প্রতি বছর মুনাফার একটি অংশ শেয়ারধারীদের মধ্যে লভ্যাংশ হিসেবে বিতরণের পর অবশিষ্ট অর্থের একটি অংশ ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক প্রয়োজনে রেখে দেয় কোম্পানিগুলো। হিসাববিজ্ঞানের ভাষায় এ অর্থ সংরক্ষিত আয় বা রিটেইনড আর্নিংস হিসেবে পরিচিত। দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে সংরক্ষিত আয়ের দিক দিয়ে শীর্ষ ১০টির সর্বশেষ প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী এ খাতে মোট স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৫১ হাজার ২৯৯ কোটি টাকায়। বড় অঙ্কের সংরক্ষিত আয় কোম্পানিগুলোর নিজস্ব অর্থায়নের সক্ষমতা বাড়ায়। ফলে ব্যবসা পরিচালনা ও সম্প্রসারণে ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে উচ্চ সুদ ব্যয়ের চাপ সামলানোর সুযোগ তৈরি হয়। তবে বিনিয়োগ পরিবেশের অনিশ্চয়তায় এ অর্থের কতটা নতুন বিনিয়োগ ও উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ব্যবহৃত হচ্ছে, সে প্রশ্নও রয়েছে।
কোম্পানির ব্যালান্স শিটে শেয়ারধারীদের মালিকানা অংশের (ইকুইটি) মধ্যে সংরক্ষিত আয় দেখানো হয়। এ আয় কোম্পানির জন্য কার্যত নিজস্ব মূলধনের উৎস। নতুন কারখানা স্থাপন, পুরনো যন্ত্রপাতি বদলে আধুনিক প্রযুক্তি যুক্ত করা, উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি বা নতুন পণ্য বাজারে আনতে এ অর্থ ব্যবহৃত হয়। বাইরের ঋণ বা নতুন শেয়ার ছাড়াই এ অর্থ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা যায়, যা সুদের বোঝা হালকা করতে সহায়ক। কাঁচামাল কেনা, বেতন-ভাতা ও দৈনন্দিন পরিচালন ব্যয় মেটাতে নগদ সংকটে পড়ার ঝুঁকি কমায়। অর্থনৈতিক মন্দা, কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি বা ব্যবসায় হঠাৎ লোকসানের সময় আর্থিক সুরক্ষা হিসেবে কাজ করে। একই সঙ্গে কোনো বছর মুনাফা কম হলেও আগের জমা অর্থ থেকে লভ্যাংশ দেয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর সর্বশেষ প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্যানুসারে, ২০২৬ সালে সংরক্ষিত আয়ের দিক দিয়ে শীর্ষ ১০-এ রয়েছে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজ, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ কোম্পানি (বিএটিবিসি), বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, রেনাটা, ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি, বিএসআরএম লিমিটেড, গ্রামীণফোন, বিএসআরএম স্টিল ও অ্যাডভান্সড কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (এসিআই)। এ কোম্পানিগুলোর কাছে থাকা মোট সংরক্ষিত আয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫১ হাজার ২৯৯ কোটি টাকায়। তালিকায় সবচেয়ে বেশি উপস্থিতি ওষুধ খাতের। স্কয়ার ফার্মা, বেক্সিমকো ফার্মা, রেনাটা ও এসিআই—চার ওষুধ কোম্পানির সংরক্ষিত আয় একত্রে ২৪ হাজার ৬০৮ কোটি টাকা, যা শীর্ষ ১০-এর মোট অঙ্কের প্রায় ৪৮ শতাংশ। তাছাড়া এ কোম্পানিগুলোর কাছে থাকা নগদ অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৯৮৯ কোটি টাকায়।
দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে সংরক্ষিত আয়ে সবার ওপরে রয়েছে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস। চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত কোম্পানিটির সংরক্ষিত আয় দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৫৬২ কোটি টাকায়। কোম্পানিটির কাছে বড় অঙ্কের নগদ অর্থও সংরক্ষিত রয়েছে। এ বছরের মার্চ শেষে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের কাছে ৫ হাজার ৩৮৬ কোটি টাকার নগদ ও সমপরিমাণ অর্থ ছিল। গত ২৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত সভায় কোম্পানিটির পর্ষদ কারখানার ভারসাম্য, আধুনিকায়ন, পুনর্বাসন ও সম্প্রসারণ (বিএমআরই), মূলধনি যন্ত্রপাতি ও জমি বাবদ ৭২৫ কোটি টাকা বিনিয়োগের অনুমোদন দিয়েছে। সংরক্ষিত আয় ও নগদ অর্থে সমৃদ্ধ হওয়ার কারণে প্রতি বছরই এ খাতে অর্থ ব্যয় করে আসছে কোম্পানিটি।
স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের হিসাব ও অর্থ বিভাগের প্রধান মো. কবীর রেজা বণিক বার্তাকে বলেন, ‘কোম্পানির মুনাফা হলে সংরক্ষিত আয়ের বিপরীতে কোনো না কোনো ধরনের সম্পদ তৈরি হয়। সেটি নগদ অর্থ, বিভিন্ন পাওনা কিংবা বিনিয়োগের আকারে থাকতে পারে। আমাদের ক্ষেত্রেও সংরক্ষিত আয়ের বিপরীতে সম্পদ তিনটি প্রধান জায়গায় রয়েছে—নগদ অর্থ, শেয়ারবাজার ও বন্ড মার্কেটে বিনিয়োগ এবং নিজস্ব ব্যবসায় বিনিয়োগ। সংরক্ষিত আয় থাকার কারণে প্রয়োজনে চলতি মূলধন বাড়ানো, বেশি পরিমাণে পণ্য মজুদ রাখা কিংবা নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হলে নিজেদের তহবিল থেকেই তা করা সম্ভব হচ্ছে। এজন্য ব্যাংক বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে যেতে হচ্ছে না। ঋণমুক্ত থাকার কারণে কোম্পানি আর্থিকভাবে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। ফলে ব্যবসা সম্প্রসারণ কিংবা নতুন বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে ঋণের সুদ ও পরিশোধসংক্রান্ত ঝুঁকি বিবেচনায় নিতে হয় না।’
সংরক্ষিত আয়ের দিক দিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজ। জুন ২০২৬ পর্যন্ত কোম্পানিটির সংরক্ষিত আয় দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৯১২ কোটি টাকায়। এ সময়ে কোম্পানিটির কাছে ৮২১ কোটি টাকার নগদ অর্থ ছিল।
তৃতীয় স্থানে রয়েছে বিএটিবিসি। এ বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কোম্পানিটির সংরক্ষিত আয় ৫ হাজার ৩৩৮ কোটি টাকা। এ সময়ে কোম্পানিটির কাছে ১ হাজার ২৮৬ কোটি টাকা নগদ অর্থ ছিল।
ওষুধ খাতের কোম্পানি বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস ৪ হাজার ৭১৮ কোটি টাকার সংরক্ষিত আয় নিয়ে চতুর্থ স্থানে রয়েছে। চলতি বছরের মার্চ শেষে কোম্পানিটির কাছে থাকা নগদ অর্থের পরিমাণ ছিল ৪২৩ কোটি টাকা।
বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) মোহাম্মদ আলী নেওয়াজ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সংরক্ষিত আয় তৈরি হয় মূলত কোম্পানির মুনাফা থেকে। মুনাফার পুরোটা লভ্যাংশ হিসেবে বিতরণ না করে ব্যবসায় পুনর্বিনিয়োগ করা হলে কিংবা কোম্পানির মধ্যে রেখে দেয়া হলে তা সংরক্ষিত আয় হিসেবে জমা হয়। সাধারণত ব্যবসার চাহিদা ও প্রবৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুন বিনিয়োগের প্রয়োজন তৈরি হলেই কোম্পানি মুনাফার একটি অংশ ধরে রাখে।’
