যমুনা নদীর ওপর ১৯৯৮ সালে উদ্বোধন করা হয় যমুনা বহুমুখী সেতু। ৪ দশমিক ৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের দেশের দ্বিতীয় দীর্ঘতম এ সেতুটি সড়ক ও রেল সেতু হিসেবে এতদিন ব্যবহার হয়েছে।

সম্প্রতি যমুনা সেতুর ৩০০ মিটার উত্তরে নির্মাণ করা হয়েছে একটি রেল সেতু। চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি প্রথম পরীক্ষামূলক যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল শুরু হয় দেশের দীর্ঘতম এ রেলওয়ে সেতুতে। গত ১৮ মার্চ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। প্রমত্তা যমুনার ওপর প্রথম সেতুটি নির্মাণের পর থেকেই এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করে নদীর ওপর। নদীতে জাগে অসংখ্য চর। এতে নাব্য সংকটে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে নৌপথে স্বাভাবিক চলাচল। এ অবস্থায় এত কাছাকাছি দূরত্বে দ্বিতীয় সেতুটি নির্মাণে এ সংকট আরো প্রকট হবে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

কেবল নৌ চলাচলই না, স্থানীয় মৎস্যজীবীদের জীবিকা ও কৃষি উৎপাদনও যমুনার ওপর নির্ভরশীল। চর পড়ার কারণে মৎস্য আহরণ ও কৃষি পড়েছে সংকটে। ভরা বর্ষায় দুই কূল ছাপিয়ে চলা যমুনা নদী শুষ্ক মৌসুমে শুকিয়ে গেলে দৃশ্যমান হয় অসংখ্য চর। দীর্ঘদিন ধরে খনন না করায় পলি জমে ভরাট হয়ে যাচ্ছে নদী। বর্ষা মৌসুমে চরাঞ্চলের গ্রামগুলো পড়ে বন্যা ও ভাঙনের ঝুঁকিতে। এ সমস্যা সমাধানে বিভিন্ন সরকারের সময় প্রকল্প হাতে নেয়া হলেও কার্যত কোনো ফল আসেনি। তাই নৌপথ উন্নয়ন ও সংরক্ষণে কোনো অগ্রগতি দৃশ্যমান হয়নি।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক এএসএম সাইফুল্লাহ বলেন, ‘উজান থেকে আসা বাংলাদেশের সব নদীই প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ পলি বহন করে। এই পলি সেতুর মতো স্থাপনায় বাধাপ্রাপ্ত হয়ে আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে। এতে চর তৈরি হয়। আমরা পর্যবেক্ষণে দেখেছি যেখানে সেতু হয়, তার আশপাশে বা দূরে চর পড়ে। এতে সৃষ্টি হয় নাব্য সংকট। নদীর গতিপথও পরিবর্তন হয়। একটা সময় সেতুগুলোও হুমকির সম্মুখীন হয়। কারণ চর পড়লে ড্রেজিং করে নদীকে সচল রাখার চেষ্টা করা হয়। তখন সেতু হুমকিতে পড়ে। এজন্য এত কাছাকাছি সেতু না করা ভালো। সেতু করার সময় এনভায়রনমেন্টাল ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট করা হয়। এক্ষেত্রে করা হয়েছিল কিনা জানি না।’

সরেজমিন দেখা যায়, বর্তমানে যমুনা নদীর সিরাজগঞ্জ এলাকায় চর পড়ে নাব্যতা হারিয়ে অনেক জায়গায় মরা খালে পরিণত হয়েছে। এতে নৌকায় করে অনেক ঘুরে নদী পারাপার হতে হচ্ছে। এতে সময় ও অর্থের অপচয় হচ্ছে।

যমুনা নদী সিরাজগঞ্জ অংশে রয়েছে প্রায় ৮০ কিলোমিটার। এ নদী জেলার উত্তরে অবস্থিত কাজিপুর থেকে সিরাজগঞ্জ সদর, বেলকুচি, চৌহালী হয়ে দক্ষিণে শাহজাদপুর উপজেলা পর্যন্ত বহমান। চর জেগে ওঠায় প্রায় চার হাজার পরিবারের মাছধরা ও নৌকা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহের একমাত্র পথ অনেকটা বন্ধ হয়ে গেছে। একসময়ের প্রমত্তা নদীর বুকে আবাদ হচ্ছে ফসলের। শুকনো মৌসুমে পানি না থাকলেও বর্ষা মৌসুমে আবার দুই কূল ছাপিয়ে দুর্দশার কারণ হয়। পানি ধারণক্ষমতা না থাকায় তখন বাড়িঘর ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়।

