ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ পোশাক শ্রমিকদের বিভিন্ন দাবিতে টানা কয়েক দিনের অসন্তোষের পর শিল্প অধ্যুষিত এলাকাগুলোর পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে। সরকারি ও শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি কাটিয়ে গতকাল পুরোদমে কাজে ফিরেছেন সাভার, আশুলিয়া ও গাজীপুরের গার্মেন্ট কারখানার শ্রমিকরা। তবে কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরা কাজ বন্ধ রাখায় সেগুলোয় ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। কিছু স্থানে বিক্ষোভের চেষ্টা চালান কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরা। তবে যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সতর্ক অবস্থানে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে শিল্পাঞ্চল পুলিশ, বিজিবিসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের।

গতকাল দুপুরের দিকে আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ‌‘সাভার ও আশুলিয়ার অধিকাংশ কারখানায় শ্রমিকরা শান্তিপূর্ণভাবে কাজ করছেন। কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরা কাজ বন্ধ রেখে ভেতরে অবস্থান করছিলেন। এ কারণে ২০টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে চারটি কারখানার শ্রমিকরা কাজ বন্ধ রেখে অবস্থান করছেন। একটি স্থানে কিছু শ্রমিক সড়কে অবস্থান নিলে তাদের বুঝিয়ে সরিয়ে দেয়া হয়েছে।’

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং কারখানাগুলো সচল রেখে উৎপাদন কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে ১১ প্লাটুন বিজিবিসহ পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানিয়েছে সাভার উপজেলা প্রশাসন।

সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সাভার শিল্পাঞ্চলের বর্তমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। শ্রমিকরা কাজে ফিরেছেন। তবে বেতন পরিশোধের ক্ষেত্রে আগামী ১০ তারিখ পর্যন্ত সময়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিষয়টি প্রশাসন সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। কারখানার মালিকদের নির্ধারিত সময়ে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।’

ইউএনও আরো বলেন, ‘পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ১১ প্লাটুন বিজিবি, ৯ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।’

এদিকে গাজীপুরে গার্মেন্ট কারখানাগুলোতেও শ্রমিকদের কর্মচাঞ্চল্য দেখা গেছে। তবে দুপুরের দিকে কিছু স্থানে শ্রমিকরা বিক্ষোভের চেষ্টা করেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল সকালে গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি শান্ত ছিল। অধিকাংশ কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রমও স্বাভাবিকভাবে চলছিল। তবে দুপুরের দিকে কোনাবাড়ীর জরুন এলাকায় মন্ডল গ্রুপের একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা কাজ বন্ধ করে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় তারা আশপাশের কারখানার শ্রমিকদেরও আন্দোলনে যোগ দেয়ার আহ্বান জানান এবং কয়েকটি কারখানায় ছুটি ঘোষণার দাবি তোলেন। পরে কয়েকটি কারখানা কর্তৃপক্ষ ছুটি ঘোষণা করে।

গাজীপুর শিল্পাঞ্চল-২-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন জানান, কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভ শুরু করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কয়েকটি কারখানা কর্তৃপক্ষ ছুটি ঘোষণা করে। কোনাবাড়ী, কাশিমপুর, জরুনসহ বিভিন্ন এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক নুরুল করিম ভূইয়া জানান, দুপুরের পর বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিক বিক্ষোভ, কর্মবিরতি ও কারখানায় ছুটি ঘোষণার পর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে। শিল্পাঞ্চলের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

এদিকে গতকাল সন্ধ্যায় বিজিবি সদর দপ্তর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, চলমান শ্রমিক অসন্তোষের প্রেক্ষাপটে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবেলায় ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় ৩৩ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।