নতুন করে ব্যয় বাড়ছে যশোর শহরে স্মার্ট প্রি-পেমেন্ট মিটারের আওতায় থাকা গ্রাহকদের। এরই মধ্যে কিলোওয়াট বাড়ানোর জন্য এসব গ্রাহককে চিঠি দিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। এজন্য প্রত্যেক গ্রাহককে ৪০৩ টাকা ফি দিয়ে আবেদন করতে হবে। এর বাইরে প্রতি কিলোওয়াটের জন্য আবাসিক গ্রাহকদের মাসে গুনতে হবে ৩৫ টাকা করে। বাণিজ্যিক গ্রাহকদের দিতে হবে ৭৫ টাকা।
গ্রাহকদের অভিযোগ, স্মার্ট প্রি-পেমেন্ট মিটারে এমনিতে বেশি বিল কাটে। একজন গ্রাহক ইউনিটপ্রতি বিল দিচ্ছেন। আবার সরকারি ফি দিয়ে আবেদনের পাশাপাশি প্রতি মাসে গ্রাহকদের ডিমান্ড চার্জ দিতে হবে, যা তাদের আর্থিকভাবে চাপে ফেলবে।
তবে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো) কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০২০ সালে স্মার্ট প্রি-পেমেন্ট মিটারের আওতায় আনা হয় ৪৬ হাজার ৫০৯ গ্রাহককে। শুরুতে যেসব গ্রাহকের লোড ক্যাপাসিটি চাহিদা ছিল এক কিলোওয়াট। এখন তাদের চাহিদা বেড়ে দাঁড়িয়েছে দুই কিলোওয়াট। আবার যাদের চাহিদা ছিল দুই কিলোওয়াট, এখন তা হয়েছে তিন কিলোওয়াট। এজন্য লোড নিতে না পেরে সংযোগ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। দিন দিন বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ছে। অথচ স্মার্ট প্রি-পেমেন্ট মিটারের গ্রাহকরা অনুমোদনহীনভাবে বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করছেন। ক্যাপাসিটি বাড়াতে হলে অনুমোদন নিতে হবে তাদের। লোড ক্যাপাসিটি বাড়ানোর জন্য গ্রাহকদের ৪০৩ টাকা ফি দিয়ে আবেদন করতে হবে। এর বাইরে প্রতি কিলোওয়াটের জন্য আবাসিক গ্রাহকদের মাসে গুনতে হবে ৩৫ টাকা করে। বাণিজ্যিক গ্রাহকদের দিতে হবে ৭৫ টাকা।
গ্রাহকদের জিম্মি করে টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ যশোর নাগরিক অধিকার আন্দোলনের সমন্বয়ক শেখ মাসুদুজ্জামান মিঠুর। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘গ্রাহকরা বিদ্যুতের যে ইউনিট ব্যবহার করছেন, তার জন্য টাকা পরিশোধ করছেন। তবে ইউনিটপ্রতি বেশি টাকা কেটে নেয়া হচ্ছে গ্রাহকদের অগোচরে। তাহলে আবারো কেন ফি দিয়ে আবেদন করতে হবে। আবার প্রতি মাসে গ্রাহকদের ডিমান্ড চার্জ হিসেবে কিলোওয়াটপ্রতি আবাসিকে ৩৫ টাকা দিতে হবে। গ্রাহকদের জিম্মি করে টাকা আদায় করা হচ্ছে। এটা সরকারি ব্যবস্থাপনায় চাঁদাবাজির শামিল।’
ওজোপাডিকো যশোরের বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১ ও ২-এর আওতায় ২০২০ সালে ৪৬ হাজার ৫০৯ জন গ্রাহকের পুরনো মিটার বদলে দেয়া হয় স্মার্ট মিটার। এতে সরকারের ব্যয় হয়েছিল প্রায় ৩ কোটি টাকা। এজন্য পুরনো গ্রাহকদের বাড়তি কোনো খরচ না লাগলেও মিটার ভাড়া বাবদ প্রতি মাসে ৪০ টাকা করে আদায় করছে ওজোপাডিকো। এবার ডিমান্ড চার্জের পাশাপাশি কিলোওয়াট বাড়াতে হচ্ছে গ্রাহকদের।
এ বিষয়ে ওজোপাডিকো-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী জিএম মাহমুদ প্রধান বলেন, ‘আমাদের অধীন ৫৮ হাজার গ্রাহক রয়েছেন। যার মধ্যে স্মার্ট প্রি-পেমেন্ট মিটার গ্রাহক আছেন ২৩ হাজার ৫০০ জন। প্রি-পেমেন্ট মিটারের সব গ্রাহকদের কিলোওয়াট বাড়ানোর জন্য চিঠি দিচ্ছি। যদি লোড ক্যাপাসিটি কম থাকে, পাশাপাশি কিলোওয়াট চাহিদা বেশি হলে মিটার স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাবে।’
ওজোপাডিকো যশোরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী অমূল্য কুমার সরকার বণিক বার্তাকে বলেন, ‘গ্রাহকরা অনুমোদনহীনভাবে বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করছেন। যে কারণে তাদের কিলোওয়াট বাড়াতে হচ্ছে। এটা সরকারি সিদ্ধান্ত। পর্যায়ক্রমে সব গ্রাহকদের কিলোওয়াট বাড়াতে হবে।’










