তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবির) কঠোর অবস্থান ও বাধার মুখে বিএসএফের সে চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। এসব ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় টহল জোরদার করেছে বিজিবি ও বিএসএফ। প্রতিনিধিদের খবর—
দিনাজপুর: বিরামপুর সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে তৃতীয় লিঙ্গের একজনসহ নয় নারীকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে বিজিবির বাধায় বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেননি তারা। গতকাল ভোর সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার ২৯১ নম্বর সীমান্ত পিলারের ২০-এস এলাকার ভাইগড় সীমান্তের খেয়ার মাহমুদপুর দিয়ে তাদের পুশ-ইনের চেষ্টা করে বিএসএফ।
বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল ভোরে ভারতের শ্রীরামপুর এলাকা দিয়ে ভীমপুর বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা তৃতীয় লিঙ্গের একজনসহ নয় নারীকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা করেন। বিষয়টি টের পেয়ে বিজিবি সদস্য ও গ্রামবাসী তাদের বাধা দেয়। এ সময় বিএসএফ সদস্যরা তাদের আবার ভারতীয় ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হন। ওই নারীরা ভারতীয় সীমান্তের ১০ গজ অভ্যন্তরে অবস্থান নেন।
ঘাসুড়িয়া বিওপির কোম্পানি কমান্ডার টিয়া আলম বলেন, ‘ভারত থেকে অবৈধভাবে নয় নারীকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। এ সময় বিজিবি সদস্যরা তাদের প্রতিহত করে ভারতীয় সীমান্তে ফেরত পাঠিয়েছেন। সীমান্ত দিয়ে যাতে কোনো ভারতীয় নাগরিক অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পারেন, সে লক্ষ্যে বিজিবির টহল আরো জোরদার করা হয়েছে।’
ঝিনাইদহ: মহেশপুর সীমান্ত দিয়ে ছয়জনকে ভারত থেকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা রুখে দিয়েছে বিজিবি। গতকাল ভোরে উপজেলার সামন্তা সীমান্তে এ পুশ-ইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ।
খালিশপুর ৫৮ বিজিবির সহকারী পরিচালক মুন্সী ইমদাদুর রহমান সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, গতকাল ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ৫৫/এমপি সীমান্ত পিলার বরাবর গেট দিয়ে ভারতের সিঙ্গামোড়া ৫৯ বিএসএফ সদস্যরা চার পুরুষ ও দুই নারীকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করেন। বিষয়টি বিজিবির নজরে এলে তারা বাধা দেয়। বর্তমানে ওই ছয়জন সীমান্তের শূন্য রেখা থেকে ৩০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থান করছেন। বিষয়টি বিএসএফকে অবহিত করা হয়েছে।
ফেনী: পরশুরাম সীমান্ত দিয়ে সাত ভারতীয় নাগরিককে অবৈধভাবে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা চালিয়েছে বিএসএফ। তবে বিজিবির তাৎক্ষণিক তৎপরতা ও কঠোর অবস্থানের মুখে সে চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। গতকাল ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ফেনী ব্যাটালিয়নের (৪ বিজিবি) অধীন শ্রীপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত পিলার ২১৪৫-এর কাছে দুর্গাপুর সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, ভারতের ৪৩ রাজনগর বিএসএফ ক্যাম্পের একটি টহল দল ছয় নারী ও একটি ছেলেশিশুসহ মোট সাতজনকে বাংলাদেশে অবৈধভাবে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করে। বিষয়টি সীমান্তে টহলরত বিজিবি সদস্যদের নজরে এলে তারা কৌশলগত অবস্থান নেন এবং অনুপ্রবেশে বাধা দেন। এতে বিএসএফ সদস্যরা ওই সাতজনকে নিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরে যেতে বাধ্য হন।
প্রাথমিক অনুসন্ধানের ভিত্তিতে বিজিবি জানিয়েছে, পুশ-ইনের শিকার হতে যাওয়া ওই সাতজনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তারা সবাই ভারতীয় নাগরিক।
এ বিষয়ে বিজিবি ফেনী ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এমএম জিল্লুর রহমান সত্যতা নিশ্চিত করে বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বিএসএফ জোরপূর্বক বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা করলে বিজিবি সদস্যরা তা প্রতিহত করেন।’










