চট্টগ্রাম বন্দরে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের (সিআইআইডি) অভিযানে অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের নাম ও তথ্য ব্যবহার করে আমদানির অভিযোগে একটি সন্দেহজনক চালান শনাক্ত হয়েছে। চালানটির দুটি বিল অব লেডিং (বি/এল) পরীক্ষা করে প্রায় সোয়া ৮ টন তামাক বা তামাকসদৃশ সামগ্রী, বিভিন্ন রঙের মাদকসদৃশ পাউডারজাত পদার্থ এবং প্রায় ৯ দশমিক ২৬ টন সন্দেহজনক স্ক্র্যাপ পেপার পাওয়া গেছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
কাস্টমস নথিতে চালানটির আমদানিকারক বা কনসাইনি হিসেবে অথৈ এন্টারপ্রাইজের নাম থাকলেও প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী লিখিতভাবে জানিয়েছেন, আমদানির বিষয়ে তিনি বা তার প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ অনবহিত। চালানটির সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততা নেই বলেও জানিয়েছেন। তার আশঙ্কা, কোনো অসাধু চক্র প্রতিষ্ঠানের নাম ও আমদানি-সংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার করে চালানটি এনেছে।
কাস্টমস নথি অনুযায়ী, এমভি উদ্দীপন এক্সপ্রেস জাহাজে কলকাতা থেকে চালানটি চট্টগ্রামে আসে। জাহাজটি ২০ সেপ্টেম্বর যাত্রা করে এবং ২২ সেপ্টেম্বর বন্দরে পৌঁছায়।
উদ্ধার করা সামগ্রীর মধ্যে বিভিন্ন রঙের পাউডারজাত পদার্থও রয়েছে, যা বাহ্যিকভাবে মাদকদ্রব্যের মতো সন্দেহজনক বলে প্রতীয়মান হয়েছে। তবে এসব পদার্থে মাদকদ্রব্য বা অন্য কোনো নিষিদ্ধ কিংবা নিয়ন্ত্রিত উপাদান রয়েছে কিনা, তা রাসায়নিক ও পরীক্ষাগার পরীক্ষা ছাড়া নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। নমুনা পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতেই পদার্থগুলোর প্রকৃত পরিচয় নির্ধারণ করা হবে।
অন্যদিকে চালানে পণ্যের ঘোষণা ছিল ‘প্রিন্টেড পেপার ক্যাটালগ’। নথিতে ১ হাজার ৫৭০ প্যাকেজের মোট ওজন ৯ হাজার ৮৫৯ দশমিক ৬০ কেজি দেখানো হলেও কায়িক পরীক্ষায় একই সংখ্যক প্যাকেজে পাওয়া গেছে সন্দেহজনক স্ক্র্যাপ পেপার। এসবের ওজন ৯ হাজার ২৬৩ কেজি বা প্রায় ৯ দশমিক ২৬ টন। ফলে ঘোষিত পণ্যের সঙ্গে বাস্তবে পাওয়া পণ্যের প্রকৃতি ও শ্রেণিবিন্যাসে গুরুতর অসামঞ্জস্যের বিষয়টি তদন্তের আওতায় এসেছে।
দুটি বি/এল মিলিয়ে কায়িক পরীক্ষায় মোট ২ হাজার ৪০টি প্যাকেজে ১৭ হাজার ৫১৩ দশমিক ৪ কেজি বা প্রায় ১৭ দশমিক ৫১ টন পণ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে প্রায় ৮ দশমিক ২৫ টন তামাক বা তামাকসদৃশ এবং মাদকসদৃশ পাউডারজাত সামগ্রী। আর প্রায় ৯ দশমিক ২৬ টন রয়েছে সন্দেহজনক স্ক্র্যাপ পেপার।
নথিতে অথৈ এন্টারপ্রাইজকে আমদানিকারক বা কনসাইনি হিসেবে দেখানো হলেও প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী নিজেই কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন, চালানটি তার নয় এবং এ আমদানির বিষয়ে কিছুই জানেন না। কোনো অসাধু চক্র তার প্রতিষ্ঠানের পরিচয় ও ব্যবসায়িক নিবন্ধন-সংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার করেছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে প্রকৃত জড়িতদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার আবেদন করেছেন তিনি।
চালানটির প্রকৃত আমদানিকারক, পণ্যের প্রকৃতি এবং প্রতিষ্ঠানের পরিচয় কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছে—এসব বিষয় এখন তদন্ত করছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।










