নিরাপদ পানির চাহিদা মেটাতে বাগেরহাটের কচুয়ায় ২০১৬ সালে স্থাপন করা হয় সৌরচালিত পন্ড স্যান্ড ফিল্টার (পিএসএফ)। ওয়ার্ল্ড ভিশনের পক্ষ থেকে স্থাপন করা প্লান্ট থেকে উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের অধিকাংশ মানুষ পানি সংগ্রহ করে। প্রতিদিন এখান থেকে প্রায় ১৬ হাজার লিটার পানি সরবরাহ করা হয়। তবে পানির চাহিদা বাড়লেও সে অনুপাতে সরবরাহ করতে পারছে না প্লান্টটি।
পিএসএফ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরা বলছেন, কচুয়া উপজেলার রাঢ়ীপাড়া ইউনিয়নের গোয়ালমাঠের পানির প্লান্টের ওপর নির্ভরশীল ১০ গ্রামের মানুষ। শুষ্ক মৌসুমে পানির চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় প্লান্টটি সম্প্রসারণের কথা ভাবছে তারা।
সরজমিন দেখা গেছে, ড্রাম ও কলস নিয়ে গ্রামের মানুষ পন্ড স্যান্ড ফিল্টারের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। কেউ পানি নিচ্ছে, আবার কেউ অপেক্ষায়। পিএসএফ ব্যবস্থাপনা কমিটি প্লান্ট রক্ষণাবেক্ষণের কলসপ্রতি ১ টাকা করে নেয়।
স্থানীয় সাইনবোর্ড বাজার থেকে পানি নিতে আসা এখলাছ বলেন, ‘খাল-বিল ও পুকুরে পানি না থাকা এবং লবণাক্ততার কারণে পিএসএফের পানির ওপর নির্ভর করতে হয় আমাদের। কচুয়া উপজেলার রাঢ়ীপাড়া, বাধাল, বাগেরহাট সদরের বেমরতা, মোরেলগঞ্জ উপজেলার তেলিগাতি ইউনয়নের ১০ গ্রামের মানুষ গোয়ালমাঠের পানির প্লান্টের ওপর নির্ভরশীল।’
পিএসএফ ব্যবস্থাপনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. রাসেল গাজী বলেন, ‘২০১৬ সালে গোয়ালমাট কৃষি কলেজের পাশে ওয়ার্ল্ড ভিশনের পক্ষ থেকে সৌরশক্তিচালিত পন্ড স্যান্ড ফিল্টার স্থাপন করা হয়। এরপর থেকে তিনটি ইউনিয়নের অধিকাংশ মানুষ এখান থেকে পানি সংগ্রহ করেন। সৌরচালিত মোটরটি দুর্বল হওয়ায় কমিটির ব্যবস্থাপনায় বৈদ্যুতিক মোটরের মাধ্যমে পানি ওঠানো হয়। প্রতিদিন প্রায় ১৬ হাজার লিটার পানি সরবরাহ করা হয় এখান থেকে। পিএসএফটি বড় পরিসরে করার জন্য ওয়ার্ল্ড ভিশনের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। তারাও একমত পোষণ করেছে।’
কমিটির কোষাধ্যক্ষ শরীফ তুহিন মাহমুদ বলেন, ‘পিএসএফের বিদ্যুৎ বিলসহ আনুষঙ্গিক ব্যয় নিজে বহন করে আসছিলাম। তবে কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অশোভন আচরণের কারণে বিদ্যুৎ সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করা হয়। গত বুধবার সন্ধ্যার পর পুনরায় বিদ্যুৎ সংয়োগ দেয়া হয়েছে।’
ওয়ার্ল্ড ভিশনের সিনিয়র ম্যানেজার ফুলি সরকার বলেন, ‘পিএসএফ ব্যবস্থাপনা কমিটি আমাদের কাছে আবেদন করলে পিএসএফটি বড় করার চিন্তা করা হবে।’