স্থানীয় ইঞ্জিনচালিত নৌকার মাঝিরা জানান, নদীতে পানি কমে চর জেগে ওঠায় নৌকা নিয়ে অনেক দূর ঘুরে ঘুরে যেতে হয় গন্তব্যে। সময় বেশি লাগায় যাত্রী কমে গেছে। এতে তেল খরচও বেশি পড়ে। এভাবে চর পড়তে থাকলে আগামীতে ইঞ্জিনচালিত প্রায় সব নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তখন সংসার চলবে কীভাবে সেই চিন্তায় পড়েছে নৌকানির্ভর জীবিকা নির্বাহ করা মাঝিরা।

কাজিপুর উপজেলার নাটুয়াপাড়া এলাকার কৃষক আলতাফ আলী বলেন, ‘দীর্ঘদিন আগে নদীভাঙনে আমার সব জমি চলে গেছে। আমি এখন নদীর বুকে জেগে ওঠা চরে সামান্য বোরো আবাদ করছি। গ্রীষ্ম মৌসুমে নদী শুকিয়ে জেগে উঠছে চর। আর বর্ষা মৌসুমে যমুনা নদীর গভীরতা হ্রাস পাওয়ায় সামান্য পানিতেই ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হচ্ছে। যা এ এলাকার মানুষের জন্য একটি বড় অভিশাপ হয়ে দেখা দিয়েছে। প্রতি বছরই বন্যার কারণে নানা সমস্যায় পড়তে হয় এ এলাকার হাজার হাজার মানুষকে।’ এ এলাকার মানুষ মনে করে, নদী খনন করে গভীরতা বাড়ালে ও পানিপ্রবাহ ঠিক রাখলে তাদের কষ্ট কিছুটা লাঘব হবে।

স্কুলশিক্ষিকা নাছিমা আকতার বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব যমুনার ওপরও পড়ছে। দ্রুত খনন করে নদীর গভীরতা বৃদ্ধি করা না হলে জেলার পাঁচটি উপজেলার অনেক গ্রাম বর্ষা মৌসুমে বন্যাকবলিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। নদী শুকিয়ে যাওয়ায় এসব গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রার পরিবর্তনের পাশাপাশি গাছপালা ও কৃষি উৎপাদনে প্রভাব পড়ছে। জেলার মোট সবজিসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদন কমে যাচ্ছে। বেকার হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে আছে নৌকা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করা প্রায় দুই হাজার মাঝি পরিবার। এছাড়া নদীতে মাছ শিকার করে যারা জীবিকা নির্বাহ করে সেই জেলেরাও পড়েছেন সংকটে।’

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ব্রহ্মপুত্রের উৎপত্তি হিমালয় পর্বতমালার কৈলাস শৃঙ্গের কাছে জিমা ইয়ংজং হিমবাহে, যা তিব্বতের পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত। জাঙপো নামে তিব্বতের পূর্বদিকে প্রবাহিত হয়ে এটি ভারতের অরুণাচল প্রদেশে প্রবেশ করে, যখন এর নাম হয়ে যায় শিয়াং বা সিয়াং। তারপর ভারতের আসামের ওপর দিয়ে দিহাং নামে বয়ে যাওয়ার সময় এতে দিবং এবং লোহিত নামে আরো দুটি বড় নদী যোগ দেয় এবং তখন সমতলে এসে চওড়া হয়ে এর নাম হয় ব্রহ্মপুত্র। ব্রহ্মপুত্র হিমালয় পর্বতের কৈলাস শৃঙ্গের কাছে মানস সরোবর থেকে উৎপন্ন হয়ে তিব্বত ও আসামের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বাংলাদেশের কুড়িগ্রামের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জের কাছে ব্রহ্মপুত্র দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বাঁক নিয়ে জামালপুর ও ময়মনসিংহ জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ভৈরব বাজারের দক্ষিণে মেঘনায় গিয়ে পড়েছে।

১৭৮৭ সালে ভূমিকম্পের কারণে ব্রহ্মপুত্র নদের তলদেশ উত্থিত হওয়ার কারণে এর দিক পরিবর্তিত হয়ে যায়। ১৭৮৭ সালের আগে এটি ময়মনসিংহের ওপর দিয়ে আড়াআড়িভাবে বয়ে যেত। পরবর্তী সময়ে এর নতুন শাখা নদীর সৃষ্টি হয়, যা যমুনা নামে পরিচিত। প্রতি বছর যমুনা নদী দিয়ে প্রায় ১ দশমিক ২ বিলিয়ন টন পলি প্রবাহিত হয়। এজন্য যমুনা নদীর বুকে ছোট-বড় অসংখ্য চর জেগে ওঠে।

