যশোরের ভবদহ অঞ্চল পরিদর্শনে আসছেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের তিন উপদেষ্টা। আজ ভবদহ এলাকায় চলমান প্রকল্পগুলো পরিদর্শনের পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের সঙ্গেও কথা বলবেন তারা।

ভবদহ নিয়ে দীর্ঘদিন আন্দোলনকারীরা একসঙ্গে তিন উপদেষ্টার ভবদহ এলাকা পরিদর্শন ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন। কেননা বিগত সময়ে এভাবে একসঙ্গে তিন মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্তারা আসেননি। এবার তিন উপদেষ্টার আগমনের মধ্য দিয়ে ভবদহের জলাবদ্ধতা নিরসন হবে—এমনটাই প্রত্যাশা তাদের।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ ভবদহ এলাকা পরিদর্শনে আসছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক ই আজম, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানিসম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, স্বরাষ্ট্র ও কৃষি উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিন উপদেষ্টার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবরাও উপস্থিত থাকবেন।

যশোরের অভয়নগর, মনিরামপুর ও কেশবপুর এবং খুলনার ডুমুরিয়া ও ফুলতলা উপজেলার অংশ বিশেষ নিয়ে ভবদহ অঞ্চল। পলি পড়ে মুক্তেশ্বরী, টেকা, শ্রী ও হরি নদী নাব্য হারিয়েছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে নদী দিয়ে পানি নামতে পারে না। জলাবদ্ধ থাকে শতাধিক গ্রাম। এ অঞ্চলের চার লক্ষাধিক মানুষের ঠাঁই হয়েছে মহাসড়কের ধারে, স্কুল কিংবা আশ্রয়কেন্দ্রে। অথচ বিগত চার দশকে ভবদহ অঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রায় ৬৫০ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। তাতেও জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান হয়নি।

ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটি আহ্বায়ক রণজিত বাওয়ালী বলেন, ‘আমরা কৃষকদের ক্ষতিপূরণ চাইব, কৃষি ঋণ মওকুফের দাবি জানাব। একই সঙ্গে পানি সেচের নামে লুটপাটকারীদের বিচার দাবি জানাব।’