বগুড়ার শিবগঞ্জে গ্রাহকের প্রায় ৫০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে লাপাত্তা জাহাঙ্গীর আলম নামে এক ব্যক্তি। তিনি দেশবন্ধু সোলার অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ও সূর্যের আলো সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি লিমিটেডের পরিচালক। গ্রাহকের অভিযোগ, দ্বিগুণ লাভের কথা বলে ডিপোজিট গ্রহণ করার পর এক সপ্তাহ ধরে লাপাত্তা তিনি।
গ্রাহকের অভিযোগ, জাহাঙ্গীর আলম সম্প্রতি দেশবন্ধু ও সূর্যের আলো সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি লিমিটেড নামে একটি সমিতি শুরু করেন। সমিতির পুরো নাম দেন দেশবন্ধু সোলার অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ও সূর্যের আলো সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি লিমিটেড। তিনি শিবগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নারী মাঠকর্মীদের দিয়ে নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে চুক্তিনামা করে প্রতি মাসে ডিপোজিটের মাধ্যমে লাখে ২ হাজার টাকা লাভের প্রলোভন দিয়ে প্রায় ৫০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
প্রতিষ্ঠানের মাঠকর্মী মোছা. ফেন্সি ও রাজিয়া বলেন, ‘এক সপ্তাহ হলো সমিতির পরিচালক জাহাঙ্গীর লাপাত্তা হয়ে যান। তিনি আমাদের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছেন। গ্রাহক তাদের ডিপোজিটের লাভের টাকা না পেয়ে চাপ দিচ্ছেন। সাধারণ গ্রাহক আমাদের শাখা অফিস ও প্রতিষ্ঠানটির সব শাখায় তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন। সব টাকা পরিচালক জাহাঙ্গীরের কাছে। চাকরি করতে এসে এখন অনেক বড় ঝামেলায় ফেঁসে গেছেন বেশ কয়েকজন কর্মী।’
ভুক্তভোগী রোকসোনা বেগম জানান, ৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা ডিপোজিট রেখেছেন তিনি। কথা ছিল পাঁচ বছর পর দ্বিগুণ দেবে। সেই সঙ্গে নারীদের স্বাবলম্বী করতে চাকরির ব্যবস্থা করে দেবেন। কিন্তু টাকাগুলো জমা দেয়ার পর থেকে জাহাঙ্গীর ধীরে ধীরে সব নিয়ে পালিয়ে গেছেন।
এ বিষয়ে শিবগঞ্জ উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা রাজিয়া সুলতানা বলেন, ‘সমবায় সমিতি আইনে ফিক্সড ডিপোজিট রাখার কোনো নিয়ম নেই। সমিতির সদস্যদের বাইরে কোনো কার্যক্রম পরিচালনাও করা যাবে না। সমিতি রেজিস্ট্রেশনের সময় যে সদস্য দেখিয়েছে তারা অভিযোগ করলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে। কিন্তু যারা সদস্য নয়, তাদের দায় আমাদের না।’









