তৃতীয়বারের মতো রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) মেয়র নির্বাচিত হলেন এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। ১ লাখ ৫৯ হাজার ৭৯৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে মেয়র নির্বাচিত হন তিনি। বুধবার (২১ জুন) রাতে জেলা শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে এই ফল ঘোষণা করা হয়।

এর আগে ২০০৮ সালে প্রথমবার এবং ২০১৮ সালে দ্বিতীয়বার মেয়র নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের এই সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য। রাজশাহীতে ব্যাপক কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এবার মেয়র প্রার্থী হয়েছিলেন লিটন।

নির্বাচনে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হাতপাখা প্রতীকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীর রশিদ আলম ফারুকী পেয়েছেন ১৩ হাজার ৩৯৩ ভোট। যদিও গত ১২ জুন বরিশাল সিটি নির্বাচনের মেয়র প্রার্থীর ওপর হামলা প্রেক্ষিতে রাসিক নির্বাচন বর্জন করেন হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী। তবে ইভিএমে রয়ে যায় হাতপাখা প্রতীক।

এছাড়া লাঙল প্রতীকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী সাইফুল ইসলাম স্বপন ৯ হাজার ৪৫৭ ভোট এবং গোলাপ ফুল প্রতীকে জাকের পার্টির প্রার্থী লতিফ আনোয়ার ৯ হাজার ২৫৫ ভোট পেয়েছেন। ইভিএমে ভোট সুষ্ঠু না হবার অভিযোগ এনে সরে যেতে চেয়েছিলেন লাঙল প্রতীকের প্রার্থীও। কিন্তু দলীয় চাপে শেষ পর্যন্ত রয়ে যেতে হয় তাকে। ভোট কেন্দ্রে কোন এজেন্ট  দেননি জাকের পার্টির প্রার্থী। প্রায় ৫২ শতাংশ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।

বুধবার (২১ জুন) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত নগরীর ১৫৫টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলে। প্রথমবারের মতো পুরো সিটিতে ভোট হয়েছে ইভিএম এ। ভোটগ্রহণ চলাকালে বুধবার দুপুর ১২টার দিকে নগরীর ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কেশবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রের বাইরে টিফিন ক্যারিয়ার প্রতীকের প্রার্থী রুহুল আমিন টুনু এবং র‍্যাকেট প্রতীকের প্রার্থী আশরাফুল ইসলাম বাবুর সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় দুপক্ষের কয়েকজন আহত হন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দেন।

এছাড়া অযাচিতভাবে গোপন কক্ষে প্রবেশের দায়ে  সাবিয়া বেগম নামের এক নারীর তিন দিনের কারাদণ্ড হয়েছে। দুপুরের দিকে নগরীর ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের তালাইমারী দারুল উলুম আলিম মাদরাসা (নিচতলা) কেন্দ্রে এই ঘটনা ঘটে।

ওই নারী একাধিকবার মহিলা ভোটারদের নিয়ে গোপন কক্ষে প্রবেশ করেন। যা ভোট কেন্দ্রে বসানো সিসি ক্যামেরায় নির্বাচন কমিশনারদের নজরে আসে। তাৎক্ষণিক বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনাররা কথা বলেন প্রিজাইডিং কর্মকর্তার সঙ্গে। এরপর ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে ওই নারীকে সাজা দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। এর বাইরে ভোটগ্রহণ চলাকালে কোনো অনিয়মের  খবর পাওয়া যায়নি।