বাংলাদেশের সরকারি খাতে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত (স্টেম) পেশায় নারীদের অংশগ্রহণ এখনো সীমিত পর্যায়ে রয়েছে। সিস্টেম (SheSTEM) প্রকল্পের নতুন প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সরকারি চাকরিতে নারীর অংশগ্রহণ গড়ে ১০ শতাংশ হলেও টেকনিক্যাল ও নীতি-নির্ধারণী পদে এ উপস্থিতি ৮ শতাংশ। ফলে দেখা যায়, নারীরা তুলনামূলকভাবে নন-টেকনিক্যাল ও প্রশাসনিক স্তরে বেশি থাকলেও উচ্চ-দায়িত্ব ও বিশেষায়িত পেশায় তাদের অংশগ্রহণ সীমিত।

বুধবার (৬ মে) রাজধানীর রেনেসাঁ ঢাকা গুলশান হোটেলে আয়োজিত এক কর্মশালায় 'ওমেন ইন পাবলিক সেক্টর স্টেম ইন বাংলাদেশ: ব্রেকিং বেরিয়ারস অ্যান্ড বিল্ডিং পাথওয়েস' শীর্ষক অনুষ্ঠানে উপস্থাপিত মূল প্রবন্ধে এসব তথ্য উঠে আসে। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের প্রোগ্রাম ম্যানেজার রোদসী তাহসিন। নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের অর্থায়নে পরিচালিত ‘সিস্টেম’ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ, সহযোগী হিসেবে রয়েছে ১০ মিনিট স্কুল, এটুআই, ডেভলার্ন এবং লাইটক্যাসেল পার্টনারস।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, উচ্চশিক্ষায় ‘স্টেম’ বিষয়ে নারীর ভর্তির হার ২১ শতাংশ হলেও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে তা নেমে এসেছে ১ দশমিক ৫ শতাংশে। আইটি খাতে নেতৃত্ব পর্যায়ে নারীর অংশগ্রহণ মাত্র ১ শতাংশ—যা প্রযুক্তি খাতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্তরে তাদের সীমিত উপস্থিতিকে নির্দেশ করে।

পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও সিইও ড. এম. মাসরুর রিয়াজ স্বাগত বক্তব্যে বলেন, দেশে প্রযুক্তিগত দক্ষতার চাহিদা বাড়লেও সরকারি খাতের স্টেম পেশায় নারীদের অংশগ্রহণ এখনো অনেক কম। এ ভারসাম্যহীনতা দূর করতে দ্রুত কার্যকর ও তথ্যভিত্তিক সংস্কার প্রয়োজন

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, স্টেম খাতে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি জাতীয় উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য এবং এ ক্ষেত্রে নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার জরুরি।

প্রতিবেদনে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় লিঙ্গভিত্তিক পক্ষপাত, কর্মক্ষেত্রে নমনীয়তার অভাব, শিশু যত্ন সুবিধার ঘাটতি এবং সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিকে নারীর অগ্রগতির প্রধান বাধা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া নেদারল্যান্ডস, আর্জেন্টিনা, চিলি ও সিঙ্গাপুরের সফল নীতিমালার আলোকে মেন্টরশিপ, ডে-কেয়ার সুবিধা ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনের সুপারিশে বলা হয়, নিয়োগ সংস্কার, বায়াস রিডাকশন প্রশিক্ষণ, অন-সাইট ডে-কেয়ার, নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থা এবং নমনীয় কাজের সময় নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে নারী রোল মডেল ও মেন্টরশিপ প্রোগ্রাম সম্প্রসারণ এবং জাতীয় পর্যায়ে লিঙ্গ-সমতা নীতিমালা কার্যকর করার আহ্বান জানানো হয়।

লাইটক্যাসেল পার্টনারসের সিইও বিজন ইসলামের সঞ্চালনায় ‘ব্রেকিং ব্যারিয়ারস: উইমেনস এন্ট্রি অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি ইন স্টেম ক্যারিয়ারস’ শীর্ষক একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন ঢাকা ওয়াসার ডেপুটি প্রজেক্ট ডিরেক্টর ড. সাজিয়া আফরিন, বুয়েটের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নোভিয়া নুরাইন এবং বন্ডস্টাইন টেকনোলজিস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহরুখ ইসলাম।