ঈদ বোনাস পরিশোধের নির্দেশনা ছিল ১২ মার্চের মধ্যে। যদিও শিল্প অধ্যুষিত এলাকাগুলোর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার কাজে নিয়োজিত সংস্থা শিল্প পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল ১৯ মার্চ বিকাল ৪টা পর্যন্ত আট শিল্প এলাকার ৫৮২টি বা ৫ দশমিক ৭৬ শতাংশ কারখানার কর্মীরা ফেব্রুয়ারির বেতন পাননি। আর ঈদের বোনাস পরিশোধ হয়নি ৭৩৯টি বা ৭ দশমিক ৩২ শতাংশ কারখানায়।
দেশে শিল্প অধ্যুষিত আট এলাকা আশুলিয়া, গাজীপুর, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ, খুলনা, কুমিল্লা ও সিলেটে মোট কারখানার সংখ্যা ১০ হাজার ১০০।
গতকাল বিকাল ৪টা পর্যন্ত হালনাগাদ পরিস্থিতি সম্পর্কে শিল্প পুলিশ জানিয়েছে, বেতন পরিশোধ হয়েছে এমন কারখানা ৯ হাজার ৫১৮টি বা ৯৪ দশমিক ২৪ শতাংশ। বাকি ৫৮২টি বা ৫ দশমিক ৭৬ শতাংশ কারখানায় বেতন বকেয়া ছিল।
বোনাস পরিশোধ হয়েছে এমন কারখানা ৯ হাজার ৩৬১টি বা ৯২ দশমিক ৬৮ শতাংশ। বাকি ৭৩৯টি বা ৭ দশমিক ৩২ শতাংশ কারখানায় বোনাস বকেয়া ছিল।
শিল্প পুলিশের প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি গাজী জসীম উদ্দীন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সবকিছু মিলিয়ে পরিস্থিতি ভালো। টুকটাক কিছু সমস্যা থাকবে দু-চারটা। এছাড়া পরিস্থিতি ভালো। ২, ৪, ১০টার মতো কারখানায় কিছু বকেয়া থাকতে পারে। আশা করি, আজকের (গতকাল) মধ্যে সব জায়গায় পরিশোধ হয়ে যাবে।’
গত দেড় বছরে নানা কারণে অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় শিল্প এলাকার কারখানাগুলোকে নিবিড় পর্যালোচনায় রেখেছিল শিল্প পুলিশ। সংস্থাটির হিসাবে, বকেয়া পরিশোধ শুরু হওয়ার আগে ঈদুল ফিতরের আগে বেতন-বোনাস দিতে সম্ভাব্য অসমর্থ কারখানার সংখ্যা ছিল ২৬৬।
শিল্প অধ্যুষিত এলাকায় সবচেয়ে শ্রমঘন কারখানাগুলো তৈরি পোশাক শিল্পের। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ১৮ মার্চ পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বিজিএমইএ। ব্রিফিংয়ে জানানো হয়েছিল, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, কিছু কারখানায় বড় ধরনের আর্থিক সংকট ছিল। সংগঠনের পক্ষ থেকে মালিক, ব্যাংক ও শ্রমিক ফেডারেশনগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে সেই কারখানাগুলোর বেতন-ভাতা পরিশোধ নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিজিএমইএ জানায়, ফেব্রুয়ারির বেতন পরিশোধ করেছে ৯৯ দশমিক ৯১ শতাংশ কারখানা। অবশিষ্ট দুটি কারখানার বেতন প্রদান প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ঈদ বোনাস প্রদান সম্পন্ন করেছে ৯৯ দশমিক ৮১ শতাংশ কারখানা। অবশিষ্ট চারটি কারখানার ঈদ বোনাস প্রদান প্রক্রিয়াধীন ছিল ১৮ মার্চ পর্যন্ত।










