চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে (জানুয়ারি-মার্চ) রাজনৈতিক সহিংসতায় ৩৬ জন নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনার অধিকাংশ বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলে ঘটেছে। শনিবার (১১ এপ্রিল) মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) তাদের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
এতে বলা হয়, দেশের ১৬টি জাতীয় দৈনিক ও নিজস্ব অনুসন্ধানের ভিত্তিতে প্রতিবেদন তৈরি করেছে এইচআরএসএস। ‘ত্রৈমাসিক মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিন মাসে রাজনৈতিক সহিংসতার অন্তত ৬১০টি ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৪ হাজার ৭৮ জন।
সহিংসতার এসব ঘটনার ১৯৪টি বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলে হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এতে বলা হয়, বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলে নিহত হয়েছেন ২৪ জন। এছাড়া বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সংঘর্ষে জড়ায় ২৬০টি ঘটনায়। বিএনপি-আওয়ামী লীগের মধ্যে ৩৬টি সংঘর্ষ এবং বিএনপি-এনসিপির মধ্যে ২৩টি সংঘর্ষের ঘটনা উল্লেখ করেছে সংগঠনটি।
এর বাইরে আওয়ামী লীগ ও এনসিপির সংঘর্ষের তিনটি এবং বিএনপি ও অন্যান্য দলের মধ্যে সংঘর্ষের ৬০টি ঘটনাসহ অন্যান্য দলের মধ্যে ৩৪টি সহিংসতার ঘটনা রয়েছে।
গেল তিন মাসে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, নারী ও শিশু নির্যাতন, গণপিটুনি, সীমান্ত হত্যা এবং কারাগারে মৃত্যুর ঘটনাও রয়েছে। এইচআরএসএস বলেছে, ঘটনাগুলো জনমনে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতি ও জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে চরম সংকটে ফেলেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, তিন মাসে অন্তত ৬৭০ নারী ও কন্যা শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ১৪৭, যার ৭৬ জন ১৮ বছরের কম বয়সী। দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৩৯ জন। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৯ জনকে। এছাড়া পারিবারিক সহিংসতায় ১৩৬ নারীর মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে ৩২৮ শিশু নির্যাতনের শিকার হয়, যার মধ্যে ১৩৮ জন প্রাণ হারিয়েছে।
এইচআরএসএস বলছে, গত তিন মাসে ৮২টি হামলায় অন্তত ১৮৩ সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। সাইবার নিরাপত্তা অধ্যাদেশ-২০২৫ এর অপব্যবহার করে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা ও সাধারণ নাগরিকদের গ্রেফতার করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণে দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও গণপিটুনির ঘটনা বেড়েছে বলেও জানিয়েছে সংগঠনটি। বলা হয়েছে, গত তিন মাসে ৮৮টি গণপিটুনি ও মবের ঘটনায় ৪৯ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে, নির্যাতন ও কথিত বন্দুকযুদ্ধে অন্তত সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে কারাগারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বা অসুস্থ হয়ে ৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে কয়েদি ১৬ ও ২৩ জন হাজতি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর অন্তত ২৭টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে ৩১ জন আহত এবং চারটি মন্দির ও ১৯টি বসতবাড়িতে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। অন্যদিকে, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে এক বাংলাদেশী নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে গোলাগুলিতে চারজন গুলিবিদ্ধসহ শিশু নিহতের ঘটনা ঘটেছে।










