চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ছাত্র উপদেষ্টার পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে ডাকা ছাত্রলীগের একাংশের অবরোধ শিথিল করা হয়েছে। অবরোধের প্রথম দিন সোমবার সকাল ১০টার দিকে এ ঘোষণা দিয়েছেন অবরোধকারীরা। অবরোধকারী পক্ষটি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল হক রুবেলের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। অবরোধকারীরা জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের চট্টগ্রামে আগমন উপলক্ষে অবরোধ শিথিল করা হয়েছে। 

এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে তিনদিনে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে জড়িয়েছে বগি ভিত্তিক উপগ্রুপ 'চুজ ফ্রেন্ডস উইথ কেয়ারের (সিএফসি) ও ভার্সিটি এক্সপ্রেসের (ভিএক্স) নেতাকর্মীরা। এর মধ্যে গত রোববার সন্ধ্যায় হাটহাজারী উপজেলার এগারো মাইল এলাকায় সিএফসি গ্রুপের নেতা শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি নাসির উদ্দিন সুমন ও ছাত্রলীগ কর্মী আব্দুল্লাহ আল নাহিয়ান রাফিকে কুপিয়ে জখম করে প্রতিপক্ষের নেতাকর্মীরা। 

এমন খবর পেয়ে দুইপক্ষ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এসময় পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ ও জলকামান ব্যবহার করে উভয়পক্ষকে নিবৃত্ত করে। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্টে থাকা পুলিশের পাঁচটি গাড়ি, প্রক্টরের গাড়ি ও ওয়াচ-টাওয়ারে ভাংচুর চালানো হয়। পরে দুই ছাত্রলীগ নেতার ওপর হামলার মদদদাতা হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী পরামর্শ ও নির্দেশনা কেন্দ্রের (ছাত্র উপদেষ্টা) পরিচালক অধ্যাপক সিরাজ উদ দৌলাহকে দায়ী করে তার পদত্যাগ, হামলার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের দাবিতে অবরোধের ডাক দিয়েছিল সিএফসি উপগ্রুপের নেতাকর্মীরা। 

বিবাদমান পক্ষ দুটি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল হক রুবেলের অনুসারী বগি ভিত্তিক উপগ্রুপ ‘চুজ ফ্রেন্ডস উইথ কেয়ার (সিএফসি)’ ও শাখা ছাত্রলীগের সাবেক উপ-দফতর সম্পাদক মিজানুর রহমান বিপুলের অনুসারী ‘ভার্সিটি এক্সপ্রেস (ভিএক্স)’। এর মধ্যে রুবেল আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের অনুসারী এবং বিপুল নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। 

সিএফসি উপগ্রুপের নেতা ও শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল হক রুবেল বলেন, ‘মহামান্য রাষ্ট্রপতির চট্টগ্রামে আগমন উপলক্ষে আমাদের অবরোধ শিথিল করা হয়েছে। আমরা তিনদিনের একটি আল্টিমেটাম দিয়েছি। ২০১৪ সালে সংঘটিত ছাত্রলীগকর্মী তাপস সরকার হত্যাকান্ডের মদদাতা ছাত্র উপদেষ্টা সিরাজ উদ দৌলাহর মদদে আসামিরা গতকাল রোববার দুই ছাত্রলীগ নেতার ওপর আবার হামলা চালিয়েছে। তিনদিনের মধ্যে ছাত্র উপদেষ্টার পদত্যাগ ও তাপস হত্যার আসামী ছাত্রলীগের নেতাদের ওপর হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া না হলে আবারো কঠোর আন্দোলনে যাবো। তাপসের মা বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে তিনি জীবন দিয়ে যাবেন। কারণ যাদের মদদে ও হাতে তাপস খুন হয়েছেন, তাদের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন শিক্ষার্থীই নিরাপদ নন।’ উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ১৪ ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবী দিবসে ফুল দেওয়াকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের এই দুটি পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ চলাকালে প্রতিপক্ষের ছোড়া গুলিতে নিহত হয়েছিলেন সিএফসি কর্মী ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী তাপস সরকার।

তিনি আরো বলেন, 'আমরা অবরোধ শিথিল করেছি আমাদের নেতার নির্দেশে। এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করা হবে না। তবে আমরা মিছিল, সভা, স্মারকলিপি প্রদান, সংবাদ সম্মেলনসহ শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চালিয়ে যাবো।'

এদিকে ছাত্রলীগের একাংশের ডাকা অবরোধের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক থাকলে আজ সোমবার সকাল ১০টা পর্যন্ত পরিবহন দপ্তর থেকে কোন যানবাহন ছেড়ে যায়নি। অবরোধের খবরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষক-শিক্ষার্থী উপস্থিতিও ছিল তুলনামূলক কম। কয়েকটি বিভাগের ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। সকাল ১০টার দিকে অবরোধ শিথিলের ঘোষণার পর পরিবহন পুল থেকে যানবহন ছাড়া শুরু হয়। সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আমানত হলের সামনে অবস্থান নিয়ে অবরোধের সমর্থনে মিছিল-সমাবেশ করেছিল ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও পুলিশ তাদের বুঝিয়ে হলে পাঠিয়ে দেয়। অপরদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সোহরাওয়ার্দী হলের সামনে অবস্থান নিয়েছিলেন ভিএক্স উপগ্রুপের নেতাকর্মীরা। ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এসএম মনিরুল হাসান বলেন, আমরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা অবরোধ শিথিল করেছেন। বর্তমানে শাটল ট্রেন ও শিক্ষক বাস চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।