শুধু সরকারদলীয় এমপি-মন্ত্রী নন, সংসদের বিরোধীদলীয় এমপি ও নেতাদের অধিকাংশই নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় ঈদ উদযাপন করবেন। এরই মধ্যে অনেক এমপি-মন্ত্রী নিজ এলাকায় অবস্থান করছেন।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দায়িত্ব নেয়ার পর প্রথম ঈদ হওয়ায় অধিকাংশ এমপি-মন্ত্রী নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় ঈদ করাকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। ঈদের টানা ছুটিতে তারা স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মসূচিতে অংশ নেয়া শুরু করেছেন এবং জনসংযোগ কার্যক্রম চালাচ্ছেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকায় ঈদ পালন করবেন। তিনি জাতীয় ঈদগাহে ঈদের নামাজ আদায় করবেন। ঈদের দিন তিনি যমুনায় সাধারণ মানুষদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। এরই মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও ঢাকায় ঈদ উদযাপন করবেন। তবে পরদিন তিনি ঠাকুরগাঁওয়ে নিজ সংসদীয় এলাকায় বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারেন বলে জানা গেছে।
দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ কক্সবাজারে, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী চট্টগ্রামে নিজ সংসদীয় এলাকায় ঈদ করবেন।
স্থানীয়দের সঙ্গে ঈদুল ফিতর উদযাপন করতে গত বুধবার ঢাকা ছাড়েন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। ঈদের ছুটিতে তিনি কলমাকান্দা ও দুর্গাপুর উপজেলায় বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। ডেপুটি স্পিকারের একান্ত সচিব সাইফুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, গত বুধবার নিজ নির্বাচনী এলাকায় আসেন ডেপুটি স্পিকার। দায়িত্ব নেয়ার পর প্রথম ঈদে ডেপুটি স্পিকার নিজ নির্বাচনী আসনের জনগণের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করবেন। তিনি স্থানীয়দের সঙ্গে ঈদের নামাজ আদায়ের পাশাপাশি শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। পাশাপাশি বেশ কয়েকটি পূর্বনির্ধারিত রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মসূচিতে তিনি যোগদান করবেন।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন দিনাজপুরে, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু ঢাকায় এবং ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ কুমিল্লার মুরাদনগরে ঈদ উদযাপন করবেন।
এছাড়া ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু রাজশাহীতে, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী মাগুরায় এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক সিলেটে ঈদ করবেন। তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বরিশালে, কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ কুমিল্লায় এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা মানিকগঞ্জে ঈদ উদযাপন করবেন।
পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি লক্ষ্মীপুরে, ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু লালমনিরহাটে এবং আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান ঝিনাইদহে ঈদ করবেন। গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের কুমিল্লার বরুড়ায় ঈদ উদযাপন করবেন।
সরকারের অন্য মন্ত্রীদের মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান রাঙ্গামাটিতে, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন চাঁদপুরে, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন নরসিংদীতে এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম টাঙ্গাইলে ঈদ উদযাপন করবেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস অসুস্থ হয়ে বর্তমানে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান ও রুহুল কবির রিজভী ঢাকায় ঈদ উদযাপন করবেন। উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির ও মাহদী আমিনও ঢাকায় অবস্থান করবেন। তবে ঈদের পর হুমায়ুন কবিরের সিলেট যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জামালপুরে, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত যশোরে, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম কিশোরগঞ্জে, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম ফরিদপুরে এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু টাঙ্গাইলে ঈদ উদযাপন করবেন।
এছাড়া বিএনপির অনেক নেতা নিজ নিজ এলাকায় ঈদ উদযাপনের প্রস্তুতি নিয়েছেন।
শুধু সরকারদলীয় এমপি-মন্ত্রীই নন, বিরোধীদলীয় এমপিরাও নিজ নিজ এলাকায় ঈদ উদযাপনকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ঢাকা-১৫ আসনে ঈদ উদযাপন করবেন। মিরপুরের ৬০ ফিট রাস্তা সংলগ্ন মনিপুর গার্লস হাইস্কুল মাঠে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করে তিনি সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম নিজ নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-১১ আসনে ঈদ উদযাপন করবেন।
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম ঢাকায়, নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার নিজ গ্রামে, নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের ঢাকায়, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া উপজেলার নিজ গ্রাম নওকৈড়ে, খুলনার জামায়াত নেতা আবুল কালাম আজাদ নিজ নির্বাচনী এলাকায় ঈদ করবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।
খুলনা-৬ (পাইকগাছা-কয়রা) আসনে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচিত সংসদ সদস্য মো. আবুল কালাম আজাদ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ঈদের ছুটি শুরুর পর থেকেই আমি আমার নির্বাচনী এলাকায় রয়েছি। এখানকার পিছিয়ে পড়া জনগণ যাতে সুন্দরভাবে ও স্বাচ্ছন্দ্যে ঈদ উদযাপন করতে পারে সেজন্য প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের অর্থ ও ঈদ উপহার বিতরণ কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছি। ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে বেশ আগে থেকেই কর্মসূচি নেয়া হয়েছিল, সেগুলোই বাস্তবায়ন করছি।’










