চোখ জুড়ানো প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি বান্দরবান। এ পার্বত্য জেলায় পাহাড়ের আনাচে-কানাচে লুকিয়ে রয়েছে ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অনেক আকর্ষণ। ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের বরণ করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে বান্দরবান। তবে ব্যবসায়ীদের একটি অংশ বলছেন, এবার হোটেল-রিসোর্টে বুকিং প্রত্যাশার তুলনায় কম।

ঈদুল আজহা উপলক্ষে ২৮ ও ২৯ মে দুদিন প্রান্তিক লেক, মেঘলা, নীলাচল ও চিম্বুক পর্যটন কেন্দ্রে বিনামূল্যে প্রবেশের সুযোগ দিচ্ছে জেলা প্রশাসন। এ সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক বলে অভিহিত করেছেন বান্দরবানের পর্যটন সংশ্লিষ্টরা।

এবারের ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের আগমনের পূর্বাভাস আশানুরূপ নয় বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এখানকার হোটেল-রিসোর্টে বুকিংয়ের পরিমাণ ৫০ শতাংশ, যা প্রত্যাশার তুলনায় কম। বৈরি আবহাওয়া, অর্থনেতিক মন্দার মতো বিষয়কে এর মুখ্য কারণ হিসেবে বিবেচনা করছেন ব্যবসায়ীরা।

চিম্বুক পাহাড়ে গড়ে ওঠা সাইরু রিসোর্টের মালিকপক্ষের একজন রেনিক্ষ্যং মৌজার হেডম্যান রাংলাই ম্রো। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, কোরবানির ছুটিতে ২৮ মে পর্যন্ত রিসোর্টে উল্লেখযোগ্য বুকিং নাই। তবে ২৯ মে থেকে ৫ জুন পর্যন্ত শতভাগ বুকিং রয়েছে।

এদিকে গত বছরের তুলনায় এবারের ঈদের ছুটিতে ৫০ শতাংশেরও কম বুকিং হয়েছে বলে জানিয়েছেন মেঘলার হলিডে ইন রিসোর্টের স্বত্বাধিকারী মো. জাকির। তিনি বলেন, গত বছরের ঈদের ছুটিতে বুকিং ছিল শতভাগ। এর পরও অনেক পর্যটককে না করতে হয়েছে। অবশ্য ২৯-৩১ মে পর্যন্ত শতভাগ বুকিং রয়েছে বলে জানান তিনি।

সার্বিক বিষয়ে বান্দরবান জেলা হোটেল রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. জসিম উদ্দিন বণিক বার্তাকে বলেন, এবারের কোরবানির ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের বরণ করতে হোটেল রিসোর্টগুলো ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। কিন্তু সে অনুযায়ী বুকিং বা আগমনী বার্তা আশনুরূপ নয়।

তিনি বলেন, এবার সব হোটেল-রিসোর্টে কম-বেশি ৫০ শতাংশ বুকিং রয়েছে। এছাড়া হোটেল-রিসোর্ট ভেদে গড়ে ১০-২০ শতাংশ ছাড় রাখা হয়েছে।

বান্দরবানে হোটেল-রিসোর্টে ব্যয় ও গাড়ি ভাড়া বেশি রাখাকে কেন্দ্র করে পর্যটকদের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে হোটেল-রিসোর্টে নয়, গাড়ি ভাড়া বেশি রাখার বিষয়ে পর্যটকদের অভিযোগ রয়েছে বলে জানান জসিম উদ্দিন। তিনি বলেন, গাড়ি চালকরা তাদের সমিতির সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করে বেশি ভাড়া নেয়ায় এ সমস্যা দেখা দিয়েছে।

হোটেল-রিসোর্ট ও গাড়ি ভাড়া সহনীয় রাখা হবে বলে সংশ্লিষ্ট অ্যাসোসিয়েশন-সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এমনটা বলছেন বান্দরবানের জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ইউএনওরাও একই বিষয় জানিয়েছেন। শুরুতে ব্যবসায়ীদের সিদ্ধান্তের ওপর আস্থা রাখতে চাচ্ছি। আইন প্রয়োগ করতে চাচ্ছি না। যদি এর ব্যত্যয় হয়, তবে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।