বর্ষাকালে যমুনা নদীর প্রবাহ থাকে বিশাল। এ সময় যমুনা নদী বিধ্বংসী হয়ে ওঠে এবং নদীর ডান-তীরবর্তী সিরাজগঞ্জ জেলা ব্যাপক ভাঙনের কবলে পড়ে।

জানা গেছে, ২০১০ সালে ‘ক্যাপিটাল (পাইলট) ড্রেজিং অব রিভার সিস্টেম ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় যমুনা নদীর ২২ কিলোমিটার ক্যাপিটাল ড্রেজিং ও মেইনটেন্যান্স ড্রেজিং প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। এর লক্ষ্য ছিল নদীর গতিপথ নদীর তীর থেকে প্রায় এক কিলোমিটার নদী অভ্যন্তরে স্থানান্তর করা এবং নদীর চ্যানেল ঠিক রাখা। এছাড়া সিরাজগঞ্জ হার্ড পয়েন্ট ও যমুনা সেতুর পশ্চিম গাইড বাঁধ যমুনা নদীর ভাঙন থেকে রক্ষা করা। এজন্য ব্যয় ধরা হয় ৪২২ কোটি টাকা। এ প্রকল্পের আওতায় ২২ কিলোমিটারের স্থলে প্রথম বছর যমুনা সেতুর উজানে সাড়ে ৩ কিলোমিটার এবং দ্বিতীয় বছর ভাটিতে ৪ কিলোমিটার নদী খনন করা হয়। যার গভীরতা ধরা হয় ৪০ ফুট। এ খননের আরেকটি মূল উদ্দেশ্য হলো খননকৃত অংশে নদীর সুনির্দিষ্ট গতিপথে প্রবাহ ঠিক রাখা। প্রকল্পটি শেষ হয় ২০১৬ সালে। কিন্তু খননের পরে রক্ষণাবেক্ষণ না করার কারণে খননকৃত সেই অংশও এখন ভরাট হয়ে গেছে। এছাড়া জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত ৮০ কিলোমিটার নদীর মধ্যে মাত্র সাড়ে সাত কিলোমিটার নদী খনন কতটা যুক্তিযুক্ত ছিল সে প্রশ্ন থেকেই যায়। আরেক তথ্যে জানা যায়, ২০০৯-১০ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ছয় বছরে উন্নয়ন ও খননের আওতায় নৌপথের নাব্যতা ফেরাতে আরিচা থেকে বাঘাবাড়ি পর্যন্ত ৫০ কিলোমিটার নদী খনন করা হয়। কিন্তু সেই নৌপথ এখন তেমনভাবে সচল নেই বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সিরাজগঞ্জ নির্বাহী প্রকৌশলী (পুর) বলেন, ‘যমুনা দেশের বড় নদীর মধ্যে একটি। প্রায় আট কিলোমিটার প্রস্থের একটি নদীকে খনন করে তার গতিপথ ঠিক রাখা কঠিন। আবার খনন করলেও তার রক্ষণাবেক্ষণ করতে হয়। কিন্তু আমাদের সাধ্য অনুযায়ী যমুনা নদী পুরোপুরি খনন এবং খননকৃত অংশে নাব্য ধরে রাখা সহজ নয়। তবে তার পরেও যতটা সম্ভব খননসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।’

এ ব্যাপারে কথা বলতে বাঘাবাড়ি নৌ-বন্দর কর্মকর্তা মোহাম্মদ আসাদুজ্জামানকে একাধিক ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

নদীপাড়ের জেলেরা জানান, একসময় যমুনায় প্রচুর মাছ ধরা পড়ত। সেই মাছ বাজারে বিক্রি করে সংসার চালাত হাজার জেলে পরিবার। সেই সময় যমুনার মাছকে ঘিরে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বসত মাছের বাজার। যেখান থেকে সারা দেশে যেত যমুনা নদীর মাছ। এখন মাছই পাওয়া যায় না। তাই মাছের অভাবে যমুনা নদীকেন্দ্রিক আড়তেরও নেই আগের জৌলুস। পানি কমে চর জেগে ওঠায় যমুনায় অনেকটা মাছের আকাল পড়েছে। মাছ কমে যাওয়ায় অনেক জেলে পেশা পরিবর্তন করেছেন। যারা নদীনির্ভর রয়েছেন তাদেরও সংসার চলে অনাহারে-অর্ধহারে।