তিনি আরো বলেন, ‘সংরক্ষিত আয়ের পরিমাণ বেশি হলেই যে কোম্পানির আর্থিক অবস্থা ভালো, বিষয়টি এমন নয়। দেখতে হবে, ধরে রাখা অর্থ দিয়ে কোম্পানি কী পরিমাণ রিটার্ন তৈরি করতে পারছে। আমাদের বর্তমানে বিনিয়োগের বিপরীতে রিটার্ন প্রায় ১২ শতাংশ। অন্যদিকে অর্থ নগদ অবস্থায় ব্যাংকে রেখে দিলে সর্বোচ্চ ৭-৮ শতাংশ রিটার্ন পাওয়া যেত। অর্থাৎ ব্যবসায় পুনর্বিনিয়োগের মাধ্যমে আমরা তুলনামূলক বেশি রিটার্ন পাচ্ছি। বর্তমানে চ্যালেঞ্জিং ব্যবসায়িক পরিবেশে ব্যাংক ঋণের সুদহার বেশি থাকায় অনেক কোম্পানির মুনাফার ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে। কোথাও বিনিয়োগের জন্য চলতি মূলধনের সংকটও দেখা দিচ্ছে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে সংরক্ষিত আয় কোম্পানিকে নিজস্ব অর্থায়নে বিনিয়োগ ও ব্যবসার প্রয়োজনীয় নগদ অর্থের জোগান নির্বিঘ্ন রাখতে সহায়তা করে।’
ওষুধ খাতের আরেক কোম্পানি রেনাটার কাছে এ বছরের সেপ্টেম্বর শেষে ৩ হাজার ৭৩২ কোটি টাকার সংরক্ষিত আয় ছিল। তালিকায় কোম্পানিটির অবস্থান পঞ্চম। এ সময়ে কোম্পানিটির কাছে থাকা নগদ অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩২৬ কোটি টাকায়।
ষষ্ঠ স্থানে থাকা ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির সংরক্ষিত আয়ের পরিমাণ এ বছরের জুন শেষে ৩ হাজার ৫৭২ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। এ সময়ে কোম্পানিটির কাছে থাকা নগদ অর্থের পরিমাণ ছিল ৯১ কোটি টাকা।
বিএসআরএম গ্রুপের তালিকাভুক্ত দুই কোম্পানির মধ্যে সংরক্ষিত আয়ের দিক দিয়ে বিএসআরএম লিমিটেড সপ্তম ও বিএসআরএম স্টিল নবম স্থানে রয়েছে। চলতি বছরের জুন শেষে বিএসআরএম লিমিটেডের সংরক্ষিত আয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৪০১ কোটি টাকায়। এ সময়ে কোম্পানিটির কাছে থাকা নগদ অর্থের পরিমাণ ছিল ৭৯ কোটি টাকা। চলতি বছরের জুন শেষে বিএসআরএম স্টিলসের সংরক্ষিত আয়ের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৬৬৬ কোটি টাকা। এ সময়ে কোম্পানিটির কাছে থাকা নগদ অর্থের পরিমাণ ৬৬০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
বিএসআরএম গ্রুপের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন সেনগুপ্ত বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ব্যবসার আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণে আমাদের বিনিয়োগ অব্যাহত রয়েছে। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। ভবিষ্যতে বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনাও রয়েছে। সে লক্ষ্যে প্রাথমিক প্রস্তুতিমূলক কাজ শুরু হয়েছে। বর্তমানে ভূমি উন্নয়নের কাজ চলছে। পাশাপাশি প্রস্তাবিত প্রকল্পের আনুষঙ্গিক ও সহায়ক অবকাঠামো উন্নয়নের কাজও এগিয়ে নেয়া হচ্ছে। উপযুক্ত সময় এলে প্রকল্পটির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন শুরু হবে।’
কোম্পানির ব্যবসায় সংরক্ষিত আয়ের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সংরক্ষিত আয় ব্যবহারের ফলে ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব হচ্ছে। এতে ঋণের পরিমাণ কমার পাশাপাশি সুদ ব্যয়ও কমছে। ফলে কোম্পানির ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় একটি সহনীয় পর্যায়ে রাখা যাচ্ছে। গত দুই বছরে ব্যাংক ঋণের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা হয়েছে। কারণ বর্তমানে ব্যাংক ঋণের সুদহার ১২-১৪ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ব্যবসার মুনাফার ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করছে। এ উচ্চ সুদ ব্যয় সরাসরি কোম্পানির মুনাফা কমিয়ে দিচ্ছে। তাই নিজস্ব তহবিল ও রিটেইনড আর্নিংস ব্যবহার করে ঋণনির্ভরতা কমানোকে আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি।’
