দেশে টেকসই ও জলবায়ু-সহনশীল সয়াবিন উৎপাদন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে যৌথ গবেষণা করবে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (গাকৃবি) ও জাপানের আন্তর্জাতিক কৃষিবিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্র (জিরকাস)। এ লক্ষ্যে গতকাল বুধবার দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে গবেষণা সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার গাকৃবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গাকৃবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান এবং জিরকাসের প্রোগ্রাম পরিচালক ড. কেইসুকে ওমোরি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
চুক্তির আওতায় সয়াবিনের রোগ প্রতিরোধী জাত উদ্ভাবন ও প্রয়োজনভিত্তিক ছত্রাকনাশক ব্যবহারের সমন্বয়ে পরিবেশবান্ধব রোগ ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা করা হবে। বিশেষ করে এশিয়ান সয়াবিন রাস্ট ও সারকোস্পোরা লিফ ব্লাইট রোগের বিস্তার, রোগজীবাণুর বৈশিষ্ট্য, ছত্রাকনাশক প্রতিরোধক্ষমতা এবং কৃষকের প্রচলিত ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা করবেন দুই প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানীরা।
গবেষণার অংশ হিসেবে জিরকাস ও দক্ষিণ আমেরিকার সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্ভাবিত জিনগতভাবে পরিবর্তিত নয় (নন-জিএম) এমন রোগ প্রতিরোধী সয়াবিনের জাত বাংলাদেশের পরিবেশে মাঠ পর্যায়ে পরীক্ষা করা হবে। এসব জাতের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা, স্থানীয় পরিবেশে অভিযোজন এবং বাণিজ্যিক নিবন্ধনের সম্ভাবনাও যাচাই করা হবে। উপযোগী জাত পাওয়া না গেলে দেশের কৃষি-পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নতুন জাত উদ্ভাবনে প্রজনন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
এছাড়া সমন্বিত রোগ ব্যবস্থাপনার অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত সুফল মূল্যায়নের মাধ্যমে কৃষকের উৎপাদন ব্যয় ও রোগজনিত ক্ষতি কমানোর কৌশল নির্ধারণ করা হবে।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, দেশের ক্রমবর্ধমান প্রোটিনের চাহিদা পূরণ এবং সয়াবিন আমদানিনির্ভরতা কমাতে উৎপাদন বাড়ানো জরুরি। জিরকাসের সঙ্গে গবেষণা সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশের উপযোগী রোগ প্রতিরোধী জাত ও পরিবেশবান্ধব উৎপাদন প্রযুক্তি উদ্ভাবন সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গাকৃবির কৃষিতত্ত্ব বিভাগ এ পর্যন্ত ছয়টি ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের সয়াবিনের জাত উদ্ভাবন করেছে। এসব জাত বর্তমানে নোয়াখালী, ভোলা ও লক্ষ্মীপুরের চরাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রায় ৬৮ হাজার হেক্টর জমিতে চাষ হচ্ছে।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে জিরকাসের জ্যেষ্ঠ গবেষক ড. ইয়ামানাকা নাওকি ও ড. সাসাকি কাজুহিরো, গাকৃবির পরিচালক (গবেষণা) অধ্যাপক ড. মো. মসিউল ইসলাম, প্রকল্পের প্রধান গবেষক অধ্যাপক ড. মো. মোতাহের হোসেন, পরিচালক (আইকিউসি) অধ্যাপক ড. নাসরীন আক্তার আইভী এবং জেনেটিক্স অ্যান্ড প্ল্যান্ট ব্রিডিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. লিয়াকত আলী উপস্থিত ছিলেন।
দুই প্রতিষ্ঠানের এক দশকের বেশি সময়ের গবেষণা সহযোগিতার ধারাবাহিকতায় এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, এ উদ্যোগ জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং দেশের সয়াবিন উৎপাদন ও খাদ্যনিরাপত্তা জোরদারে ভূমিকা রাখবে।










