বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) নারায়ণগঞ্জ জোনের সদস্যদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এ দাবি তুলে ধরা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম। দুর্ঘটনা ও বৈশ্বিক কারণে সৃষ্ট সাম্প্রতিক গ্যাস ও জ্বালানি সংকটে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদন ব্যাহত হওয়া এবং এতে সৃষ্ট আর্থিক সংকট নিয়ে সভায় আলোচনা করা হয়।

সভায় সদস্যরা জানান, বর্তমান সংকটে অনেক কারখানা প্রায় এক মাস ধরে উৎপাদন বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে। এতে প্রতিষ্ঠানগুলো গুরুতর আর্থিক সংকটে পড়েছে এবং ঋণের কিস্তি পরিশোধের সক্ষমতা হারাচ্ছে। এর সঙ্গে রফতানি বাণিজ্যের বিদ্যমান দুরবস্থা পরিস্থিতিকে আরো সংকটাপন্ন করে তুলেছে।

সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশের রফতানি বাণিজ্য আগে থেকেই শোচনীয় অবস্থায় রয়েছে। এর সঙ্গে বর্তমান জ্বালানি সংকট যুক্ত হওয়ায় অনেক কারখানার উৎপাদন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম আরো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা হারানো প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাভাবিক ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ফেরার সুযোগ দিতে খেলাপি ঋণ ঘোষণার সময়সীমা বাড়ানো প্রয়োজন। এ অবস্থায় বর্তমান ছয় মাসের পরিবর্তে ১২ মাস সময় পার হওয়ার পর ঋণকে খেলাপি হিসেবে ঘোষণার জন্য আবেদন জানানো হয়েছে। সদস্যরা এ দাবি সরকারের সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে তুলে ধরতে বিকেএমইএর প্রতি আহ্বান জানান।

সভায় জ্বালানি সংকটের কারণে সৃষ্ট আর্থিক চাপ মোকাবেলায় আরো কয়েকটি দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে জুন ও জুলাইয়ের গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল আগামী ১২ মাসে কিস্তির মাধ্যমে পরিশোধের সুযোগ দেয়ার দাবি রয়েছে। একই সঙ্গে বকেয়া বিলের কারণে এ সময়ে কোনো গ্রাহকের গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করার আহ্বান জানানো হয়। এছাড়া অবিলম্বে সব ধরনের অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আইনানুগ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানানো হয়েছে। সদস্যদের মতে, এতে গ্যাসের সরবরাহ বাড়ার পাশাপাশি সিস্টেম লসও কমে আসবে।

জ্বালানি সাশ্রয়ে পাবলিক ট্রান্সপোর্টের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রেখে ব্যক্তিমালিকানাধীন গাড়িতে সিএনজি সরবরাহ বন্ধ রাখারও দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি জ্বালানি পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত প্রতি সপ্তাহে প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে গ্যাস ও জ্বালানি সরবরাহের সর্বশেষ পরিস্থিতি গ্রাহকদের জানানোর দাবি উঠে আসে।

বিকেএমইএর সদস্যদের মতে, নিয়মিত পরিস্থিতি জানানো হলে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো উৎপাদন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম সম্পর্কে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারবে এবং অনিশ্চয়তা ও বিভ্রান্তি কমবে।