অন্যদিকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান অলি আহমদকে নিজেদের প্রার্থী ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। একাধিক প্রার্থী হলে ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত হবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি গতকাল একটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। আরেকটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তবে তারা কার জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

রাষ্ট্রপতি পদে একই ব্যক্তির নামে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দেয়ার বিধান রয়েছে। কারণ একটি মনোনয়নপত্রে কোনো ভুল-ত্রুটি থাকলে যাতে অন্যটি বিবেচনায় নেয়া যায়।

ক্ষমতাসীন দল বিএনপির পক্ষ থেকে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহের তথ্য নিশ্চিত করে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম বলেন, ‘ফরম মূলত একজনের জন্য নিয়েছি। তবে কোনো ধরনের ভুল-ত্রুটি যেন না হয় সেজন্য দুটি মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে কারো নামে সেটি সংগ্রহ করা হয়নি। তফসিল অনুযায়ী আমরা মনোনয়নপত্র জমা দেব।’

এদিকে মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবনে গতকাল বৈঠকে বসে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যজোট। সেখানেই জোটের প্রার্থী হিসেবে কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নাম চূড়ান্ত করা হয়। পরে তা ব্রিফিংয়ে জানান জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান।

বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে সর্বোত্তম ব্যক্তিকে প্রেসিডেন্ট পদে মনোনয়ন দিয়েছি। তার জন্য সবাই দোয়া করবেন।’

সংবাদ সম্মেলনে জোটের শরিক এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘১১ দলের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে কর্নেল অলি আহমদকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। এ বিষয়ে সব দলের পক্ষ থেকে সম্মতি দেয়া হয়।’

এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা হলে ১৯৯১ সালের পর এটিই হবে একাধিক প্রার্থীর অংশগ্রহণে প্রথম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব ছাড়েন গত ২৪ জুলাই। তার উত্তরসূরি নির্বাচনের তফসিলও ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তাতে ভোট গ্রহণের তারিখ রাখা হয়েছে ২০ আগস্ট।

সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় সংসদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা বিএনপি প্রার্থীর জয়ী হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। কেননা সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো সংসদ সদস্য নিজ দলের বিপক্ষে ভোট দিতে পারেন না।

রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান আয়োজনে ৬ কমিটি: নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে আয়োজনে ছয়টি কমিটি গঠন করেছে সরকার। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ গতকাল এসব কমিটি গঠন করে অফিস আদেশ জারি করেছে। অফিস আদেশে বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশন ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য তফসিল ঘোষণা করেছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি পাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে নির্ধারিত দিন, তারিখ, সময় ও স্থানে রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান আয়োজিত হবে। শপথ অনুষ্ঠান যথাযথ মর্যাদায় সুচারু ও সফলভাবে পরিচালনা করতে কমিটিগুলো গঠন করা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) ফারাহ শাম্মীর নেতৃত্বে সমন্বয় কমিটি; প্রশাসন ও বিধি অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. শামীম সোহেলের নেতৃত্বে ডকুমেন্টেশন ও রেকর্ড সংরক্ষণ কমিটি এবং অতিথি তালিকা প্রণয়ন ও আমন্ত্রণপত্র মুদ্রণ কমিটি; সমন্বয় অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ খালেদ হাসানের নেতৃত্বে আমন্ত্রণপত্র বিতরণ ও প্রাপ্তি যাচাই কমিটি; অর্থনৈতিক অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. হুমায়ুন কবিরের নেতৃত্বে আসন ব্যবস্থাপনা কমিটি এবং আইন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ইয়াসমিন বেগমের নেতৃত্বে অভ্যর্থনা কমিটি গঠন করা হয়েছে।