সংরক্ষিত আয়ের তালিকায় অষ্টম স্থানে রয়েছে টেলিযোগাযোগ খাতের বহুজাতিক কোম্পানি গ্রামীণফোন। এ বছরের সেপ্টেম্বর শেষে কোম্পানিটির সংরক্ষিত আয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৮০২ কোটি টাকায়। এ সময়ে কোম্পানিটির কাছে ৬৮০ কোটি টাকা নগদ অর্থ ছিল।
২ হাজার ৫৯৬ কোটি টাকার সংরক্ষিত আয় নিয়ে তালিকার দশম অবস্থানে রয়েছে এসিআই। মার্চ ২০২৬ শেষে কোম্পানিটির কাছে থাকা নগদ অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৩৭ কোটি টাকায়।
বিশ্লেষকদের মতে, কোম্পানির আর্থিক ভিত্তি কতটা মজবুত, তা বোঝার অন্যতম প্রধান সূচক সংরক্ষিত আয়। বেশি সংরক্ষিত আয় সাধারণত ইঙ্গিত দেয়, কোম্পানি দীর্ঘদিন ধরে ধারাবাহিকভাবে মুনাফা করেছে। নিজস্ব তহবিল বেশি থাকলে ব্যাংক বা বাইরের উৎসের ওপর নির্ভরতা কমে, ফলে সুদ ব্যয় কমে এবং ঋণ-ইকুইটি অনুপাত সুস্থ থাকে। শক্তিশালী ইকুইটি ভিত্তি ঋণদাতা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থাও বাড়ায়। কারণ এমন কোম্পানিকে ব্যাংক সহজে ও তুলনামূলক কম সুদে ঋণ দিতে আগ্রহী হয়। সংরক্ষিত আয় বাড়লে ইকুইটি বাড়ে, ফলে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্যও বাড়ে। কোম্পানি চাইলে এ তহবিল মূলধনে রূপান্তর করে বিনিয়োগকারীদের বোনাস শেয়ার দিতে পারে। এছাড়া মন্দা বা বাজারের অস্থিরতার সময় জমা মুনাফা বেশি থাকা কোম্পানিগুলো তুলনামূলক সহজে বড় ধাক্কা সামলে টিকে থাকতে পারে।
এদিকে বর্তমানে বিনিয়োগ মন্দার কারণে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি ঐতিহাসিকভাবে সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে বেসরকারি খাতে ব্যাংক ঋণের প্রবৃদ্ধি কমে দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ১৭ শতাংশে। এ নিয়ে টানা সাত মাস বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশের নিচে রয়েছে। অন্যদিকে এ বছরের আগস্ট শেষে দেশে ব্যাংক ঋণের গড় সুদহার ১১ দশমিক ৮৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। বৃহৎ শিল্পের ক্ষেত্রে এ গড় সুদহার আরো বেশি, ১২ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ।
একনাবিন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টসের পার্টনার মো. রোকোনুজ্জামান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বিশ্বজুড়েই ব্যবসার ভবিষ্যৎ অর্থায়নের চাহিদা বিবেচনায় মুনাফার একটি অংশ সংরক্ষণ করে রাখা হয়, যা রিটেইনড আর্নিংস বা সংরক্ষিত আয় হিসেবে পরিচিত। ব্যবসা সম্প্রসারণ ও চলতি মূলধনের চাহিদা মেটানোর প্রধান দুটি উৎস হলো নিজস্ব তহবিল ও ব্যাংক ঋণ। নিজস্ব তহবিল থেকে অর্থায়ন করলে বাড়তি কোনো ব্যয় হয় না। অন্যদিকে ব্যাংক ঋণের বিপরীতে সুদ পরিশোধ করতে হয়। এ কারণে রিটেইনড আর্নিংসকে ব্যবসার দুর্দিনের সঞ্চয় বলা যায়। বর্তমানে বিনিয়োগ পরিবেশ অনুকূলে না থাকায় ব্যবসা সম্প্রসারণে অর্থ ব্যয়ের প্রবণতা কম। ফলে কোম্পানিগুলোর রিটেইনড আর্নিংসের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি দেখা যাচ্ছে। ভবিষ্যতে বিনিয়োগ পরিবেশ অনুকূলে এলে কোম্পানিগুলো ব্যবসা সম্প্রসারণে এ অর্থ ব্যয় করতে শুরু করবে।’










