বাংলাদেশ কালেক্টরেট সহকারী সমিতির (বাকাসস) এর কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সারাদেশের মতো সুনামগঞ্জে মাঠ প্রশাসনে কর্মরত ১৩-১৬ গ্রেডের কর্মচারীদের পদ পদবী ও বেতন গ্রেড উন্নীতকরণের দাবিতে ১৫ দিনব্যাপী কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচির পালন শুরু করেছে। 

আজ রবিবার সকাল ৯টা থেকে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে এ কর্মসূচি প্রথম দিন পালন করা হয়। দিনের শুরুতে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে স্ব স্ব অফিস প্রাঙ্গণে অবস্থান নেন তারা। বিকাল ৫টা পর্যন্ত কোন ধরনের কাজে অংশ নিচ্ছেন না। এ কর্মসূচি আগামী ১৫-৩০ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে। 

এদিকে, জেলার সকল উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর কার্যালয়ের কর্মরত কর্মচারীগণ এই কর্মসূচি পালন করছেন।

কর্মসূচিতে কর্মচারীরা জানান, একই পদের ২১ ধরনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মচারীর পদবি ও গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে। ১৯৯৫ সালের ১৯ মে সচিবালয়ের প্রায় দুই হাজার তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীকে দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা পদে উন্নীত করা হয়। কিন্তু তাদের বিষয়ে কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। সুনামগঞ্জে মাঠ প্রশাসনের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর কার্যালয়ে ১৩-১৬ গ্রেডের প্রায় ২ শতাধিক কর্মচারী রয়েছেন। সারা দেশে আছে প্রায় ১৩ হাজার। 

কর্মচারীরা আরও জানান, পদোন্নতি ছাড়াই দীর্ঘদিন একই পদে কাজ করছেন মাঠ প্রশাসনের এমন হাজার হাজার কর্মচারী। এই কষ্ট নিয়ে অবসরে যাচ্ছেন এবং মৃত্যুকে আলিঙ্গন করছেন অনেকে। এই বৈষম্যের অবসান চেয়ে দুই দশক ধরে নানাভাবে আন্দোলন করছেন তারা। পদবি ও গ্রেড পরিবর্তনের জন্য তারা প্রধানমন্ত্রী, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী, বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন একাধিকবার। নীতিনির্ধারকদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন বহুবছর। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদোন্নতির নির্দেশনা দিলেও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় তা বাস্তবায়ন করেনি। এ দাবিতে কর্মচারীরা গত জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধ পর্যন্ত আন্দোলন করেছেন। হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে টানা কর্মবিরতি, অফিস চত্বরে অবস্থান ও সভা-সমাবেশ করেছেন নিজ নিজ কার্যালয়ে। 

বাংলাদেশ কালেক্টরেট সহকারী সমিতি(বাকাসস)’র সুনামগঞ্জ শাখার সহ-সভাপতি সুখেন্দু কুমার দাস বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এ দাবি জানিয়ে আসছি আমরা। কিন্তু তা মানা হচ্ছে না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশনা দেয়ার পরও দাবি না মানার বিষয়টি রহস্যজনক। অফিস সহকারী হিসেবেই আমাদের মৃত্যুবরণ করতে হচ্ছে। সমাজে আমরা হেয় হচ্ছি। মান মর্যাদা বলতে কিছুই থাকছে না। 

তিনি আরও জানান, ১৯৮৯ সালে অফিস সহকারী হিসেবে যোগদান করে বর্তমানে ৩২ বছরের অধিক সময় একই পদে কর্মরত আছি। আমাদের সাথে অনেকেই একই পদে থেকে অবসরে গিয়েছে এবং কেউ কেউ মৃত্যুবরণ করেছেন। এমনিভাবে অনেক কর্মচারী সুনামগঞ্জ কালেক্টরেটের অধীনে দীর্ঘ ৩৪-৩৫ বছর চাকরি করেও কোন পদোন্নতি পাননি। চাকরি জীবনের শেষ দিকে কেউ কেউ উচ্চমান সহকারী/প্রধান সহকারী/সিএ কাম ইউডিএ/অফিস সুপার পদে পদোন্নতি পেলেও বেতন গ্রেডের কোন পরিবর্তন হয় না।