জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষিত রেখে টেকসই মিশ্র বহর (মিক্সড ফ্লিট) গড়ে তোলার লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।’ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গতকাল সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী আগের সরকারগুলোর কাছ থেকে একটি দুর্বল অর্থনীতি উত্তরাধিকার হিসেবে পেয়েছেন বলে মন্তব্য করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। তিনি বলেন, ‘সরকার দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল খাতকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি বিচক্ষণ অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায়ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অর্থনীতিকে আরো শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে একদিকে আমাদের সাশ্রয়ী নীতি অনুসরণ করতে হবে, অন্যদিকে দেশের প্রয়োজনীয় জিনিসও কিনতে হবে। আমাদের বোয়িংও প্রয়োজন, এয়ারবাসও প্রয়োজন। আমরা দুটিই কিনব।’

যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িং কেনার পরিকল্পনা ফ্রান্স থেকে এয়ারবাস কেনার আগ্রহের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কিনা কিংবা বোয়িং কেনা কোনো বাহ্যিক চাপের ফল কিনা—এ প্রশ্ন আসে সাংবাদিকদের কাছ থেকে। জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এ ধারণাকে নাকচ করে দেন।

বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, ‘বাংলাদেশ কোনো নির্দিষ্ট দেশকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেয় না। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বার্থই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পায়।’

এর একদিন আগে সরকার জাতীয় স্বার্থ

সুরক্ষিত রেখে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের জন্য টেকসই মিশ্র বহর গড়ে তুলতে

এয়ারবাস বিমান কেনার আগ্রহ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে গত বুধবার অনুষ্ঠিত এক সৌজন্য সাক্ষাতে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়। ওই বৈঠকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম, প্রতিমন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, স্পেন, জার্মানি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত ও জ্যেষ্ঠ কূটনীতিকরা অংশ নেন।

বৈঠকে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী জানান, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের দীর্ঘমেয়াদি বহর সম্প্রসারণ কর্মসূচিতে এয়ারবাস উড়োজাহাজ অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে জাতীয় স্বার্থ পুরোপুরি সুরক্ষিত রেখে একটি টেকসই মিশ্র বহর গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।

ইউরোপীয় কূটনীতিকরা এয়ারবাস কেনার বিষয়ে বাংলাদেশের আগ্রহকে স্বাগত জানান। সেই সঙ্গে বেসামরিক বিমান চলাচল খাতে বৃহত্তর সহযোগিতার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেয়ার আগ্রহ পুনর্ব্যক্ত করেন।