রাঙ্গামাটির
লংগদুতে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) এক কর্মীসহ দুজনকে
গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার বড় হাড়িকাবার ভালেদি
ঘাটে এ ঘটনা ঘটে।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা ওরফে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতিকে (জেএসএস) দায়ী করেছে ইউপিডিএফ। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছে জেএসএস।
নিহতরা হলেন—লংগদু উপজেলার কাট্টলী কুকিছড়া গ্রামের সময় মণি চাকমার ছেলে ও ইউপিডিএফ সদস্য বিদ্যাধন চাকমা (৪৫) এবং বড় হাড়িকাবার ধুধুকছড়া গ্রামের লেংগ্যা চাকমার ছেলে ধন্য মণি চাকমা (৩৫)।
গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ইউপিডিএফের রাঙ্গামাটি জেলা ইউনিটের সংগঠক সচল চাকমা বলেন, ‘লংগদুর বড়হাড়িকাবার ভালেদি ঘাটের পাশের স্থানে সন্তু গ্রুপের সাতজন ইউপিডিএফ কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় ঘটনাস্থলে ইউপিডিএফ সদস্য বিদ্যাধন চাকমা ওরফে তিলক ও সমর্থক ধন্য মণি চাকমা নিহত হন।’
হামলায় নেতৃত্ব দেন পোয়া চাকমা ওরফে আপন (৩২)। আপন বড় হাড়িকাবার পাশের কুট্টছড়ি গ্রামের লক্ষ্মী মণি চাকমার ছেলে জানিয়েছে ইউপিডিএফ। অভিযোগ অস্বীকার করে জেএসএস লংগদু উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মণি শংকর চাকমা বলেন, ‘ওই এলাকায় আমাদের সাংগঠনিক কোনো কার্যক্রম নেই। কাজেই আমাদের জড়িত থাকার প্রশ্নই আসে না। এ ঘটনা তাদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলেও হতে পারে।’
এদিকে হত্যার প্রতিবাদে আগামী সোমবার জেলায় আধাবেলা সড়ক ও নৌ-পথ অবরোধের ডাক দিয়েছে ইউপিডিএফ। বিকালে রাঙ্গামাটি সদর উপজেলার কুতুকছড়িতে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেয় সংগঠনটি। এর আগে সকালে হত্যাকারীদের গ্রেফতার দাবিতে কুতুকছড়িতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে সংগঠনটি।
রাঙ্গামাটির পুলিশ সুপার মীর আবু তৌহিদ জানান, গুলিতে নিহত দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা হবে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।