কাজিপুর উপজেলার নাটুয়াপাড়া খেয়াঘাটের মাঝি রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বর্ষার সময় যমুনা নদীর পানি দুই কূল উপচে পড়ে। আবার শুষ্ক মৌসুমে নদী শুকিয়ে অসখ্য চরের সৃষ্টি হয়, ফলে সোজাসজি নৌকা চালানোর পরিস্থিতি থাকে না। অনেকটা পথ ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছতে হয়। এর জন্য তেল খরচ বেশি পড়ে, সময় নষ্ট হয়।’

ওই গ্রামের ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘আমরা যখন ছোট ছিলাম যমুনা নদীতে স্রোতধারা দেখেছি। অনেকেই স্রোতে ভেসে যেত। স্রোতের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে নদীতে নামতেই অনেকে ভয় পেত। অথচ সেই নদীর মাঝে মাঝে চর জেগে ওঠায় নদী প্রায় মরা গাঙে পরিণত হয়েছে।’ তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নদী খনন করে স্বাভাবিক জীবন ফেরানোর দাবি জানান।

একই উপজেলার তেকানী গ্রামের কৃষক আব্দুস সালাম বলেন, ‘আমরা মনে-প্রাণে চাই নদী বেঁচে থাকুক। নদী আমাদের শুধু মাছই দেয় না, সারা বছর চাষাবাদের কাজে সেচের ক্ষেত্রে নদীর পানিও ভূমিকা রাখে। বর্ষার সময় নদীর পানি চারদিকে ছড়িয়ে পড়ায় ফসলের জমিতে পলি জমে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি পায়, এতে ফলনও বাড়ে। তাই জেলার মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া যমুনা নদীর নাব্যতা ও পানিপ্রবাহ ঠিক রাখতে পরিকল্পিতভাবে নদী খনন করা হোক।’

পাশাপাশি দুই সেতুর প্রভাব সম্পর্কে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘শীতের মৌসুমে যমুনা নদীর চ্যানেলে পানি অনেক কম প্রবাহিত হয়। কিন্তু বর্ষা মৌসুমে এর দশ গুণের বেশি পানি প্রবাহিত হয়। তখন কিন্তু ছোট চ্যানেল দিয়ে পানি যাওয়ার মতো বৈশিষ্ট্য এ নদীর না। তখন একটা বোতলের মতো আকার হয়ে যায়। আবার এ নদী হিমালয় থেকে যে বালি এবং মাটি বয়ে নিয়ে আসে সেগুলো এ চিকন চ্যানেলে আটকা পড়ে। এখানে তখন নদীর গভীরতা কমে যায়। ফলে পরের বর্ষায় যখন আবার পানির প্রবাহ বাড়তে থাকে তখন নদীর দুই পাশে আঘাত হানে। ফলে সেখানে ভাঙন দেখা দেয়। এটি অত্যন্ত ক্ষতির কারণ আমাদের জন্য। ফলে এ প্রকল্পের কারণে নদীর ভাঙনের পরিমাণ এবং নদীর বুকে চর পড়ার পরিমাণ আরো অনেক বেড়ে যাবে।

নদীর গতিপথ ঠিক রেখে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে এর বিকল্প কিছু সরকারের হাতে ছিল কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে এ বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘সেতু যোগাযোগের জন্য করতে হয়। করা যাবে, কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু এ সেতুটাকে টাঙ্গাইলের ভূয়াপুরের পয়েন্ট থেকে শুরু করে এ পাশে সিরাজগঞ্জের সয়েদাবাদ রেলক্রসিং পর্যন্ত কানেক্ট করে দূরত্ব হিসাব করলে দুই পাশে পাঁচ পাঁচ করে ১০ কিলোমিটারকে ব্রিজের আওতায় নিয়ে এলে পানিপ্রবাহের কোনো সমস্যা হতো না। কারণ পানিপ্রবাহের জন্য তখন ১২ কিলোমিটারের মতো জায়গা থাকত। কিন্তু এখন যেটি করা হয়েছে, তাতে পানিপ্রবাহের জন্য জায়গা থাকছে পাঁচ কিলোমিটারের মতো। এটি টেকসই হতো, নদীরও কোনো ক্ষতি হতো না, আশপাশের এলাকার ক্ষতি হতো না। তখন ব্রিজটা একটু বড় হতো, খরচ বাড়ত। কিন্তু প্রকৃতি এবং নদী বেঁচে যেত। নদী সংকুচিত হওয়ার কারণে যে ক্ষতি হবে সেটির আর্থিক মূল্য কিন্তু এর চেয়ে অনেক বেশি।’