গতকাল সকালে কর্মকর্তাদের নিয়ে মহাখালী বাস টার্মিনাল ঘুরে এমন প্রতিক্রিয়া তুলে ধরেছেন তিনি। এমনকি উল্টো নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে কম রাখা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেছেন মন্ত্রী।
রবিউল আলম জানান, রাস্তার ওপর এলোপাথাড়ি বাস রাখার মতো কোনো বিশৃঙ্খলাও তার চোখে পড়েনি। পাম্পগুলোয় এখনো তেলের জন্য লাইনে দাঁড়াতে হলেও মন্ত্রী বলছেন গণপরিবহনে তেলের কোনো সংকটও নেই। সব মিলিয়ে মন্ত্রী রবিউল মনে করছেন, এবারে ‘স্বস্তির’ ঈদযাত্রা পেতে যাচ্ছে মানুষ।
ঈদযাত্রায় বাসে বেশি ভাড়ার অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘একটা জায়গায়ও কেউ ভাড়া বেশি নিচ্ছে না। ক্ষেত্র বিশেষে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে ২০-৩০ বা ৫০ টাকা কম নেয়া হচ্ছে।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে কম ভাড়ায় যাত্রী বহন করে তারা (অপারেটর) অভ্যস্ত। যাত্রীকে আকৃষ্ট করার জন্য তারা এটা করে থাকেন। এখনো অনেকেই সেই কম ভাড়াটাই নিচ্ছেন।
ভাড়া নিয়ে আরেক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে ১ টাকাও বেশি নেয়ার সুযোগ এখানে নেই। এখানে মোবাইল কোর্ট আছে, ভিজিলেন্স টিম আছে। কোনো অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমরা ২৪ ঘণ্টা তৎপর আছি।’
নির্ধারিত ভাড়ার ব্যাখ্যায় রবিউল আলম বলেন, ‘ধরেন সরকার নির্ধারিত ভাড়া ৭০০ টাকা। অনেক সময় যাত্রী না থাকলে তারা ৫০০ টাকাও নিয়েছে। এখনো নিচ্ছে। এখন যখন ওই পরিবহন ৬০০ টাকা ভাড়া নিচ্ছে, তখন হয়তো কেউ কেউ ভাবছেন আগের চেয়ে বেশি নিচ্ছে। আমি নিশ্চিত এটা নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি না, আগে নেয়া ভাড়ার চেয়ে হয়তো একটু বেশি।’
মহাখালী বাস টার্মিনাল এলাকায় রাস্তার দুই-তিন সারিতে বাস রেখে অন্যান্য যানবাহনের চলাচলে বিঘ্ন ঘটানো নিত্যদিনের। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে মন্ত্রী রবিউল বলেন, ‘আমাদের কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। যে হারে যাত্রী এখান থেকে যাবে, বাসের যে সংখ্যা—সেই সবগুলো বাস এ টার্মিনালে পার্কিং করার সুযোগ দেয়া যাচ্ছে না। বাসগুলো পর্যায়ক্রমে ঢুকছে। একটা বাস ছেড়ে যাচ্ছে, আরেকটা বাস ঢুকছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘১০টা বাস ছেড়ে গেলে ১০টা বাস ঢুকছে। এখানে কিছুটা বিড়ম্বনা আছে। যেহেতু টার্মিনালটা এখনই বড় করা যাচ্ছে না। তবু আমি বলেছি মূল রাস্তায় যেন বাস চলাচল করতে পারে, ততটুকু শৃঙ্খলা যেন রাখা হয়। একেবারে বন্ধ যেন না হয়ে যায়, যান চলাচল যেন স্বাভাবিক থাকে।’
গণপরিবহনের জ্বালানি তেল নিয়ে কোনো সংকট নেই মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, ‘আন্তর্জাতিকভাবে যে সংকটটি তৈরি হয়েছে, সেটা ব্যবস্থাপনার মধ্যে আছে। কিন্তু গণপরিবহনের জ্বালানি তেল নিশ্চিত করা হয়েছে।’
ফিটনেসহীন গাড়ি চলাচল নিয়ে কী করছেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কোনটি ফিটনেসবিহীন গাড়ি, একটা চিহ্নিত করে সেটা আমাকে জানান। আমরা ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও নিরুৎসাহিত করেছি। আমাদের মনিটরিং টিম দেখছে। আবার গ্যারেজে গ্যারেজে গিয়েও আমরা সতর্ক করে আসছি যে তড়িঘড়ি করে যেনতেনভাবে কোনো গাড়ি যেন হাইওয়েতে চলার জন্য পাঠিয়ে দেয়া না হয়।’
এ সময় সড়ক পরিবহন প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, ঢাকা মহানগর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এদিন দুপুরে মন্ত্রী রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল পরিদর্শন করেন। এ সময় সাংবাদিকদের তিনি জানান, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সদরঘাট থেকে নদীপথে ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রী লঞ্চ টার্মিনালের বিভিন্ন গেট, যাত্রীসেবা কেন্দ্র ও ব্যবস্থাপনা ঘুরে দেখেন এবং ঈদে বাড়ি ফেরা লোকজনের সঙ্গে কথা বলে তাদের খোঁজখবর নেন।










