বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর হিন্দু সংখ্যালঘুদের ওপর নিপীড়নের অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা, নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, বাংলাদেশে 'হিন্দুবিরোধী কোনো সহিংসতা নেই', এবং এই ধরনের খবর ছড়ানোর জন্য 'ভুয়া খবরের' সংস্কৃতিকে দায়ী করেছেন।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ব্রিটিশ-আমেরিকান সাংবাদিক মেহেদি হাসানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম জেটিওতে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ড. ইউনূস এ মন্তব্য করেন।

গত বছরের গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রস্থান এবং প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে তার দায়িত্ব গ্রহণ প্রসঙ্গে ড. ইউনূস বলেন, তিনি জনগণের এই সিদ্ধান্তে 'বিস্মিত' হয়েছিলেন এবং অনিচ্ছা সত্ত্বেও তা গ্রহণ করেন। তিনি আন্দোলনকারীদের স্মরণ করে বলেন, 'আপনারা যদি এত ত্যাগ স্বীকার করতে পারেন, তবে আমিও আমার সিদ্ধান্ত বদলাব।'

তবে তার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে দেশ পরিচালনার পথ মসৃণ ছিল না। দেশে ডাকাতির ঘটনা গত ছয় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং শেখ হাসিনার বিদায়ের পর ডজনখানেক পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। আবার অনেকে চাকরি ছেড়ে চলে গেছেন। গত নভেম্বরে বাংলাদেশে প্রায় ৩০ হাজার হিন্দু ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেন। এমনকি ডোনাল্ড ট্রাম্পও এ সময়ে বাংলাদেশের হিন্দুদের প্রতি আচরণের সমালোচনা করে এটিকে 'বর্বর' বলে আখ্যা দেন।

এই পরিস্থিতিতে হিন্দু নির্যাতনের অভিযোগ নাকচ করে ড. ইউনূস জেটিওকে বলেন, 'এখন ভারতের অন্যতম বিশেষত্ব হলো ভুয়া খবর (ছড়ানো)।' তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, 'হিন্দুবিরোধী কোনো সহিংসতা নেই।'

সাক্ষাৎকারে মেহেদি হাসান প্রধান উপদেষ্টাকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রশ্ন করেন। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কেন নতুন নির্বাচনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে ড. ইউনূস বাংলাদেশের মানুষের বিভিন্ন ধরনের দাবির কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, তার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান তিনটি দায়িত্ব হলো: সংস্কার, বিচার এবং নির্বাচন। অন্য দুটি দায়িত্ব সময়সাপেক্ষ হওয়ায় নির্বাচন আয়োজনে ১৮ মাস সময় লাগছে।

এছাড়াও, তিনি বাংলাদেশে বর্তমানে আশ্রয় নেয়া প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর জন্য তার সরকারের পরিকল্পনা, এবং শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগকে কার্যকরভাবে নিষিদ্ধ করার যৌক্তিকতা নিয়েও আলোচনা করেন। ড. ইউনূস স্পষ্ট করে জানান, তার সরকার শুধু নির্বাচন করতে আসেনি, বরং 'ফ্যাসিবাদের শিকড় উপড়ে ফেলা' তাদের মূল কাজ। যাতে ভবিষ্যতে কেউ গণতন্ত্রের নামে ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে না পারে।