল সংস্থাগুলোর চেয়ারম্যান, পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান, প্রকল্প পরিচালক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোয় প্রকৌশলীদের নিয়োগ নিশ্চিত করা দরকার। একইসঙ্গে বিসিএস পানি সম্পদ প্রকৌশল ক্যাডার ও টেক্সটাইল ক্যাডার প্রবর্তনেরও আহ্বান জানানো হয় সভায়।

আইইবির সহকারী সাধারণ সম্পাদক (প্রশাসন ও অর্থ) প্রকৌশলী মুহাম্মদ আহসানুল রাসেলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন আইইবির ভাইস-প্রেসিডেন্ট (প্রশাসন ও অর্থ) প্রকৌশলী এ.টি.এম. তানবীর-উল-হাসান (তমাল)। এসময় সংস্থাটির আরো বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।