চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে যক্ষ্মা রোগী। সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেও রোগটি নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। এক বছর কমলে পরের বছর আবারো বেড়ে যাচ্ছে। গত ছয় বছরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩ হাজার ৮৭৯ রোগীর যক্ষ্মা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে মারা গেছে ৩৬ জন। এছাড়া ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শনাক্ত হয়েছে ৬২১ রোগী। নয় মাসে মারা গেছে চারজন।
মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চারটি ফেজে (তিন মাস অন্তর একটি ফেজে) প্রায় ১৫ হাজার ব্যক্তির কফ পরীক্ষা করে ৭৮২ রোগীর যক্ষ্মা শনাক্ত হয়। ওই বছর মারা যায় সাতজন। ২০১৯ সালে শনাক্ত হয় ৮৫১ জন। মারা যায় ১২ জন। ২০২০ সালে কভিড থাকায় অনেকে ভয়ে ঘর থেকে বের হয়নি। তবুও ওই বছর ৫৬৩ জনের যক্ষ্মা শনাক্ত হয়। মারা যায় সাতজন। ২০২১ সালে প্রথম ফেজে (জানুয়ারি-মার্চ) ৫৬৩ নারী ও ৬২৫ পুরুষের কফ পরীক্ষা করা হয়। এতে রোগী শনাক্ত হয়েছে ১৪০ জন। দ্বিতীয় ফেজে (এপ্রিল-জুন পর্যন্ত) ৪৯৬ নারী ও ১ হাজার ৬৬ পুরুষের কফ পরীক্ষা করা হলে শনাক্ত হয় ১৬৬ জন। তৃতীয় ফেজে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ১ হাজার ৪১৯ জন নারী ও ১ হাজার ৪৯৫ পুরুষের কফ পরীক্ষা করে রোগী পাওয়া যায় ২০৮ জন। চতুর্থ ফেজে (অক্টোবর-ডিসেম্বর পর্যন্ত) ১ হাজার ৬৪২ পুরুষ ও ১ হাজার ৩৩৫ নারীর কফ পরীক্ষা করে ২০৫ রোগী শনাক্ত হয়।
এছাড়া ইপি (এস্ট্রা পারমোনালি) রোগী পাওয়া যায় ২৭৪ জন। ওই বছর মোট ১১ হাজার ৬৬৭ জনকে পরীক্ষা করে ৯৯৩ জনের যক্ষ্মা শনাক্ত হয়। মারা যান আটজন। ২০২২ সালে প্রায় ১৩ হাজার রোগীকে চারটি ফেজে পরীক্ষা করে ৭১০ জনের শরীরে যক্ষ্মা শনাক্ত হয়। ওই বছর মারা যান দুজন। সর্বশেষ ২০২৩ সালের জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনটি ফেজে প্রায় ৯ হাজার রোগীকে পরীক্ষা করে ৬২১ জনের শরীরের যক্ষ্মা শনাক্ত হয়েছে। মারা গেছেন চারজন।
উপজেলা টিবি ল্যকটোজেন কন্ট্রোল এসি টেস্ট (টিএলসিএ) হুমায়ূন কবির জানান, যক্ষ্মা রোগীকে দুই মাস, তিন মাস ও পাঁচ মাস পর পরীক্ষা করা হয়। বেশি জটিল রোগীদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল অথবা ফৌজদারহাট হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. মিনহাজ উদ্দিন জানান, বিনামূল্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যক্ষ্মা রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা দেয়া হয়। এছাড়া এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে নিয়মিত সভা, সেমিনার আয়োজন করা হচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, জিন পরীক্ষার জন্য বেলজিয়াম থেকে একটি মূল্যবান মেশিন আনা হয়েছে। যাতে কোনো প্রকার ত্রুটি ছাড়াই যক্ষ্মা পরীক্ষা করা হয় বিনামূল্যে। অন্যান্য দেশে এ পরীক্ষাটি করতে ৫০-৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। যক্ষ্মা একটি ছোঁয়াচে রোগ। একজন থেকে কমপক্ষে ১০ জনের কাছে এ রোগ ছড়াতে পারে। তাই এক নাগাড়ে দুই সপ্তাহ কাশি থাকলে দ্রুত যক্ষ্মা পরীক্ষা করা উচিত। অতিরিক্ত ধূমপান, মদপান, বদ্ধঘরে থাকলেও যক্ষ্মা হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
যক্ষ্মা নিয়ে কাজ করা এনজিও সংস্থা ব্র্যাকের উপজেলা সিডিপি ম্যানেজার খুরশিদ আলম বলেন, ‘যারা যক্ষ্মা জীবাণু বহন করে অজান্তে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ায়, তারা এক একটি বোমা। কারণ একজন যক্ষ্মা রোগী থেকে কমপক্ষে ১০ জন আক্রান্ত হতে পারে। তাই আমাদের সচেতন হতে হবে।’










